admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১৪ ডিসেম্বর, ২০২১ ৮:১৩ অপরাহ্ণ
মার্কিন সেনা ঘাঁটিতে রকেট হামলা। পূর্ব সিরিয়ার স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, সোমবার বিকেলে সেখানকার একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে চারটি রকেট হামলা চালানো হয়েছে। সামরিক ঘাঁটিতে রকেট হামলা ছাড়াও পূর্বাঞ্চলীয় দেইর ইজ-জোর প্রদেশের ওমর তেলক্ষেত্রে অবস্থিত ঘাঁটিতে চারটি বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। তবে হামলার বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে আমেরিকান হস্তক্ষেপ নতুন কিছু নয়।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে সিরিয়ার বিদ্রোহীদের এবং সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ)-এর প্রতি সমর্থন দিয়ে আসছে আমেরিকান নেতৃত্বাধীন মিলিটারি বাহিনী। ২০১৪ সাল থেকে ইসলামিক স্টেট (আইএস) এবং আল-নুসরা ফ্রন্টের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জর্ডান, তুরস্ক, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। ২০১৭-১৮ সাল থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং এর অংশীদাররা সিরিয়ার সরকার এবং তার মিত্রদের ওপর বিমান হামলা ও সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখে।
২০১১ সালে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রাথমিকভাবে ফ্রি সিরিয়ান আর্মির বিদ্রোহীদের সহায়তা করেছিল। তারা খাদ্য, রেশন ও পিকআপ, ট্রাক ইত্যাদি সরবরাহ করত। কিন্তু দ্রুত সিরিয়ার নির্বাচিত বিদ্রোহী কমান্ডারদের প্রশিক্ষণ, অর্থ এবং বুদ্ধিমত্তা প্রদান শুরু করে তারা। কমপক্ষে দুটি মার্কিন কর্মসূচি সিরিয়ার বিদ্রোহীদের সহায়তা করার চেষ্টা করে আসছে। যার মধ্যে ২০১৪ পেন্টাগন কর্মসূচি একটি। এ কর্মসূচির আওতায় ১৫ হাজার বিদ্রোহীকে আইএসের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য প্রশিক্ষণ ও সজ্জিত করার পরিকল্পনা করে যুক্তরাষ্ট্র।
কর্মসূচিতে ৫০০ মিলিয়ন ডলার খরচ করার পরে মাত্র কয়েক ডজন যোদ্ধা তৈরি হয়। এরপর ২০১৫ সালে কর্মসূচিটি বাতিল করা হয়। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের লক্ষ্যে সিআইএ পরিচালিত টিম্বার সাইকামোর নামক একটি যুগপৎ কর্মসূচিতে এক বিলিয়ন ডলার ঢালে দেশটি।
কিন্তু রুশ বোমা হামলার ফলে পরিকল্পনাটি ধ্বংস হয়ে যায়। ফলে ট্রাম্প প্রশাসন কর্তৃক ২০১৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে তা বাতিল করে। মূলত নানামুখি কূটনৈতিক হিসাব নিকাশে সিরিয়া এখন আন্তর্জাতিক যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। ইরান, রাশিয়া, তুরস্কও সিরিয়ায় যুদ্ধরত রয়েছে।