হোম
নির্বাচিত কলাম

মানব পাচার এবং আধুনিক দাসত্ব

admin || মুক্ত কলম সংবাদ

প্রকাশিত: ১১ জানুয়ারি, ২০২৫ ১১:১৬ পূর্বাহ্ণ

ফাইল ছবি

সম্পাদকীয়ঃ আমরা আধুনিক ক্রীতদাস শব্দটি যদি মুছে দিতে হলে প্রথমে মানবপাচার বন্ধ করতে হবে। দাস প্রথা বহু আগে শেষ হলেও তা এখন ভিন্ন এক সংস্কারে রয়ে গেছে সমাজে। চোখের সামনে, লাল নীল মোহ-মায়ায় আমরা বরণ করে নিচ্ছি খুব সাদরে, মানবপাচার কেবল একটি গুরুতর অপরাধ নয় এটি মানবতার বিরুদ্ধে এক ভয়ানক অভিশাপ। শুধু ব্যক্তি বা পরিবার নয়, গোটা সমাজকেও বিপর্যস্ত করে। ব্যক্তি উন্নতির ঝলমলে আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে এমন এক অন্ধকার বাস্তবতা, যা প্রতিনিয়ত হাজারো মানুষের জীবনকে তছনছ করে দিচ্ছে। আমি বলবো এক অর্থে এটা আধুনিক দাসত্ব, যেখানে মানুষকে পণ্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এই নির্মম বাস্তবতা আজ শুধু দেশ নয়, আন্তর্জাতিক সীমানা অতিক্রম করে এক বৈশ্বিক সংকটে রূপ নিয়েছে।

তথ্যগুলো নিবিড়ভাবে দেখলে বোঝা যায় কতটা ভয়ংকর পরিণতি। বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর ১০ হাজারের বেশি নারী ও শিশু পাচার হয়। বেশিরভাগই ভারত, পাকিস্তান এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যৌন শোষণের জন্য পাচার করা হয়। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে অন্তত ২ হাজার ৪০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এটি শুধু একটি উদাহরণ, যা মানবপাচারের ভয়াবহ পরিণতি তুলে ধরে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ২৫ মিলিয়ন মানুষ বাধ্যতা মূলক শ্রম বা যৌন শোষণের শিকার। পাচারের শিকার অন্তত ২০ শতাংশ মানুষ পাচারের প্রক্রিয়াতেই মৃত্যুবরণ করে। এর পেছনের কারণগুলো হলো অমানবিক পরিবহন ব্যবস্থা এবং শারীরিক অত্যাচার। ইউরোপ আমেরিকাসহ অনেক দেশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা থেকে তুলে আনা কিছু বাস্তব চিত্র এই লেখায় তুলে ধরবো, বলবো এর কারণ, প্রতিরোধ এবং সচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়ে এবং এনজিওগুলো কীভাবে কাজ করতে পারে আমি দেখেছি জেনেছি এবং শুনেছি কীভাবে পাচারের শিকার ব্যক্তিরা উন্নত দেশের স্বপ্নে বিভ্রান্ত হয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতিতে পড়ে। মানবপাচার ও আধুনিক ক্রীতদাস এই প্রক্রিয়া অত্যন্ত সুসংগঠিত। এদের ছক আঁকানো থাকে, যুক্ত থাকে বহুলোক। পাচারকারী সংঘরা সাধারণত অল্প শিক্ষিত লোকজনকে লক্ষ্য করে এবং লোভ এবং আধুনিক জীবন-যাপনের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেয়। এরা এটা খুব ভালোভাবেই আয়ত্ত করে নেয়। উদাহরণ হিসেবে পরিচিত দুই একজনের জীবন কাহিনির বয়ান দেয়। তাদের মতে, ভালো চাকরি, উন্নত জীবনযাত্রা বা শিক্ষার সুযোগ পাবে। পরে এসব মানুষকে অবৈধপথে বিদেশে পাঠায়, যেখানে তাদের নানাবিধ অমানবিক শোষণ শুরু হয়। উন্নত দেশগুলোতেও পাচারের ঘটনা ঘটে, তবে এটি এত সূক্ষ্মভাবে পরিচালিত হয় যে ভুক্তভোগীরা অনেক সময় তাদের পরিস্থিতি বুঝতেই পারে না। তারা জানতেই পারে না তারা স্বাধীন না পরাধীন।

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণ: একজন পর্যটক হিসেবে বিভিন্ন দেশ ভ্রমণের সময় দেখেছি, কীভাবে মানুষ পাচারের শিকার হয় এবং এই অভিজ্ঞতা আমাকে খুব হতাশ করেছে এক ভয়াবহ অবস্থা ইউরোপের একটি দেশে এক বাংলাদেশি যুবকের সঙ্গে আমার কথা হয়, যে উন্নত জীবনের আশায় নিজের সর্বস্ব বিক্রি করে কিছু লোন নিয়ে সেখানে গিয়েছে। কিন্তু পাচারকারীদের প্রতারণার কারণে সে একসময় বাধ্যতামূলক শ্রমের শিকার হয়। দেশ থেকে আসার যেই সময়ের ৫-৭ লাখ টাকা শোধ করতে বহু সময় লেগেছে হেনস্তা হতে হয়েছে তার দেশে থাকা পরিবারকে। মানবপাচারের মূল কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো বিদেশ যাওয়ার উচ্চ খরচ এবং বিদেশে গিয়ে প্রতিশ্রুত কাজ না পাওয়া। এর কারণ বিবেচনা করলে বোঝা যায় বাংলাদেশ বা আশপাশে থেকে যারা যায় তারা বেসিক কোনো কাজ পারে না। ভুয়া কাগজপত্র, অবৈধ নিয়োগ পদ্ধতি এবং অনিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থাও এই সমস্যাকে জটিল করে তোলে। মানবপাচারের প্রধান কারণগুলো হলো দারিদ্র্য ও অসচেতনতা জনগোষ্ঠী শিক্ষার অভাব। অবৈধ ওয়ার্কপারমিট। মানবপাচার প্রতিরোধে আইন থাকলেও এর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত হয় না। সবচেয়ে বড় সমস্যা আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের অভাব। মানবপাচার ও আধুনিক ক্রীতদাস প্রথা সমাধানে বিদেশ যাওয়ার খরচ কমাতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর নজরদারি বাড়াতে উচিত এবং বৈধ প্রক্রিয়ায় কর্মী পাঠাতে নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। যেসব কোম্পানি কর্মী নিয়োগ দেয়, তাদের কার্যক্রম কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা উচিত। একইসঙ্গে বিদেশে কর্মীদের অধিকার রক্ষায় দূতাবাসের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন সচেতনতা বৃদ্ধি মানুষকে পাচারের কৌশল, ঝুঁকি এবং পরিণতি সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। তরুণ প্রজন্মকে মোটিভেট করে তুলতে হবে। তাদের ভেতর আত্মবিশ্বাস বাড়াতে হবে এবং দেশে কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে। আমাদের লক্ষ্য হলো সচেতনতা বৃদ্ধি, শিক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনা এবং শিকারদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা।

এখানে আমরা পাচারের কৌশল, ঝুঁকি এবং এর ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে মানুষকে জানাবো। এর পরের ধাপে পাচারের শিকারদের আইনি সহায়তা দেওয়া এবং মানসিক পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। তৃতীয়ত, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রণয়ন এবং কার্যকর করা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা। শুধু আইনি বা সামাজিক সমস্যা নয় এটি মানবতার জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ। সবাই মিলে একসাথে কাজ করলে, এই সংকট সমাধান এবং মানবতার এই করুণ ভয়াবহ লজ্জাজনক অধ্যায় থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব বলে আমার বিশ্বাস। আমি এও মনে করি দেশে ২৪ লাখ ভারতীয়রা কাজ করে তাঁদের নিজ দেশে ফেরত দিয়ে ঐ স্থানে দেশের শিক্ষিত অর্ধশিক্ষিত ছেলে ও মেয়েদের কর্ম সংস্থান করতে পারলে দেশের টাকা দেশেই থাকবে মাঝে আমাদের যুব সমাজের উন্নয়ন করা সহজ হবে এছাড়াও জেলা উপজেলা, গ্রামগঞ্জে ছোট ছোট কারখানা করে তাঁদের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করা যেতে পারে।

এই রকম আরও টপিক

Sun Mon Tue Wed Thu Fri Sat
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031  

সর্বশেষ খবর

দিনাজপুরে নবাগত পুলিশ সুপারের সাথে মতবিনিময় সভা।
আইন-বিচার 7 hours আগে

সুনামগঞ্জে খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করে দোয়া।
রাজনীতি 9 hours আগে

ঠাকুরগাঁও রাণীশংকৈলে ইউনিয়ন সমাজকর্মী সড়ক দূর্ঘটনার নিহত।
দুর্ঘটনা 13 hours আগে

ঝিনাইদহে জোরপূর্বক জমি দখল ও সীমানা প্রাচীল ভাঙ্গার অভিযোগ।
অপরাধ 1 day আগে

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে মুদির দোকানে মালামাল আগুন পুড়ে ছাই।
দুর্ঘটনা 1 day আগে

সিঙ্গাপুরের উডল্যান্ডে চার ঘণ্টার অভিযানে ১১ জন বাংলাদেশি, ১জন মিয়ানমারের
আন্তর্জাতিক 1 day আগে

পঞ্চগড়ে মুক্ত দিবস উপলক্ষে শোভাযাত্রা ও বর্ণাঢ্য র‍্যালি আলোচনা সভা।
সারা বাংলা 1 day আগে

ইন্দোনেশিয়ার বামন রাজ্য ফ্লোরেসঃগুরুত্বপূর্ণ তর্থ্য
আন্তর্জাতিক 2 days আগে

কম বয়সে চুল পাকার কারণ কী,এটা কি ঠেকানো সম্ভব?
স্বাস্থ্য 2 days আগে

ধানমন্ডি এলাকায় বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান পরিচালিত।
স্বাস্থ্য 2 days আগে

পাঠকপ্রিয়

শিরোনাম :

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে প্রাণিসম্পদ সপ্তাহের প্রদর্শনী ও সমাপনী অনুষ্ঠিত। পার্বতীপুরে জাতীয় প্রাণি সম্পদ ও ডেইরি প্রকল্পের উদ্বোধন। রাণীশংকৈলে জাতীয় প্রাণীসম্পদ সপ্তাহ ও প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত পলাতক শেখ হাসিনার অগ্রণী ব্যাংকের লকার ভেঙে ৮৩২ ভরি স্বর্ণ জব্দ রাজশাহীতে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১০ জন ৩ ডিসেম্বর রংপুরে বিভাগীয় মহাসমাবেশ সফল করতে দিনাজপুরে ৮ ইসলামী দলের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত। দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতে সব বাহিনী প্রস্তুত: সিইসি পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৬ হাজার কৃষক পাচ্ছে বিনামূল্যে গম বীজ ও সার। মাত্র চার মাসের শিশু সুমাইয়া বাঁচতে চায়! পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় হেফাজতে ইসলামের নতুন কমিটি গঠন। ভূমিকম্পে সম্ভাব্য ক্ষতি কমাতে এখনই শক্তিশালী ও সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে: সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান রাজধানীতে  আজ থেকে ঘরে বসেই মেট্রোরেলের কার্ড রিচার্জ করবেন? নীলফামারীতে পাটবীজ উৎপাদনকারী চাষীদের প্রশিক্ষণ। আর কোনো পরিস্থিতি নেই যে নির্বাচন ব্যাহত হবে-ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল  ৫-বছরেও শেষ হয়নি ওয়াশব্লকের নির্মাণ কাজ-জনস্বাস্থ্য অফিস বলছেন বাদ দেন চা খাওয়ার জন্য কিছু নেন। পার্বতীপুরে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকারের দাবীতে কর্মী সভা। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় নদী বাঁচাও আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নাগরিক সমাবেশ। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া ইউএনও এক গৃহহীন ভারসাম্যহীন নারীর পাশে দাঁড়ালো। ৮ দফা দাবিতে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর নার্সিং এসোসিয়েশন দিনাজপুর জেলা শাখার স্মারকলিপি ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে ইউনিয়ন সিএসওর লাইভস্টক সংলাপ সভা অনুষ্ঠিত বগুড়ায় প্রেম করে বিয়ে অতপর ভাড়া বাসায় স্ত্রীকে হত্যা করল স্বামী। দিনাজপুরে ৩ দিনব্যাপী উদ্যোক্তা মেলা ও পিঠা উৎসবের সমাপনী। দিনাজপুরের বিরলে শতাধিক নেতা-কর্মীর মামলা থেকে বাঁচতে ফ্যাসিস্ট আ,লীগ থেকে পদত্যাগ! অভিযোগ দিয়ে ও কাজ বন্ধ হচ্ছে না আদমদিঘীতে সরকারি জায়গা দখল করে করা হচ্ছে অবকাঠামো নির্মাণ! বগুড়ার কইপাড়ায় নববধূ শম্পা হত্যার অভিযোগ, যৌতুক দাবির জেরে স্বামী আটক দিনাজপুরে অনলাইনে মোবাইলের মাধ্যমে ক্যাসিনো জুয়া পরিচালনাকারী চক্রের ৫ সদস্য গ্রেফতার পুলিশের উপস্থিতিতে যাদুকাটা নদীতে চলে পাড় কাটার মহোৎসব এলাকাবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ বাড়ি-ঘর ভাংচুরসহ আহত-১৫ ঠাকুরগাঁওয়ে ইএসডিওর কর্মী সম্মেলন ও শ্রেষ্ঠ কর্মী সম্মাননা। দিনাজপুরের বিরলের ঢেড়া পাটিয়ায় ব্যবসায়ী খুনের আটক ২ পলাতক ১ নওগাঁ–২ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিশাল মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা।