admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১৭ ডিসেম্বর, ২০২১ ৯:১৮ অপরাহ্ণ
জনসনের উপনির্বাচনে হার, জনপ্রিয়তায় ধস! প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের কনজারভেটিভ পার্টি একটি সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। এই হারকে জনজনের জন্য কড়া বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, সংকট এবং কেলেঙ্কারিতে জর্জরিত একজন ব্রিটিশ নেতার বিরুদ্ধে ভোটাররা মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করেছেন। দ্য গ্লোব অ্যান্ড মেইল। নর্থ শ্রপশায়ার আসনে মধ্যপন্থী লিবারেল ডেমোক্র্যাট দলের প্রার্থী হেলেন মরগান প্রায় ৬ হাজার ভোটের ব্যবধানে কানজারভেটিভ পার্টির প্রার্থীকে হারিয়ে দিয়েছেন। ২০১৯ সালে আসনটিতে ২৩ হাজার ভোটে জিতেছিল জনসনের প্রার্থী।
২০২৪ সালে ব্রিটেনের পরবর্তী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। বিজয়ী বক্তব্যে মরগান বলেন, উত্তর শ্রপশায়ারের লোকেরা ব্রিটিশ জনগণের পক্ষে কথা বলেছেন। তারা জোরে এবং স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে বরিস জনসনের দিন শেষ। আমাদের দেশ নেতৃত্বের জন্য চিৎকার করছে ‘মিস্টার জনসন, আপনি কোনো নেতা নন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন নতুন কোভিড-১৯ নিষেধাজ্ঞা নিয়ে সংসদে প্রতিবাদের মুখে পড়েছেন।
১৯৮৩ সালের পর থেকে রক্ষণশীলরা মধ্য ইংল্যান্ডের বেশিরভাগ গ্রামীণ এলাকায় নির্বাচনে জয়লাভ করে আসছিল। আঘাতটি এমন সময় আসল যখন জনসন বেশ কয়েকটি ফ্রন্টে সমালোচনার সম্মুখীন। দেশব্যাপী জনমত জরিপ দেখায় যে, রক্ষণশীলরা তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী লেবার পার্টি থেকে পিছিয়ে পড়েছে। আইন প্রণেতাদের দ্বিতীয় চাকরি নিয়ে ক্ষোভ, ফ্ল্যাট সংস্কারে অর্থায়ন, কোভিড-১৯ প্রভৃতি ইস্যুতে চরম সমালোচনার মুখে রয়েছেন জনসন সরকার।
উত্তর শ্রপশায়ার আসন ব্রিটেনের সংসদের ৬৫০টি আসনের মধ্যে একটি। বর্তমান কনজারভেটিভ পার্টির এমপি অর্থপ্রদানের লবিংয়ের নিয়ম ভঙ্গ করার অভিযোগে পদত্যাগ করেছিলেন। যদিও বরিস জনসানের সরকার পরিকল্পিতভাবে নিয়ম পরিবর্তন করে সেই পদত্যাগ রোধ করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সংসদে আস্থা না থাকায় পিছিয়ে যেতে বাধ্য হয় সরকার।
খবরে বলা হচ্ছে, ব্রিটেনের সবগুলো উপনির্বাচনে প্রায়ই দেখা যায় ক্ষমতাসীনরা হেরে যাচ্ছে। কারণ ভোটাররা ক্ষমতাসীন দলকে শাস্তি দেওয়ার জন্য ভোট অন্য দলের প্রার্থীকে প্রয়োগ করে। নর্থ শ্রপশায়ার ছিল ব্রেক্সিটপন্থী কট্টর রক্ষণশীল এলাকা। বিশ্লেষকরা বলছেন, শুক্রবারের বড় পরাজয় আইন প্রণেতাদের ওপর জনসনের কর্তৃত্বকে আরও কমিয়ে দিতে পারে।