admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৮ জানুয়ারি, ২০২৩ ১১:১৮ অপরাহ্ণ
শাহজাহান আলী, বগুড়া জেলা প্রতিনিধিঃ বগুড়া-৪ (কাহালু ও নন্দীগ্রাম) এবং বগুড়া- ৬ আসনের উপনির্বাচনে ২২ জন প্রার্থীর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল মান্নান আকন্দ ও বহুল আলোচিত হিরো আলমসহ ১১ জনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই অন্তে বাতিল হয়েছে। বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে ১০ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। অপরজন বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী মনসুর রহমান।
৮ জানুয়ারি রোববার দুপুর ২টার দিকে রিটানিং কর্মকর্তা ও বগুড়া জেলা প্রশাসক (ডিসি) সাইফুল ইসলাম ২২ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শেষে এ তথ্য জানান। বগুড়া-৪ ( কাহালু ও নন্দীগ্রাম) আসনে যাদের প্রার্থীতা বাতিল করা হয়েছে তারা হলেন-আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম,সাবেক বিএনপি নেতা কামরুল হাসান সিদ্দিকী জুয়েল,গোলাম মোস্তফা, ইলিয়াস আলী ও আব্দুর রশিদ।
বগুড়া-৬ (সদর) আসনেও আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলমের প্রার্থীতা বাতিল করা হয়েছে। বাতিল তালিকায় আরও রয়েছেন সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মান্নান আকন্দ, সাবেক বিএনপি নেতা সরকার বাদল,বগুড়া জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ কবির আহম্মেদ মিঠু, রাকিব হাসন ও বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী মনসুর রহমান।
তবে বাতিল ঘোষণা করা ১১ প্রার্থীর মধ্যে আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলমসহ ৯ জন আপিল করার কথা জানিয়েছেন। বাকী দুই জনের একজন সৈয়দ কবির আহম্মেদ মিঠু এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের মনসুর রহমান অনুপস্থিত ছিল।
হিরো আলম জানান,এর আগে ২০১৮ সালের নির্বাচনেও তার প্রার্থীতা বাতিল করা হয়েছিল। পরে আদালতের দারস্থ হয়ে তিনি প্রার্থীতা ফিরে পেয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন।
এদিকে বগুড়া-৬ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল মান্নান আকন্দের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় তার সঙ্গে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী রাগেবুল আহসান রিপুর এক সমর্থকের কথা কাটাকাটি হয়। এনিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি শান্ত করে।
রিটানিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক সাইদুল ইসলাম বলেন,যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে তারা ৯ জানুয়ারি থেকে ১১ জানুয়ারি মধ্যে নির্বাচন কমিশনে আপিলের সুযোগ পাবেন। বগুড়া-৪ ও বগুড়া-৬ আসনের বিএনপি দলীয় দুইজন সংসদ সদস্য দলীয় সিদ্ধান্তের প্রায় এক মাস আগে পদত্যাগ করেন।
এতে আসন দুটি শুন্য হলে নির্বাচন কমিশন ১ ফেব্রুয়ারি ওই দুই আসনের উপনির্বাচনে ভোট গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন। আসন দুটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য ৬ জানুয়ারি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ২২ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন। আজ রোববার যাচাই-বাছাইয়ের তারিখে ১১ জনের প্রার্থীতা বাতিল হয়।
ডিসি সাইদুল ইসলাম বলেন,স্বতন্ত্র প্রার্থীতার ক্ষেত্রে স্ব- স্ব আসনের মোট ভোটার এক শতাংশ ভোটারের সমর্থন সূচক স্বাক্ষর গ্রহণের যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে তা ৯ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী পুরোপুরি পালন করেননি। অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ কবির আহম্মেদ মিঠু নামে ঋণ খেলাপির অভিযোগ রয়েছে। আর বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী মনসুর রহমানের মনোনয়নপত্রে তার স্বাক্ষর নেই। এমনকি তিনি হলফ নামাও দাখিল করেননি।ফলে ওই ১১ জনের প্রার্থীতা বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।