হোম
নির্বাচিত কলাম

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে প্রাণহানি বেড়েছে কেন?

admin || মুক্ত কলম সংবাদ

প্রকাশিত: ১ জানুয়ারি, ২০২০ ৮:২৮ পূর্বাহ্ণ

Border-killed-mknewsbd

ফাইল ছবি

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য বলছে, ২০১৯ সালে সীমান্তে হত্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে গত এক বছরে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে দেশটির সীমান্ত রক্ষা বাহিনী বিএসএফ’র হাতে বাংলাদেশিদের প্রাণহানির সংখ্যা তিন গুন বেড়েছে। বাংলাদেশের মানবাধিকার ও আইনি সহায়তা নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র তাদের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

এতে বলা হচ্ছে, ২০১৯ সালে ভারতের সীমান্ত রক্ষা বাহিনী- বিএসএফ’র হাতে প্রাণ হারিয়েছে ৩৮ জন বাংলাদেশি। এরমধ্যে ৩৩ জন গুলিতে প্রাণ হারিয়েছে এবং বাকি ৫ জনকে নির্যাতন করে মারা হয়েছে। এবছর বিএসএফ’র হাতে আহত হয়েছে ৩৯ জন এবং আটক হয়েছে আরো ৩৪ জন। বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি সংবাদপত্রের তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র-আসক। কিন্তু এক বছর আগে অর্থাৎ ২০১৮ সালে সীমান্তে এমন প্রাণহানির সংখ্যা ছিল মাত্র ১৪ জন। সে হিসেবে মাত্র এক বছরের ব্যবধানে প্রাণহানির সংখ্যা তিন গুণেরও বেশি বেড়েছে।

এ বিষয়ে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক শীপা হাফিজা বলেন, সীমান্তে হত্যার বিষয়টি এক বছরে প্রচুর বেড়েছে। সীমান্ত রক্ষী বাহিনীরা সীমান্ত পার করছেন এমন কাউকে দেখলেই গুলি করে ফেলছে। এটা বদলাতে হবে। তিনি বলেন, দুই দেশের সীমান্তে অভিন্ন পাড়া রয়েছে। যেখানকার মানুষেরা একে পাড়া হিসেবেই দেখে এবং ভারতের বাসিন্দারা বাংলাদেশে আসে আবার বাংলাদেশিরা ভারতে যায়। আত্মীয় স্বজনদের সাথে দেখা করা ছাড়াও জীবিকার সন্ধানেও মানুষ সীমান্ত পারাপার হয়ে থাকে। দু’ দেশেরই আইন অনুযায়ী, এসব মানুষদের গ্রেফতার ও বিচার করার কথা। দু’দেশের সরকারি বাহিনীই যদি এটি মেনে চলেন তাহলে দেখা মাত্রই গুলি করার কথা না। কিন্তু সেটা হচ্ছে, বলেন তিনি। এ ধরণের ঘটনাকে মারাত্মক ধরণের মানবাধিকার লঙ্ঘন বলেও উল্লেখ করেন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের এই নির্বাহী পরিচালক। তিনি বলেন, ভারতের পক্ষ থেকে এসব বাংলাদেশিদের অবৈধ ব্যবসায়ী বলে উল্লেখ করা হচ্ছে। শিপা হাফিজ আশঙ্কা করে বলেন যে, ভারতে নতুন যে নাগরিকত্ব আইন করা হয়েছে এর কারণে আরো বেশি মানুষ সীমান্ত পার করতে পারে। সীমান্ত হত্যা ঠেকাতে এ বিষয়টিও মাথায় রেখে সামনের বছরে কাজ করা উচিত বলে মনে করেন তিনি।

বিএসএফ-এর গুলিতে ফেলানী খাতুনের হত্যার পর বাংলাদেশের দাবির মুখে ২০১৪ সালে দিল্লিতে বিএসএফ ও বিজিবির মহাপরিচালকদের বৈঠকের পর ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে হত্যার ঘটনা শূন্যে নামিয়ে আনার বিষয়ে একটি সমঝোতা হয়েছিল। কিন্তু সেটিও ফিকে হয়ে আসছে বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। তারা বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজনৈতিক উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত, সীমান্ত চৌকিতে টহল বাহিনীর মধ্যে নিয়মিত বৈঠক এবং সেসময় নতুন সিদ্ধান্ত মেনে চলার প্রবণতা থাকার কারণে মাঝে একটা সময় সীমান্তে হত্যা কমে এসেছিল। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে মানুষ এসব ভুলে যায় বলে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা আবার বাড়তে থাকে।

বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ এর চেয়ারম্যান এবং সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সী ফয়েজ আহমদ বলেন, আমরা ভারতীয়দের গুলি করি না, কিন্তু তারা(বিএসএফ) বাংলাদেশিদের মারে। তিনি বলেন, বিএসএফ-এ যারা কাজ করে তারা সাধারণত নিজের বাড়ি-ঘর ছেড়ে অনেক দূরে অবস্থান করে। যার কারণে তারা মানসিকভাবে সুখী থাকে না। এ কারণেই তারা ট্রিগার হ্যাপি হয়ে যায়। মানসিকভাবে চাপের মুখে থাকে বলেই এ অবস্থা হয় বলে অনেকে মনে করেন। এটা একটা কারণ।

দ্বিতীয় কারণটি হচ্ছে, বিএসএফ’র এসব সদস্যরা যাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে অর্থাৎ যারা অধিকর্তা তারাও এদের দৃঢ়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করে না। যার কারণে সীমান্ত হত্যা বেশি ঘটে। যারা বিএসএফ’র হাতে যারা প্রাণ হারাচ্ছে তাদেরকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, এদের বেশিরভাগই সীমান্ত পার হয়ে গিয়ে গরু বা অন্যান্য ব্যবসা সামগ্রী নিয়ে আসতো। মিস্টার আহমেদ বলেন, অনেকে বলে যে এখানে ভাগাভাগির একটা বিষয় থাকে। যদি তাদের খুশি করা যায় তাহলে তারা গোলাগুলি করে না। এর ব্যতিক্রম হলে তখন হয়তো দেখলে গুলি করে এবং লোকজন মারা যায়। তবে সীমান্ত হত্যা বন্ধে দুদেশের মধ্যে সমঝোতা হওয়ার পর এই হার কমতে শুরু করেছিল। কিন্তু কখনোই পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বিএসএফের টহল

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বিএসএফের টহল

হত্যা বন্ধে কি করতে হবে ?

মিস্টার আহমদ বলেন, সীমান্তে বিএসএফ’র হাতে বাংলাদেশিদের হত্যা থামাতে হলে রাজনৈতিক প্রচেষ্টা ও নিয়ন্ত্রণ দরকার। তাঁর মতে, সীমান্তে হত্যা বিশেষ করে ভারতের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তে হত্যা বন্ধ করতে হলে ভারতের সাথে এ নিয়ে নতুন করে আলোচনা করে তাদের বোঝাতে হবে যে এ ধরণের হত্যা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ বিষয়টি বিরতি দিয়ে নয় বরং মাঝে মাঝেই আমাদের বন্ধুদেরকে মনে করিয়ে দিতে হবে যে, সীমান্ত হত্যা গ্রহণযোগ্য নয়, বলেন তিনি।

বিশ্বের প্রায় সব খানেই অভিন্ন সীমান্তের দেশগুলোতে মানুষ আসা-যাওয়া করে। কিন্তু তাই বলে তাদের মেরে ফেলাটা সমাধান নয় বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বাংলাদেশের দিক থেকে গুলির ঘটনা তেমন একটা ঘটে না বললেই চলে। তবে এ বছর এ ধরণের দু-একটা ঘটনা ঘটেছে বলে উল্লেখ করেন সাবেক এই রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, এক সময় অধৈর্য হয়ে দু’পক্ষই যদি গোলাগুলি শুরু করে তাহলে এ ধরণের ঘটনা আরো বাড়বে।

এর পরিবর্তে দু’পক্ষকেই ধৈর্য ধরতে হবে এবং যেসব মানুষ এভাবে সীমান্ত পারাপার করে থাকে তাদেরকে গ্রেফতার এবং এর পরবর্তীতে কী ব্যবস্থা নেয়া যায় আলোচনার মাধ্যমেই দুদেশকে ঠিক করতে হবে। এ বিষয়ে দুদেশের সম্মতিতে কিছু প্রোটোকল থাকতে হবে বলেও মনে করেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। এ ধরণের কোন সুচিন্তিত সিদ্ধান্তও এখনো দুদেশের মধ্যে নেই, বলেন সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সী ফয়েজ আহমদ। তবে সীমান্ত হত্যার বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিক ভাবে কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

মতামত জানান :

Sun Mon Tue Wed Thu Fri Sat
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  

সর্বশেষ খবর

ঠাকুরগাঁওয়ে অনৈতিক কর্মকান্ডে ছেলের হাতে -মা আটক টাকায় রফাদফায় বিএনপির
অপরাধ 6 hours আগে

সাঘাটায় যৌতুকের দাবিতে শশুর–শাশুড়ী পুত্রবধূকে বটি দিয়ে জবাই করার চেষ্টা।
অপরাধ 1 day আগে

ঠাকুরগাঁও-৩ আসনেই বিএনপি জয় পেলেও অভাবনীয় উত্থান জামায়াতের।
রংপুর 1 day আগে

দিনাজপুরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য, কাচারী চত্বরে হাতাহাতি আহত ৭জন।
অপরাধ 2 days আগে

অদৃশ্য ক্ষমতায় ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা
রংপুর 2 days আগে

পঞ্চগড়ের বোদায় ভর্তুকি মূল্যে পণ্য বিক্রয় স্টোল পরিদর্শন করেন পানি
রংপুর 2 days আগে

শীর্ষ সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে শীঘ্রই ব্যবস্থা নেয়া হবে-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
জাতীয় 3 days আগে

সুনামগঞ্জে পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগ,বাইরে থেকে তালা মেরে বসত ঘরে আগুন, প্রাণনাশের
অপরাধ 3 days আগে

পদোন্নতির দাবিতে উত্তাল দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড।
রংপুর 3 days আগে

দিনাজপুর জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশন পরিদর্শনে সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী ডাঃ এজেড
রংপুর 3 days আগে

পাঠকপ্রিয়

শিরোনাম :

কুড়িগ্রামে ঐতিহাসিক আসনে কঠিন চ্যালেঞ্জে জাপা,মাঠ গরম এনসিপি-বিএনপির। হাদীর ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় দিনাজপুর সীমান্ত ৪২ বিজিবির রেড অ্যালার্ট জারি। রোহিঙ্গা মেয়েরা পাচার ছাড়াও বিদেশীদের দ্বারা যৌন কাজে ব্যবহারের টার্গেট হয়ে উঠছে ঠাকুরগাঁওয়ে নানা কর্মসূচিতে হানাদার মুক্ত দিবস উদযাপিত। ঠাকুরগাঁও জেলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ৪র্থ জেলা রোভার মুট-২০২৫। কুড়িগ্রামের রাজারহাটে প্রাণিসম্পদ সপ্তাহের প্রদর্শনী ও সমাপনী অনুষ্ঠিত। পার্বতীপুরে জাতীয় প্রাণি সম্পদ ও ডেইরি প্রকল্পের উদ্বোধন। রাণীশংকৈলে জাতীয় প্রাণীসম্পদ সপ্তাহ ও প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত পলাতক শেখ হাসিনার অগ্রণী ব্যাংকের লকার ভেঙে ৮৩২ ভরি স্বর্ণ জব্দ রাজশাহীতে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১০ জন ৩ ডিসেম্বর রংপুরে বিভাগীয় মহাসমাবেশ সফল করতে দিনাজপুরে ৮ ইসলামী দলের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত। দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতে সব বাহিনী প্রস্তুত: সিইসি পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৬ হাজার কৃষক পাচ্ছে বিনামূল্যে গম বীজ ও সার। মাত্র চার মাসের শিশু সুমাইয়া বাঁচতে চায়! পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় হেফাজতে ইসলামের নতুন কমিটি গঠন। ভূমিকম্পে সম্ভাব্য ক্ষতি কমাতে এখনই শক্তিশালী ও সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে: সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান রাজধানীতে  আজ থেকে ঘরে বসেই মেট্রোরেলের কার্ড রিচার্জ করবেন? নীলফামারীতে পাটবীজ উৎপাদনকারী চাষীদের প্রশিক্ষণ। আর কোনো পরিস্থিতি নেই যে নির্বাচন ব্যাহত হবে-ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল  ৫-বছরেও শেষ হয়নি ওয়াশব্লকের নির্মাণ কাজ-জনস্বাস্থ্য অফিস বলছেন বাদ দেন চা খাওয়ার জন্য কিছু নেন। পার্বতীপুরে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকারের দাবীতে কর্মী সভা। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় নদী বাঁচাও আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নাগরিক সমাবেশ। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া ইউএনও এক গৃহহীন ভারসাম্যহীন নারীর পাশে দাঁড়ালো। ৮ দফা দাবিতে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর নার্সিং এসোসিয়েশন দিনাজপুর জেলা শাখার স্মারকলিপি ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে ইউনিয়ন সিএসওর লাইভস্টক সংলাপ সভা অনুষ্ঠিত বগুড়ায় প্রেম করে বিয়ে অতপর ভাড়া বাসায় স্ত্রীকে হত্যা করল স্বামী। দিনাজপুরে ৩ দিনব্যাপী উদ্যোক্তা মেলা ও পিঠা উৎসবের সমাপনী। দিনাজপুরের বিরলে শতাধিক নেতা-কর্মীর মামলা থেকে বাঁচতে ফ্যাসিস্ট আ,লীগ থেকে পদত্যাগ! অভিযোগ দিয়ে ও কাজ বন্ধ হচ্ছে না আদমদিঘীতে সরকারি জায়গা দখল করে করা হচ্ছে অবকাঠামো নির্মাণ! বগুড়ার কইপাড়ায় নববধূ শম্পা হত্যার অভিযোগ, যৌতুক দাবির জেরে স্বামী আটক