admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১৫ অক্টোবর, ২০২১ ৮:০৬ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশে ঢাকা ও নোয়াখালীতে জুমার নামাজের পর সংঘর্ষ, ১ জনের মৃত্যু। আজ শুক্রবার জুমার নামাজের পর রাজধানী ঢাকায় বায়তুল মোকাররম মসজিদ, পল্টন ও কাকরাইল এলাকায় এবং নোয়াখালী জেলার চৌমুহনীতে পুলিশের সাথে লোকজনের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের চৌমুহনীতে সংঘর্ষের জের ধরে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের দোকানপাট ও বাড়িঘরে হামলা চালানোর খবর পাওয়া গেছে। এ সময় যতন কুমার সাহা নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নিশ্চিত করেছেন।
ঢাকার মিছিলে মালিবাগ মুসলিম সমাজের’ একটি ব্যানার দেখা গেছে। অন্যদিকে চৌমুহনীতে মিছিলকারীদের ব্যানার ছিলো তৌহিদী জনতা। কুমিল্লায় কোরআন অবমাননার অভিযোগ তুলে এর প্রতিবাদে ঢাকায় ও চৌমুহনীর মিছিলকারীরা রাস্তায় নামলে পুলিশের বাধার মুখে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। বুধবার কুমিল্লায় একটি পূজামণ্ডপে কোরআন পাওয়ার পর ওই ঘটনার জের ধরে কুমিল্লা, চাঁদপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মন্দির ও পূজামণ্ডপে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে এ নিয়ে সংঘর্ষে অন্তত চারজন নিহত হয়েছে আর নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে পূজামণ্ডপে আগুন ধরিয়ে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বুধবারই ২২টি জেলায় বিজিবি মোতায়েন করে সরকার। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এদিকে শুক্রবার ভোর থেকে দেশজুড়ে মোবাইল ফোনে ফোরজি থ্রিজি ইন্টারনেট বন্ধ থাকার পর বেলা চারটার দিকে তা আবার চালু হয়েছে।
ঢাকায় যেভাবে সংঘর্ষ হলোঃ প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন বায়তুল মোকাররমে জুমার নামাজের মোনাজাত শেষ হওয়ার আগে এক দল ব্যক্তি শ্লোগান দিতে শুরু করে। তারা মিছিলসহ বের হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ মসজিদের গেইটে বাধা দিয়েও তাদের আটকে রাখতে পারেনি। মিছিলকারীরা বের হয়ে পল্টন মোড়ে আসলে সেখানে এবং আরো পরে বিজয়নগরেও বাধা দিয়ে পুলিশ তাদের আটকাতে পারেনি। পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙ্গে তারা অগ্রসর হতে চেষ্টা করলে কাকরাইল মোড়ে তিন দিক থেকে ব্যারিকেড দিয়ে তাদের ঘিরে ফেলে পুলিশ এবং সেখানেই সংঘর্ষ শুরু হয়।
সংঘর্ষ চলাকালে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয় এবং মিছিলকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে, টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে ও শটগান থেকে গুলি ছুঁড়ে মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এক পর্যায়ে মিছিলকারীরা অলিগলিতে ঢুকে পড়লে পুলিশ সেখানেও তাদের লক্ষ্য করে টিয়ারশেল ছুঁড়তে থাকে।