admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২৪ ডিসেম্বর, ২০২১ ২:৪৯ অপরাহ্ণ
ভারতের হরিদ্বারে কয়েকদিন আগে আয়োজন করা হয়েছিল ধর্ম সংসদ। রুদ্ধদ্বার সেই বৈঠকের কিছু ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। সেখানে মুসলমানদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের দৃষ্টান্ত অনুসরণের কথা যেমন বলা হয়েছে, তেমনি বড়দিনের অনুষ্ঠানও ঠেকানোর ঘোষণা দেওয়া হয়। আবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে গুণে গুণে ছয়টি গুলি করার আকাঙ্ক্ষার কথাও শোনা গেছে। হিন্দুস্তান টাইমস।
গত ১৭ থেকে ১৯ ডিসেম্বরে হরিদ্বারে অনুষ্ঠিত হয় এই রুদ্ধদ্বার ধর্মীয় সংসদ। বিতর্কিত ধর্মগুরু যতি নরসিংহনন্দের আয়োজনে সেখানে উপস্থিত ছিলেন হিন্দু রক্ষা সেনার প্রবোধানন্দ গিরি, বিজেপির মহিলা মোর্চার নেত্রী উদিতা ত্যাগী, বিজেপি নেতা অশ্বিনী উপাধ্যায়সহ এই সংসদের বেশ কয়েকজন প্রতিনিধি।ভিডিও ক্লিপে প্রবোধানন্দ গিরিকে বলতে দেখা যায়, মিয়ানমারের মতো আমাদের পুলিশ, সেনা, রাজনীতিবিদ এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের সমস্ত মানুষকে হাতে অস্ত্র তুলে নিতে হবে। এবার ‘সাফাই অভিযান’ চালাতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।
পূজা শাকুন পান্ডে নামের এক বক্তা বলেন, যদি ওদের সমূলে ধ্বংস করতে চান, তাহলে ওদের হত্যা করুন। আমরা এমন ১০০ জন যোদ্ধাকে চাই, যারা ওদের ২০ লাখ লোককে হত্যা করবে। বড়দিন নিয়ে হুমকি দিয়ে এক বক্তা বলেন, উত্তরাখণ্ডের যে হোটেলে বড়দিন পালিত হবে, সেখানে ভাঙচুর করা হবে। এই নিয়ে হরিদ্বার প্রশাসনের প্রতিও কড়া বার্তা দিতে দেখা যায় ওই বক্তাকে। আরেকটি ক্লিপে স্বামী ধরমদাস মহারাজ নামের এক ব্যক্তি বলেন, সুযোগ পেলে তিনি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে হত্যা করতেন, ‘যেদিন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং বলেছিলেন, জাতীয় সম্পদের ওপর সংখ্যালঘুদের প্রথম অধিকার, সেদিন যদি আমি সংসদে উপস্থিত থাকতাম, তাহলে নাথুরাম গডসেকে অনুসরণ করতাম। তার বুকে ছয়বার গুলি করতাম।
দিল্লি বিজেপির প্রাক্তন মুখপাত্র অশ্বিনী উপাধ্যায় এ ব্যাপারে বলেন, তিনদিনের অনুষ্ঠানে আমি মাত্র একদিন ছিলাম। ৩০ মিনিট মঞ্চে ছিলাম। শুধুই দেশের সংবিধান নিয়ে বলেছি। আমার আগে এবং পরে কে কী বলেছেন, তার জন্য আমি দায়ী নই।
যতি নরসিংহনন্দ জানিয়েছেন, তিনদিনের সংসদের মূল আলোচ্য ছিল ২০২৯-এ দেশে মুসলিম প্রধানমন্ত্রী ঠেকানো। এটা কোনো ভিত্তিহীন ভাবনা নয়। আশপাশের পরিবেশ দেখলেই বুঝবেন, কীভাবে হিন্দু কমছে আর মুসলিম জনসংখ্যা বাড়ছে। আগামী ৭-৮ বছরের মধ্যে রাস্তায় শুধু মুসলিমদেরকেই দেখা যাবে।
এখানেই শেষ নয়। মুসলিমদের ইতিহাস দেখুন, আগামি ২০ বছরের মধ্যে ৫০ শতাংশ হিন্দু ধর্মান্তরিত হবেন, ৪০ শতাংশ হিন্দু নিধন হবে আর পড়ে থাকবে ১০ শতাংশ হিন্দু। এই হিন্দুরা আমেরিকা, কানাডা কিংবা দেশের কোনো উদ্বাস্তু শিবিরে স্থান পাবে। দেশে কোনো মঠ-মন্দির থাকবে না। আমাদের মা-বোনদের ধর্ষণ করা হবে কিংবা বাজারে বিক্রি করে দেওয়া হবে।’
এদিকে, উত্তরাখণ্ডের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী হরিশ রাওয়াত এই ঘটনার কড়া নিন্দা জানিয়ে বিষয়টি ‘নিন্দনীয় ও আপত্তিকর’ বলে মন্তব্য করেন।
ইতোমধ্যে এই ঘটনা ঘিরে হরিদ্বার পুলিশ স্টেশনে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মানুষের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক মন্তব্য উঠে এসেছে ভিডিওতে। তা নিয়ে অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামছে পুলিশ।
বিজেপির ঘনিষ্ঠ ধর্ম সংসদের বক্তারা জানিয়েছেন, মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার কথা তারা ভেবেচিন্তেই বলেছেন। ধর্ম সংসদের রুদ্ধদ্বার সমাবেশের বক্তব্যের ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একাধিক ভিডিও ক্লিপ ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। বিতর্কিত ধর্মীয় সংসদের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন তৃণমূল নেতা সাকেত গোখলে।