admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১৭ জুলাই, ২০২৩ ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ
মুক্ত কলম নিউজ ডেক্স: আমি শেষবারের মতো আমার আব্বুকে একটাবার ছুঁয়ে দেখতে চাই’ মায়ের কোলে বসে অঝোরে কেঁদে এভাবেই মৃত বাবার মরদেহটি ফিরে পাবার আকুতি জানাচ্ছিলো ৯ বছর বয়সী নুসরাত জাহান সাইকা। মা নাসিমা আক্তার (২৯) নিজেও স্বামী হারিয়ে বাকরুদ্ধ। নিজের অসহায়ত্বের কথা বলে কান্নায় ভেঙে পরছেন বারবার। পাশে বসা অন্য স্বজনদের আহাজারিতে ভারি উঠেছে পরিবেশ।
গত শুক্রবার (১৪ জুলাই) সৌদি আরবের দাম্মাম শহরের হুফুফ ইন্ড্রাসট্রিয়াল সিটিতে একটি সোফা কারখানায় স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় একটি সোফা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত হন শিশু সাইকার বাবা সাভারের বলিয়ারপুরের সাতানিপাড়ার মো.সাইফুল ইসলাম (৪১)।
google news
Follow us on google news
৪ ভাই ও ৩ বোনের মধ্যে সবার বড় ছিলেন সাইফুল। প্রায় ৯ বছর আগে নিজের ভাগ্য বদলাতে পাড়ি জমান সৌদি আরবে সেখানে একটি প্রতিষ্ঠানে ৪ বছর ড্রাইভার হিসেবে চাকরি করে দেশে ফিরে আসেন। পরে দেশেই ৩ বছর পিকআপ চালিয়ে জিবিকা চালান। কিন্তু একমাত্র মেয়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবে ৭ লাখ টাকা ঋণ করে গত ১৩ মাস আগে আবারও পারি জমান সৌদি আরব। সেখানেই একটি সোফা কারখানায় ট্রাক চালক হিসেবে নতুন চাকরি শুরু করেছিলেন তিনি। আর সেই প্রতিষ্ঠানের ঘুমন্ত অবস্থায় অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু হয় তার।
রোববার (১৬ জুলাই) বিকেলে সাইফুলের সাভারের বলিয়াপুরের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ১০/১২ ফিটের একটি ছোট্ট কক্ষেই সাইফুলের পুরো সংসার ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া এইটুকুই তার সম্পদ এর বাইরে আর কিছুই রেখে যেতে পারেননি তিনি। সেখানেই কথা হয় সাইফুলের স্ত্রী, সন্তান ও বৃদ্ধা মায়ের সাথে।কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পরেন নাসিমা আক্তার।
তিনি জানান, শুক্রবার (১৪ জুলাই) দুপুরে জুমার নামাজের পর শেষবারের মতো মোবাইলে স্বামীর সঙ্গে কথা হয়েছিলো তার। সংসারের টুকটাক কথা ও মেয়ের খোঁজ খবর নেয়ার পর বলেছিলো মাত্রই দুপুরের খাবার খেলাম শরীরটা একটু খারাপ লাগতেছে একটু ঘুমাই, ঘুম থেকে আবার কথা বলবো। এরপর বিকেলে নাসিমা নিজেই সাইফুলকে কল দিয়েছিলেন কিন্তু রিসিভ করেনি। পরে ভয়েজ মেসেজ পাঠালেও কোন উত্তর পায়নি। এরপর রাত ২ টার দিকে একজন কল দিয়ে আমার স্বামীর মৃত্যুর কথা জানায়।
নাসিমা আক্তার জানান :আদরের একমাত্র মেয়েকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিলো সাইফুলের। মেয়েকে ভীষণ আদর করতো একমাত্র মেয়ে সাইকার জন্য পাগল ছিলো সাইফুল। কিন্তু এখন তো আর আমার মেয়ের কেউ রইলো না। আমাদেরকে এখন কে দেখবে। এই লাখ লাখ টাকার ঋণ কিভাবে শোধ করবো? গত দুইমাস বেতন পাওয়ায় দেশে কোন টাকাও পাঠায় নাই। আমরা এখন কি নিয়ে বাঁচবো। আমাদের তো সব শেষ হয়ে গেলো।
এদিকে বাকরুদ্ধ সাইফুলের মা বৃদ্ধা নবীজা বেগম (৬৫) ছলছলে ছোখে দ্রুত নিহত সন্তানের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়ে বলেন, আমি আর কিচ্ছু চাই না। আমার সন্তানটারে খালি আমার কাছে আইনা দাও৷ আমি মরার আগে আমার পোলাটার মুখটা একটাবার দেখতে চাই।
সাইফুলের ছোট ভাই ইমরান হোসেন বলেন, আমরা ছোট দুইভাই একজন গাড়ি চালাই অন্যজন গ্যারেজে কাজ করি। আমাদের পরিবারটা আর্থিকভাবে একদম অস্বচ্ছল৷ এখন আমার ভাবী আর ভাতিজির ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তিত হয়ে পরলাম। আমাদের অনুরোধ সরকার ও সৌদি কোম্পানী যেন আমার ভাইয়ের পরিবারের পাশে একটু দাঁড়ায়। তারা যদি ওদের পাশে না দাঁড়ালে আমরা সবাই বিপদে পরে যাবো।