admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২৩ মে, ২০২২ ৭:৪৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুর প্রতিনিধিঃ পদ্মায় পানি বৃদ্ধির ফলে ফরিদপুরে ইতিমধ্যেই তলিয়ে গেছে নদীর তীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের শতাধিক একর জমির ফসল। এ সব ফসলের মধ্যে রয়েছে বাদাম, তিল ও ধান। পাশাপাশি বেড়েছে ভাঙন। নদীর তীরে ও নিম্নাঞ্চলের এসকল আবাদি জমির ফসলের উপর জীবিকা নির্বাহ করা মানুষগুলো পড়েছে দু:চিন্তায়। প্রতিদিন এভাবে পানি বৃদ্ধি চলমান থাকলে আরো ব্যপক ক্ষতির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
পদ্মা নদীর গোয়ালন্দ পয়েন্টের গেজ রিডার সালমা খাতুন জানান,সোমবার (২৩ মে) পর্যন্ত পদ্মার পানি ৬.৬৯ সেন্টিমিটার প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘন্টায় ২৪ সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে। জানাগেছে, ফরিদপুর সদর উপজেলার পদ্মার চর এলাকা ডিক্রিরচর ইউনিয়নের পালডাঙ্গি এলাকা। নদীর দুই প্রান্তেই তলিয়ে গেছে বিস্তৃর্ন ফসলের খেত। পুরো চর জুড়ে বেশিরভাগ বাদাম খেত। বাদাম খেত পানিতে তলিয়ে গেছে। বাদাম এখনও অপরিপক্ক। নিরুপায় হয়ে পানিতে তলিয়ে যাওয়া বাদাম তুলছে চাষিরা। এছাড়া তলিয়ে যাওয়া ধান ও তিল তুলছে কৃষকরা।
এলাকার বাদাম চাষী রুস্তম আলী, রমজান শেখ বলেন, প্রায় ১৫ বিঘা জমির বাদাম গত পাঁচ দিনের ব্যবধানে পদ্মার পানি বৃদ্ধির ফলে পুরো জমির বাদাম এখন পানির নিচে। তলিয়ে যাওয়া বাদাম চড়া মূল্যের দিনমজুরি নিয়ে তুলতে হচ্ছে। বাদাম এখনও পরিপক্ক হয়নি।তাও তুলতে হচ্ছে। একেবারে সর্বনাশ হয়ে গেছে। বিরাট ক্ষতির মুখে পড়তে হলো। এলাকার আলেয়া বেগম বলেন, এবার বাদাম খুব ভালো হয়েছিলো। এক একর বাদাম চাষে খরচ হয়েছিল ৩৫ হাজার টাকা। এই আসল টাকাও উঠবে না। সারাবছর কি খেয়ে বাঁচবো এ চিন্তায় আছি। পানিতে তলায় গেছে। তারপরও তুলতেছি।দেখি কিছু হয় নাকি।তা না হলে এই বাদাম অন্তত গরু,ছাগলকে দিয়ে খায়াতে হবে।
বাদাম, ধান ও তিল চাষী জুলমত শেখ,আলী আকবর বলেন, প্রায় ২০ বিঘা জমিতে বাদাম,ধান ও তিল আবাদ করেছিলাম। আর মাত্র কয়েকদিন থাকলে ভালোভাবে ফসল ঘরে তুলতে পারতাম। পানি বৃদ্ধির ফলে তা আর হলো না।সর্বনাশ হয়ে গেলো। কিভাবে এই ক্ষতি পুষাবো? আমাদের মতো অনেক চাষির প্রায় শতাধিক একর ফসলি জমির ফসল পদ্মার পানি বৃদ্ধির ফলে তলিয়ে গেছে। ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার পাচুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মিজানুর রহমান বলেন,আমার ইউনিয়নের মধুমতি নদীর পানি বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। চুড়িয়া,চরপাচুড়িয়া,নারানদিয়া,চর নারানদিয়াসহ নদীর তীরের বাদাম খেত,ফসলি জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
এ ব্যপারে সদর উপজেলার ডিক্রিরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেহেদি হাসান মিন্টু বলেন, প্রতিদিন বেড়েই চলেছে পদ্মার পানি। আমার ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকাই চরাঞ্চলবেষ্টিত। এখানে বসবাসরত বেশিরভাগ চাষিরা বাদাম,ধান ও তিল চাষ করে থাকে। পানি বৃদ্ধির ফলে নিম্নাঞ্চলের প্রায় শতাধিক একর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এ বিষয়ে ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পার্থ প্রতিম সাহা বলেন, পদ্মায় এই সময়ে অপ্রত্যাশিতভাবে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিদিনই পানি বাড়ছে। গত এক সপ্তাহে দুই মিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এভাবে পানি বৃদ্ধি পেতে থাকলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান আরো বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে ফরিদপুরের কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ পরিচালক কৃষিবিদ ড.হযরত আলী বলেন, এবছর জেলায় ৫ হাজার ২শ ৮৫ হেক্টর জমিতে বাদাম আবাদ করা হয়েছে। এছাড়া ৫হাজার ৩শ ৭৪ হেক্টর জমিতে তিল ও ২২ হাজার ৯শ ৮৫ হেক্টর জমিতে ধান আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে চরাঞ্চলে বাদাম ও তিল আবাদের পরিমান বেশি হয়েছে। এবার লক্ষ্যমাত্রা বেশ ভালো ছিলো।পানি বৃদ্ধির কারনে চাষিদের অনেক ক্ষতি হয়ে গেলো।ক্ষতিগ্রস্থ চাষিদের তালিকা তৈরি করে সরকারিভাবে সহযোগিতা করার চেষ্টা করা হবে।