হোম
তথ্য ও প্রযুক্তি

মইনুদ্দিন চিশতির দরগাহের ঐতিহ্য এবং সুফিবাদের পীঠস্থান খাজার ইতিহাস

admin || মুক্ত কলম সংবাদ

প্রকাশিত: ৯ ডিসেম্বর, ২০২৪ ১২:২২ অপরাহ্ণ

ফাইল ছবি

মুক্ত কলম নিউজ ডেক্সঃ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এই দরগাহ পরিদর্শন করতে আসেন। ইতিহাস, ঐতিহ্য, সুফিবাদ, এবং রহস্যময়তার পীঠস্থান হলো ভারতের রাজস্থানের খাজা মইনুদ্দিন চিশতির দরগাহ। ধর্ম, সম্প্রদায় এবং ভৌগলিক সীমানার চৌকাঠ পেরিয়ে বিশ্বের দরবারে এটি এমন এক স্থান অর্জন করেছে, যা পরিদর্শন করার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসেন। শুধুমাত্র ইসলাম ধর্মাবলম্বীই নন, হিন্দুরা দর্শনার্থীও আজমিরের এই দরগাহে উপস্থিত হন। এখানে নারীরাও প্রবেশ করতে পারেন। বহু হিন্দু নারীই এই দরগাহে আসেন মানত করতে।

এই মুহূর্তে খবরের শিরোনামে রয়েছে আজমিরের দরগাহ, তবে অন্য কারণে। শিব মন্দিরের উপরে এই দরগাহ বানানো হয়েছিল বলে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন হিন্দু সেনা নামে এক সংগঠনের সভাপতি ভিষ্ণু গুপ্তা। তার দাবির স্বপক্ষে অবসরপ্রাপ্ত বিচারক হরবিলাস সারদারের বইয়ের তথ্য-সহ তিনটে কারণ উল্লেখ করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন মি. গুপ্তা এবং সেখানে হিন্দুদের পুজো করার অনুমতির জন্যও আবেদন জানিয়েছেন। ভিষ্ণু গুপ্তার দাবি, মন্দিরের অস্তিত্বের ঐতিহাসিক প্রমাণ রয়েছে। অন্যদিকে, আজমির দরগাহের প্রধান উত্তরাধিকারী এবং খওয়াজা মইনুদ্দিন চিশতির বংশধর সৈয়দ নাসিরুদ্দিন চিশতি ওই দাবিকে ‘সস্তা প্রচার পাওয়ার জন্য স্টান্ট’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি উত্তর প্রদেশের সম্ভলস্থিত শাহী জামা মসজিদকে ঘিরেও একই দাবি তোলা হয়েছিল। নিম্ন আদালতের নির্দেশে সেখানে জরিপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যাকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে জরিপ চলছিল। জরিপের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ জানিয়ে হঠাৎ মসজিদ সংলগ্ন অঞ্চলে তিনদিক থেকে পাথর ও ইটবৃষ্টি শুরু হয়। বিক্ষোভকারীদের সংখ্যা বেড়ে যায় এবং তাদের সঙ্গে পুলিশের খণ্ডযুদ্ধ বাঁধে। এই ঘটনায় চারজন মুসলিম ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে। বিক্ষোভকারী, পুলিশ ও স্থানীয় কর্মকর্তা মিলিয়ে দু’পক্ষের একাধিক ব্যক্তি জখমও হয়েছেন। এই আবহে, আগামী ২০শে ডিসেম্বর আজমিরের খাজা মইনুদ্দিন চিশতির দরগাহ সংক্রান্ত মামলার শুনানি রয়েছে। অন্যদিকে, জানুরারি মাসের আট তারিখ খাজা মইনুদ্দিন চিশতির উরস। সেই উপলক্ষ্যে প্রতিবছর দুই সপ্তাহব্যাপী অনুষ্ঠানে শামিল হন কয়েক লক্ষ মানুষ। বেশ আগে থেকেই উৎসবের জন্য প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এই দরগাহকে ঘিরে যে দাবি ও পাল্টা দাবির ঝড় উঠেছে তাকে কেন্দ্র করে আজমিরের পরিস্থিতি অন্যবারের তুলনায় বেশ আলাদা।

গরীব নওয়াজঃ আজমিরের খাজা মইনুদ্দিন চিশতির দরগাহ ভারতীয় উপমহাদেশের বিখ্যাত দরগাহগুলোর মধ্যে অন্যতম। ভারত ছাড়াও, পাকিস্তান, বাংলাদেশ থেকে শুরু করে সুদূর আমেরিকা, ফ্রান্স ও জার্মানি থেকে মানুষ এই দরগাহ পরিদর্শনে আসেন। দেশ-বিদেশের বহু বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব এবং রাজনীতিবিদরা এখানে চাদর দেন। ইতিহাস ও ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ রাজস্থানের এই দরগাহ যার নামে তৈরি, তিনি হলেন রহস্যবাদী দার্শনিক ও সুফি সাধক মইনুদ্দিন চিশতি। সাধারণ মানুষের কাছে তিনি ‘গরীব নওয়াজ নামেই পরিচিত। ঐতিহাসিকদের মতে, ধর্মীয় এবং সাম্প্রদায়িক সঙ্কীর্ণতার পরিপন্থী এই দরগাহ সম্প্রীতি ও উদারতার বার্তা দেয় এবং তার নেপথ্যে রয়েছেন স্বয়ং মইনুদ্দিন চিশতি। রাহুল সাংকৃত্যায়ন তার গ্রন্থ আকবর-এ যেসব মুসলিম সাধককে ‘মুসলিম সাম্যবাদী হিসাবে বর্ণনা করেছেন সুফি সাধক ও দার্শনিক খাজা মইনুদ্দিন চিশতি তাদের মধ্যে প্রথম। তিনি ১১৪২ সালে ইরানের সানজার (সিস্তান) শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তার খ্যাতি ভারতীয় উপমহাদেশের সীমানা অতিক্রম করার পাশাপাশি ধর্মের গণ্ডিকেও ছাড়িয়ে গিয়েছিল।

বিখ্যাত রহস্যবাদী সাধক খাজা ওসমান হারুনির শিষ্য ছিলেন তিনি। মইনুদ্দিন চিশতি ১১৯২ সালে প্রথমে লাহোর, তারপর দিল্লি এবং পরে আজমির পৌঁছান। এর আগে, বাগদাদ ও হেরাত হয়ে বেশ কয়েকটা বড় শহর সফরের সময় সেখানকার প্রসিদ্ধ রহস্যবাদী দার্শনিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। তরাইনের যুদ্ধের পর এমন এক সময়ে তিনি আজমিরে আসেন যখন ভারতে মুসলিম শাসন শুরু হচ্ছিল। কুতুবউদ্দিন আইবেক, ইলতুৎমিশ, আরাম শাহ, রুকনুদ্দীন ফিরোজ ও রাজিয়া সুলতানার সময়কার ঘটনা এটা। কথিত আছে, মোহময়ী সাধক ও অতীন্দ্রিয়বাদী ছিলেন মইনুদ্দিন চিশতি। জীবনাদর্শ এবং বার্তা বিখ্যাত করে তুলেছিল তাকে। তার খ্যাতির বিষয়ে জানতে পেরে ইলতুৎমিশ নিজে একবার তার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন বলেও শোনা যায়। কথিত আছে, রাজিয়া সুলতাাও বহুবার আজমিরে এসেছিলেন।

খাজা মইনুদ্দিন চিশতি মনে করতেন মানুষ শান্ত থেকেও কারও অত্যাচারকে প্রতিহত করতে পারে। তার এই বার্তার জন্যই যেন সেই সময় ভারত অপেক্ষা করছিল। বিখ্যাত সমাজ সংস্কারক এবং আর্য সমাজের অনুগামী হরবিলাস সারদা তার বই
আজমিরঃ হিস্টোরিকাল অ্যান্ড ডেসক্রিপটিভ বইয়ে মইনুদ্দিন চিশতির ফকিরানা জীবন শৈলীর বিশদ বর্ণনা দিয়েছেন। এই দরগাহকে আজমিরের ‘ঐতিহাসিক কীর্তি’ হিসাবেও বর্ণনা করেছেন তিনি। তার জীবনদর্শনের বিখ্যাত ছিলেন খাজা মইনুদ্দিন চিশতি। কথিত আছে, বহুদিনই তিনি নিজে একটা রুটি খেতেন কিন্তু ক্ষুধার্তদের জন্য সব সময় লঙ্গর প্রস্তুত থাকত। অসহায় এবং ক্ষুধার্ত দরিদ্রদের প্রতি তার আতিথেয়তার কথা কারোরই অজানা ছিল না। ঐতিহাসিক রানা সাফভি লিখেছেন, খাজা মইনুদ্দিন চিশতির বক্তৃতা রাজা ও কৃষক উভয়কেই আকৃষ্ট করেছিল। আজমিরের নাম শুনলেই খাজা গরিব নওয়াজ ও তার দরগাহের ছবি মনে ভেসে ওঠে। এই সাধক সমুদ্রের মতো উদার এবং তার অতিথিপরায়ণতা ছিল বিশ্বের মতো ব্যাপক।”
১২৩৬ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যু হয় মঈনুদ্দিন চিশতির।

দরগাহ তৈরির ইতিহাসঃ খাজা মইনুদ্দিন চিশতির মৃত্যুর পর তার সমাধিতে এই দরগাহের নির্মিত হয় যা ত্রয়োদশ শতাব্দীতে দিল্লির সুলতানদের পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করে। মান্ডুর সুলতান মাহমুদ খিলজি ও তার পরে গিয়াসউদ্দিন সেখানে সমাধিসৌধ এবং সুন্দর একটা গম্বুজ নির্মাণ করেন। মুহাম্মদ বিন তুঘলক সম্ভবত প্রথম সম্রাট ছিলেন যিনি ১৩২৫ সালে এই দরগাহ পরিদর্শন করেন। আর তুঘলক শাসক জাফর খান দরগাহ পরিদর্শন করেছিলেন ১৩৯৫ খ্রিষ্টাব্দে। সফরকালে সময় দরগাহের সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের বহু উপহার দিয়েছিলেন তিনি। মান্ডুর খিলজি ১৪৫৫ সালে আজমিরের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেন। সেই সময় এই দরগাহ তার ব্যাপক পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করে। তার শাসনকালে দরগাহের প্রাঙ্গণে বিশাল ফটক, বুলন্দ দরওয়াজা এবং মসজিদ নির্মাণ করা হয়। এর আগে পর্যন্ত তেমন পোক্ত কোনও নির্মাণ ছিল না সেখানে।

ঐতিহাসিকদের মতে, আদি দরগাহ ছিল কাঠের তৈরি। পরে এর উপর একটা পাথরের ছাউনি নির্মাণ করা হয়। ইতিহাসবিদ রানা সাফাভির মতে, দরগাহ পরিসরে নির্মাণের প্রথম মজবুত প্রমাণ হল তার গম্বুজ যা ১৫৩২ সালে অলঙ্কৃত করা হয়েছিল। এটা সমাধির উত্তর দেয়ালে স্বর্ণাক্ষরে লেখা একটা শিলালিপি থেকে স্পষ্ট। এই সেই সুন্দর গম্বুজ যা আমরা আজ দেখতে পাচ্ছি। ইন্দো-ইসলামিক স্থাপত্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে গম্বুজকে পদ্ম দিয়ে সাজানো হয়েছে এবং রামপুরের নবাব হায়দার আলী খানের দেওয়া একটা সোনার মুকুট এর উপরে স্থাপন করা হয়েছে। শেখ মঈনুদ্দিন চিশতিকে নিয়ে অনেকৎ গল্প সংগ্রহ করেছেন ফজলুল্লাহ জামালি। তার মতে দরগায় বিপুল সংখ্যক মানুষের আগমন হতো এবং হিন্দুদের পক্ষ থেকে মুজাভিরদের উপহারও দেওয়া হত। ফজলুল্লাহ জামালির (মৃত্যু ১৫৩৬) মতে, সেই সময় দরগাহ সাবজাওয়ার, মিহনা, জিল, বাগদাদ এবং হামাদানের লোকদের মধ্যে সুপরিচিত ছিল।

আকবরের সঙ্গে দরগাহের সম্পর্কঃ আকবর যখন প্রথমবার এই দরগাহ পরিদর্শনে এসেছিলেন ততদিনে খওয়াজা মঈনুদ্দিন চিশতির খ্যাতি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। রাহুল সাংকৃত্যায়ন আকবর গ্রন্থে লিখেছেন, এক রাতে আকবর আগ্রার নিকটবর্তী একটা গ্রাম থেকে শিকারের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। সেখানে কিছু মানুষের মুখে আজমিরের খওয়াজার প্রশংসা শুনে তার অন্তরে ভক্তি জেগে ওঠে। ১৫৬২ সালের জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে তিনি কিছু লোককে সঙ্গে নিয়ে আজমির যাত্রা শুরু করেন। আবুল ফজল আবার লিখেছেন, “এক রাতে তিনি (আকবর) শিকারের জন্য ফতেহপুর গিয়েছিলেন। সেই সময় আগ্রা থেকে ফতেপুর যাওয়ার পথে গ্রামের কিছু লোক খওয়াজা মঈনুদ্দিনের গৌরব ও গুণাবলী সম্পর্কে একটি সুন্দর গান গাইছিল। সেখান থেকেই এই দরগাহের বিষয়ে জানতে পারেন তিনি। দরগাহের প্রতি মুঘল সম্রাট আকবরের গভীর শ্রদ্ধা ছিল।

রাহুল সাংকৃত্যায়ন তার‘আকবর’ নামক গ্রন্থে লিখেছেন, ১৫৭২ সালের এপ্রিল মাসে সন্তান লাভের মানত করে আকবর পায়ে হেঁটে জিয়ারতের উদ্দেশে রওনা হন এবং প্রতিদিন ১৪ মাইল গতিতে ১৬ মঞ্জিল অতিক্রম করে আজমির পৌঁছান। কিছু তথ্য আবার বলছে, তিনি সন্তান লাভের আশায় ফতেপুর সিক্রি থেকে খালি পায়ে দরগাহে গিয়েছিলেন। প্রতি বছর দরগাহ পরিদর্শনের জন্য আগ্রা থেকে আজমির পর্যন্ত পায়ে হেঁটে যাতায়াত করতেন তিনি। আকবর দরগাহে একটা মসজিদও নির্মাণ করেছিলেন, যাকে আকবরী মসজিদ বলা হয়। ঐতিহাসিক আবুল ফজল লিখেছেন, “আকবর প্রথম মুঘল শাসক যিনি ১৫৬২ সালে প্রথমবার দরগাহ পরিদর্শন করেছিলেন। দরগাহের সাথে যুক্ত লোকদের উপহার ও অনুদান দিয়েছিলেন। তার মতে ১৫৬৮ খ্রিষ্টাব্দে আকবর তার প্রথমবারের মানত পূরণের জন্য পায়ে হেঁটে দরগাহে এসেছিলেন।

আকবর দেখেছিলেন যে হাজার হাজার দরিদ্র ও তীর্থযাত্রীদের জন্য লঙ্গরের আয়োজন করা হয়েছিল। তাই তিনি আজমির, চিতোর এবং রণথম্ভোরের ১৮টা গ্রাম দিয়ে দেন। আকবর ১৫৬৯ সালে আজমিরে একটা মসজিদ ও খানকাহ নির্মাণের নির্দেশ দেন। সেই আদেশ অনুযায়ী তৈরি হয় লাল বেলেপাথরের আকবরী মসজিদ। শাহজাহান ১৬৩৭ সালে একটা সুন্দর মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন যা দরগাহের পশ্চিমে শাহজাহানী দরওয়াজার সঙ্গে অবস্থিত। দরগাহে আগত মানুষদের জন্য আকবর এবং জাহাঙ্গীর অনেক ব্যবস্থা করেছিলেন যার উল্লেখ হরবিলাস সারদার বইয়ে পাওয়া যায়। সম্ভর হ্রদ থেকে দরগাহ ২৫ শতাংশ নুন পেত যার পরিবর্তে সেই সময় মিলত ৭ টাকা। দরগাহের লঙ্গরের জন্য মোট পাঁচ হাজার সাত টাকা দেওয়া হতো। বৈরাম খাঁর শাসনের অবসানের পরপরই ১৫৬০ সালের একটা সনদের কথা জানা যায় যেখানে দরগাহের এক সেবককে ২০ বিঘা জমি দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

মুঘল সম্রাটদের সঙ্গে দরগাহের যোগঃ আকবরের প্রথমবার আজমির সফরএর (১৫৬২ খ্রিষ্টাব্দে) আগেই দরগাহের সংস্কারের কাজ শুরু হয়ে গিয়েছিল। এই কাজ মুঘলরা ক্ষমতায় থাকাকালীন তো বটেই এমন কী তার পরেও এই সংস্কার অব্যাহত ছিল। দরগাহের বিষয়ে আকবরের আগ্রহ শুরু হয় তার শাসন বর্গের মধ্যে ভারতীয় উপাদান অন্তর্ভুক্ত করার নীতি থেকে। কিছু ঐতিহাসিক বিশ্বাস করেন যে মুঘলরা ঐতিহ্যগতভাবে সুফিবাদের নকশবন্দি সম্প্রদায়ের অনুগামী ছিল। আকবর শুধু খাজা মইনুদ্দিন চিশতির দরগাহেই নয়, দিল্লির অন্যান্য চিশতি সুফিদের সমাধিতেও যেতেন। ঐতিহাসিকদের মতে দরগাহকে গুরুত্ব দেওয়ার কারণ শুধুমাত্র আকবরের আধ্যাত্মিক চিন্তাই ছিল না, এটা ভারতে মুঘল শাসনের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতেও সাহায্য করেছিল। ব্রিটিশ শাসনামলেও এই দরগাহ আধ্যাত্মিক গুরুত্বের কেন্দ্র ছিল। তবে প্রশাসনিক ব্যবস্থায় কিছু পরিবর্তন আসে। ২০০৭ সালে অটল বিহারী বাজপেয়ী আজমির শরিফ দর্শনে এসেছিলেন।

অন্যান্য ধর্মাবলম্বী মানুষের বিশ্বাসঃ আজমিরের এই দরগাহ পরিদর্শনে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষেরা আসেন এবং এই পরম্পরা শত শত বছর ধরেই চলে আসছে। বার্ষিক উরস উৎসবের সময় লক্ষ লক্ষ মানুষ উপস্থিত হন এবং এই রীতিই এখনও চলে আসছে। এখানে নারীদের অবাধ প্রবেশ রয়েছে। হিন্দু এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বী নারীরাও এই দরগাহ দর্শনের জন্য আসেন, কেউ বা নিজের মনোকামনা পূরণের জন্য মানত করেন। শুরু থেকেই সমাজের ভিন্ন ভিন্ন শ্রেণির মানুষেরা এই দরগাহে আসতেন, সেই রীতি এখনও রয়েছে। উরস এবং মিলাদ-উন-নবী এই দুই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম হয় এই দরগাহে। ঐতিহাসিকদের মতে, খওয়াজা মঈনুদ্দিন চিশতির এমন এক স্থানকে আধ্যাত্মিকতার জন্য বেছে নিয়েছিলেন যা হিন্দুদের জন্য ইতিমধ্যে পবিত্র ছিল। সেখানে ব্রহ্মার মন্দির রয়েছে। আর খওয়াজা মৈনুদ্দিন চিশতির হাত ধরে আজমির দুই সম্প্রদায়ের মানুষেরই তীর্থের কেন্দ্র হয়ে ওঠে।

 

মতামত জানান :

Sun Mon Tue Wed Thu Fri Sat
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  

সর্বশেষ খবর

কুড়িগ্রামের ইজিপিপি বন্ধে ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হাজারো পরিবার।
রংপুর 7 hours আগে

ঠাকুরগাঁও হরিপুরে বাইক ও মিনিবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ‎শিক্ষক নিহত। ‎
দুর্ঘটনা 1 day আগে

দিনাজপুর পৌরসভায় ক্লাস্টার উন্নয়ন পরিকল্পনা ও ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট অ্যাকশন প্ল্যান
তথ্য ও প্রযুক্তি 1 day আগে

পঞ্চগড়ে চুরি,মাদক,অবৈদ্ধ ও অপকর্ম কারীর বাবা এবং চোরের কাছ থেকে
আইন-বিচার 2 days আগে

সান্তাহারে ট্রেন যাত্রীর কাছ থেকে দশ কেজি গাঁজা উদ্ধার গ্রেপ্তার-৪।
অপরাধ 2 days আগে

পলাশবাড়ীতে মন্দির ও মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা হরিদাসের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার অপপ্রচারের প্রতিবাদে
আইন-বিচার 2 days আগে

আন্তর্জাতিক নারী দিবস পীরগঞ্জে র‍্যালি ও আলোচনা সভা।
আন্তর্জাতিক 2 days আগে

ঠাকুরগাঁওয়ের ফিলিং ষ্টেশনগুলোতে তেল বিক্রি বন্ধ করা হয়েছে।
রংপুর 2 days আগে

আদমদীঘিতে ৪০ লিটার চোলাইমদসহ সুজন পাহান গ্রেফতার: ডিএনসি।
অপরাধ 3 days আগে

সুনামগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারির পরও থামেনি দখলচেষ্টা,বিশ্বম্ভরপুরে উত্তেজনা।
আইন-বিচার 3 days আগে

পাঠকপ্রিয়

শিরোনাম :

কুড়িগ্রামে ঐতিহাসিক আসনে কঠিন চ্যালেঞ্জে জাপা,মাঠ গরম এনসিপি-বিএনপির। হাদীর ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় দিনাজপুর সীমান্ত ৪২ বিজিবির রেড অ্যালার্ট জারি। রোহিঙ্গা মেয়েরা পাচার ছাড়াও বিদেশীদের দ্বারা যৌন কাজে ব্যবহারের টার্গেট হয়ে উঠছে ঠাকুরগাঁওয়ে নানা কর্মসূচিতে হানাদার মুক্ত দিবস উদযাপিত। ঠাকুরগাঁও জেলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ৪র্থ জেলা রোভার মুট-২০২৫। কুড়িগ্রামের রাজারহাটে প্রাণিসম্পদ সপ্তাহের প্রদর্শনী ও সমাপনী অনুষ্ঠিত। পার্বতীপুরে জাতীয় প্রাণি সম্পদ ও ডেইরি প্রকল্পের উদ্বোধন। রাণীশংকৈলে জাতীয় প্রাণীসম্পদ সপ্তাহ ও প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত পলাতক শেখ হাসিনার অগ্রণী ব্যাংকের লকার ভেঙে ৮৩২ ভরি স্বর্ণ জব্দ রাজশাহীতে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১০ জন ৩ ডিসেম্বর রংপুরে বিভাগীয় মহাসমাবেশ সফল করতে দিনাজপুরে ৮ ইসলামী দলের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত। দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতে সব বাহিনী প্রস্তুত: সিইসি পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৬ হাজার কৃষক পাচ্ছে বিনামূল্যে গম বীজ ও সার। মাত্র চার মাসের শিশু সুমাইয়া বাঁচতে চায়! পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় হেফাজতে ইসলামের নতুন কমিটি গঠন। ভূমিকম্পে সম্ভাব্য ক্ষতি কমাতে এখনই শক্তিশালী ও সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে: সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান রাজধানীতে  আজ থেকে ঘরে বসেই মেট্রোরেলের কার্ড রিচার্জ করবেন? নীলফামারীতে পাটবীজ উৎপাদনকারী চাষীদের প্রশিক্ষণ। আর কোনো পরিস্থিতি নেই যে নির্বাচন ব্যাহত হবে-ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল  ৫-বছরেও শেষ হয়নি ওয়াশব্লকের নির্মাণ কাজ-জনস্বাস্থ্য অফিস বলছেন বাদ দেন চা খাওয়ার জন্য কিছু নেন। পার্বতীপুরে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকারের দাবীতে কর্মী সভা। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় নদী বাঁচাও আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নাগরিক সমাবেশ। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া ইউএনও এক গৃহহীন ভারসাম্যহীন নারীর পাশে দাঁড়ালো। ৮ দফা দাবিতে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর নার্সিং এসোসিয়েশন দিনাজপুর জেলা শাখার স্মারকলিপি ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে ইউনিয়ন সিএসওর লাইভস্টক সংলাপ সভা অনুষ্ঠিত বগুড়ায় প্রেম করে বিয়ে অতপর ভাড়া বাসায় স্ত্রীকে হত্যা করল স্বামী। দিনাজপুরে ৩ দিনব্যাপী উদ্যোক্তা মেলা ও পিঠা উৎসবের সমাপনী। দিনাজপুরের বিরলে শতাধিক নেতা-কর্মীর মামলা থেকে বাঁচতে ফ্যাসিস্ট আ,লীগ থেকে পদত্যাগ! অভিযোগ দিয়ে ও কাজ বন্ধ হচ্ছে না আদমদিঘীতে সরকারি জায়গা দখল করে করা হচ্ছে অবকাঠামো নির্মাণ! বগুড়ার কইপাড়ায় নববধূ শম্পা হত্যার অভিযোগ, যৌতুক দাবির জেরে স্বামী আটক