admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২০ অক্টোবর, ২০১৯ ৬:০১ অপরাহ্ণ
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাতে যে ভোট কারচুপি হয়েছে সে প্রসঙ্গে ক্ষমতাসীন মহাজোটের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের বক্তব্যের পর সংসদ ভেঙে দিয়ে সরকারের পদত্যাগ করা উচিত বলে মন্তব্য করেছে বিএনপি। রোববার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির পক্ষে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ মন্তব্য করেন। রিজভী বলেন,দেশ চলছে সম্পূর্ণ উল্টো পথে। যারা অপরাধী রাজদণ্ড তাদের হাতে। আর নিরাপরাধ থাকেন কারাগারে। গণতন্ত্র ও দেশের পক্ষে কথা বলার কারণেই আজ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে। শেখ হাসিনার পলিটিক্যাল মনোপলি নীতির কারণেই নিহত সংবিধান, স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা ও স্বচ্ছ নির্বাচন। কিন্তু সত্যের ঢোল বাতাসে বাজে, অপকর্ম করেও কখনো কখনো বিবেকের তাড়নায় সত্য প্রকাশ করতে বাধ্য হয় মানুষ, বিবেকবান মানুষের মনে অপরাধবোধ অস্থিরতা সৃষ্টি করে।’
বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ‘দুর্নীতিবাজ সরকারের বিশ্বস্ত কমরেড রাশেদ খান মেননের বক্তব্যের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য কী, তা আমাদের জানা নেই। তবে জাতির সামনে রাজস্বাক্ষী হয়ে রাতের ভোট ডাকাতির স্বীকারোক্তি প্রদানের মাধ্যমে নিজের দায় ও অপরাধ তিনি স্বীকার করে নিলেন। এই বক্তব্যের পর নৈতিকতা ও বাস্তবতার দিক দিয়ে সরকারের উচিত সংসদ ভেঙে দেওয়া। সংসদে বহাল থাকার নৈতিক অধিকার তাদের নেই। যেহেতু তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত নন। বর্তমান সরকারেরও যদি বিন্দু মাত্র লজ্জা থাকে তাহলে আজকেই তাদের পদত্যাগ করে সরে যাওয়া উচিত। তারা যে অবৈধ সরকার তাদের সাথের লোকেরাই তা আজ স্বীকার করেছেন। দেশের জনগণ জীবনের ভয়ে কথা বলতে পারছে না, এটাও তারা স্বাক্ষ্য দিচ্ছেন। রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আপনারা সম্প্রতি দেশের পত্র-পত্রিকায় একটি শিরোনাম দেখেছেন। নিশি-রাতের সরকারের প্রধানমন্ত্রী যুবলীগের নেতাদের উদ্দেশ্য করে বলছেন, “দুর্নীতিবাজরা গণভবনে আসতে পারবে না।” এই কথাটি জনমনে হাসি-তামাশার উদ্রেক করেছে। কারণ কে কাকে দুর্নীতিবাজ বলছে? অপ্রিয় হলেও সত্য, খোদ গণভবনই এখন দুর্নীতিবাজদের নিয়ন্ত্রণে। রাতের আধারে জনগণের ভোট ডাকাতি করে ভোটাধিকার হরণ কী বড় দুর্নীতি নয়? ২০১৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর মধ্যরাতে জনগণের ভোট ডাকাতি করে রাতের গর্ভে যেই সরকারের জন্ম দেওয়া হয়েছে, বাংলাদেশের ইতিহাসে এত বড় দুর্নীতি, এত বড় কলঙ্ক, জনগণের ভোট নিয়ে এত বড় জুয়া খেলা অতীতে আর কখনোই ঘটেনি। সেই ভোট ডাকাতদের নিয়ন্ত্রণে এখন গণভবন। সেই গণভবনে বসে যখন বলা হয় “দুর্নীতিবাজরা গণভবনে আসতে পারবে না” তখন এটা জনগণের কাছে পরিহাসের মতোই শোনায়।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘এখন যারা গণভবন দখলে রেখে দুর্নীতির বিরুদ্ধে চটুল কথাবার্তা বলছেন। নয় লক্ষ কোটি টাকা পাচারের দায়- দায়িত্ব তারা এড়াতে পারবেন না, যা মেনন সাহেব উল্লেখ করেছেন। খালেদ, শামীম কিংবা ক্যাসিনো সম্রাটদের কাঁধে টাকা পাচারের দায়-দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়ে গণভবন দখলকারীরা নিজেদের দায়মুক্তির যেই কূটকৌশল অবলম্বন করছেন, তাদের চালাকি জনগণের কাছে স্পষ্ট। দেশ থেকে নয় লক্ষ কোটি টাকা পাচার হয়ে গেল, গণভবন দখলকারীরা জানেন না, এটা জনগণ বিশ্বাস করে না।’
রিজভী বলেন, ‘জনমনে প্রশ্ন, এইসব সম্রাটদের কারা তৈরি করেছিল? এইসব সম্রাট তো একদিনে তৈরি হয়নি। যে সব রাজা-বাদশাহ-সম্রাজ্ঞীরা এইসব ক্যাসিনো সম্রাটদের তৈরি করেছিল, তারা এখন নিজেদের গা বাঁচানোর চেষ্টা করলেও জনগণ জানে, সরকারের উচ্চমহলের আনুকুল্য না পেলে রাষ্ট্রের এতো লক্ষ কোটি টাকা লোপাট সম্ভব নয়।
বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, ‘ব্যাংকগুলোকে খালি করে দেওয়া সম্ভব নয়। লক্ষ কোটি টাকা ঋণখেলাপি হওয়া সম্ভব নয়। উচ্চ পর্যায়ের আনুকূল্য না থাকলে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৮১০ কোটি টাকা লোপাট হওয়ার পরও জনগণকে ২৪ দিন পর্যন্ত জানতে না দেওয়ার ধৃষ্টতা সম্ভব ছিল না। এখন বিপদ টের পেয়ে দুই একটা সম্রাট ধরে নিজেদের দুর্নীতির কালিমালিপ্ত চেহারা ঢাকা সম্ভব নয়। কারণ, শীর্ষ নেতাদের আনুকূল্য থাকার কারণেই রাজধানীতে ৬০টি অবৈধ ক্যাসিনো তৈরী হতে পেরেছিল, খালেদ-শামীম-সম্রাট তৈরি হয়েছিল।