admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১০ এপ্রিল, ২০২০ ৪:১৭ পূর্বাহ্ণ
বাংলাদেশে আক্রান্ত ৩৩০ মৃত্যু ২১ জন গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫৪ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। এ সময় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ৮ মার্চের পর থেকে ভাইরাস শনাক্তের সংখ্যা ত্রিপল সেঞ্চুরি তথা ২০০।৩৩০ জন ছাড়িয়ে গেল, এ ছাড়া নতুন করে তিন ব্যক্তি মারা যাওয়ায় মৃতের সংখ্যা ২১ জন হলো। গতকাল দুপুর ২-৩০টায় মহাখালীর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ভবনে করোনাভাইরাস-সংক্রান্ত অনলাইন হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। এ সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. সানিয়া তাহমিনা এবং রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা উপস্থিত ছিলেন।
তথ্য উপস্থাপন করে ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় আইইডিসিআরে ৫৬৩টি এবং দেশের অন্যান্য ল্যাবরেটরিতে ৪২৫টি মিলিয়ে মোট ৯৮৮টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে পিসিআর মেশিনে ৯৮১টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। নিবির পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ৫৪ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের জীবাণু শনাক্ত হয়। যাদের মধ্যে ৩৩ জন পুরুষ এবং ২১ জন নারী রয়েছে। ফলে দেশে ভাইরাসটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২১৮ জনে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি আরও তিনজন মারা যাওয়ায় মৃতের সংখ্যা ২০ জন হয়েছে। তবে গত দুইদিনের ধারাবাহিকতায় বুধবার নতুন করে কেউ সুস্থ হননি। সুস্থ হওয়া রোগীর সংখ্যা ৩৩ জনেই থেমে আছে।
বাকি সাতজনের পরীক্ষার ফল পরে জানানো হবে। অনলাইন ব্রিফিংয়ে বলা হয়, নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ১১-২০ বছর বয়সী পাঁচজন, ২১-৩০ বছর বয়সী ১৫ জন, ৩১-৪০ বছর বয়সী ১০ জন, ৪১-৫০ বছর বয়সী সাতজন, ৫১-৬০ বছর বয়সী সাতজন এবং ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তি রয়েছেন ১০ জন। তবে আক্রান্ত ৫৪ জনের মধ্যে ঢাকার বাসিন্দা ৩৯ জন। প্রসঙ্গত, চীনে ছড়িয়ে পড়া ভাইরাসটি দেশে সংক্রমণ স্তরের চতুর্থ স্তরে পৌঁছেছে। তবে এটি প্রতিরোধে বাংলাদেশ সরকার দেশব্যাপী সাধারণ ছুটি ঘোষণাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ স্থানীয় প্রশাসনকে নিয়ে সারাদেশে কয়েক স্তরে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে।
বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসে প্রাণহানির সংখ্যা ৯০ হাজার ছাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাত ১১টা পর্যন্ত এই সংখ্যা ৯০ হাজার ৫৭ জন। এই সময় পর্যন্ত এখন পযন্ত সনাক্ত হওয়া রুগীর সংখ্যা ১৫ লাখের বেশী। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬৩০জন।
প্রাণহানিতে শীর্ষে অবস্থান করছে ইউরোপের কয়েকটি দেশ। এর মধ্যে ১৭ হাজার ৬৬৯ জন নিয়ে প্রাণহানিতে এখনো শীর্ষে রয়েছে ইতালি। এ ছাড়া স্পেনে ১৫ হাজার ২৩৮, ফ্রান্সে ১০ হাজার ৯৭, যুক্তরাজ্যে ৭ হাজার ৯৭ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা ১৫ হাজার ছাড়িয়েছে।
গত ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে ছড়িয়ে পড়ে এই ভাইরাস। দেশটি এখন করোনার সংক্রমণ অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এনেছে। তবে আমেরিকা ও ইউরোপে এটা ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির তথ্যমতে, শনাক্ত রোগীর সংখ্যা এখন সবচেয়ে বেশি যুক্তরাষ্ট্রে—চার লাখ ৩২ হাজার ৫৯৬। এর পরে আছে স্পেন—এক লাখ ৫২ হাজার ৪৪৬। এরপর পর্যায়ক্রমে রয়েছে ইতালি (এক লাখ ৩৯ হাজার ৪২২), জার্মানি (এক লাখ ১৩ হাজার ২৯৬) ও ফ্রান্স (৮৩ হাজার ৮০)।