admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১৯ আগস্ট, ২০২১ ১১:২৭ পূর্বাহ্ণ
বাংলাদেশে টিকার নিবন্ধন করেও অপেক্ষায় প্রায় ২ কোটি মানুষ। বাংলাদেশে বেশ ঢাকঢোল পিটিয়ে করোনার গণটিকাদান কর্মসূচির দ্বিতীয় অধ্যায় শুরু হয়েছে চলতি মাসের প্রথম দিকে। সরকারের প্রচারণা আর মানুষের সচেতনতার কারণে এ নিয়ে দেখা গেছে ব্যাপক আগ্রহ। কিন্তু বাস্তবে যখন সবাই টিকা নেওয়ার চেষ্টা শুরু করলো, বিপত্তিটা বাধলো তখনই। প্রকটভাবে সামনে চলে আসলো টিকার সংকটের বিষয়টি। টিকাদান কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায়ে এসে গ্রামে গ্রামে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে করোনার টিকা। তবে সেটা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম।
এনআইডি নিয়ে কেন্দ্রে গেলেই টিকা গ্রহণ করা যাবে, প্রথমে এমন কথা বলা হলেও সেখান থেকে সরে এসেছে সরকার। সে অনুযায়ী নিবন্ধন করেও ফিরতি এসএমএস না পাওয়ায় টিকা নিতে পারছেন না অন্তত ২ কোটি মানুষ। নিয়মানুযায়ী, নিবন্ধন সম্পন্ন করার পর ওই ব্যক্তির মোবাইলে একটি এসএমএস পাঠিয়ে কেন্দ্রের নাম, টিকা গ্রহণের তারিখসহ আনুষঙ্গিক বিষয়গুলো নিশ্চিত করা হয়। সেটা দেখিয়ে টিকা নেন আবেদনকারী। এই ক্ষুদেবার্তা না আসা পর্যন্ত টিকা দেওয়া হচ্ছে না। আবার অপেক্ষা করেও ফল পাওয়া যাচ্ছে না।
অনেকের ক্ষেত্রে মাস অতিক্রম করলেও এসএমএস আসছে না। গত ৫ আগস্ট পর্যন্ত নিবন্ধন করেও এসএমএসের জন্য অপেক্ষায় ছিলেন ৭৫ লাখ মানুষ। অপেক্ষমান এই মানুষের সংখ্যা গত ১৭ আগস্টে এসে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৭২ লাখে। আজ ১৯ আগস্ট পর্যন্ত সংখ্যাটি দুই কোটি ছুঁইছুঁই। এই সময়ের মধ্যে টিকাদান কর্মসূচিও অব্যাহত আছে। অর্থাৎ, টিকা গ্রহণ করা মানুষের চেয়ে নিবন্ধন করা মানুষের সংখ্যা বাড়ছে কয়েকগুণ গতিতে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের টিকাবিষয়ক দপ্তরের পরিচালক মো. শামসুল হক বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলের কেন্দ্রগুলোর জন্য প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক টিকার ডোজ বরাদ্দ থাকে। সে অনুযায়ী, তালিকা দেখে আগে নিবন্ধন করা লোকদেরকে এসএমএস পাঠানো হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সফটওয়্যার ব্যবহার করে সাধারণত আগের দিন এসব এসএমএস পাঠানো হয়।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, শুধু তালিকা অনুযায়ী এসএমএস পাঠানো হচ্ছে, বিষয়টা এমনও নয়। এক্ষেত্রে কার দ্রুত টিকার প্রয়োজন, সেটাও বিবেচনা করে দেখা হচ্ছে। আবার বিভিন্ন ধরনের সুপারিশের কারণে অনেকে পরে নিবন্ধন করেও আগে এসএমএস পাচ্ছেন এবং টিকা দিতে পারছেন। এভাবে চলতে থাকলে টিকা গ্রহণে মানুষের আগ্রহে ভাটা পড়তে পারে বলে আশঙ্কা।