admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১১:০৫ অপরাহ্ণ
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশিদের প্রবেশ ঠেকানোর হুমকি বিজেপির। পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিজেপি ক্ষমতায় আসলে সীমান্ত দিয়ে মানুষ তো দূরে থাক, একটা পাখিও ঢুকতে পারবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আজ বৃহস্পতিবার রাজ্যের কোচবিহার ও ঠাকুরনগরে দুটি জনসভায় অংশ নেন তিনি। সেখানেই এমন বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ থেকে কথিত অনুপ্রবেশের ইস্যুকে আবারো খুঁচিয়ে তুললেন বিজেপির এই শীর্ষ নেতা।
এদিন জনসভায় দাঁড়িয়ে অমিত শাহ জনতার উদ্দেশে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে জিজ্ঞেস করেন, ”সীমান্তে অনুপ্রবেশ নিয়ে আপনারা কি বিরক্ত নন? আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি আদৌ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে পারবেন? রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তন হলেই কেবল অনুপ্রবেশ বন্ধ হবে দাবি করে এ সময় তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গড়তে পারলে সীমান্ত দিয়ে মানুষ তো দূরে থাক, একটা পাখিও ঢুকতে পারবে না।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পশ্চিমবঙ্গে দাঁড়িয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যখন এ কথা বলছেন, ঠিক তার আগের দিনই তারই মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সংসদে লিখিত জবাবে জানানো হয়েছে যে, ২০১৬ সালের তুলনায় পরবর্তী পাঁচ বছরে বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশের ঘটনা অনেকটাই কমে গেছে। এ বিষয়ে রাজ্যসভার সদস্য ও তৃণমূল কংগ্রেস নেতা মানস রঞ্জন ভুইঁয়া বলেন, অনুপ্রবেশের ঘটনা নিয়ে অমিত শাহের বক্তব্য পুরোটাই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সীমান্তে বেড়া দেয়ার দায়িত্ব কেন্দ্রীয় সরকারের হলেও তারা সেই কাজ করেনি। এখনো অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। অন্য দেশ থেকে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের ক্ষেত্রে তাদের ওপর নজরদারি করা বা বাধা দেয়ার দায়িত্ব বিএসএফের। এটি আবার কেন্দ্রীয় সরকারের বাহিনী। কাজেই অনুপ্রবেশের জন্য মমতা সরকারের ঘাড়ে দোষ চাপাতে পারেন না তারা।
ভারতের প্রবীণ রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও টাইমস অব ইন্ডিয়ার সাবেক সাংবাদিক শিখা মুখোপাধ্যায় বলছেন, অনুপ্রবেশের নাম করে বিজেপি আসলে বলতে চায় যে, বাংলাদেশ থেকে দলে দলে মুসলিমরা পশ্চিমবঙ্গে আসছে। এমন চলতে থাকলে এখানে হিন্দুরা সংখ্যালঘু হয়ে যেতে পারে। যা স্পষ্টতই একটা সাম্প্রদায়িক বিভাজনের বক্তব্য।