admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১৬ এপ্রিল, ২০২০ ৭:০৭ অপরাহ্ণ
যেভাবে দেশে দেশে ভিড়ার চেষ্টা করে বারবার ব্যর্থ হয় রোহিঙ্গাবোঝাই ট্রলারটি । প্রায় দুই মাসের মত সময় ধরে নৌকাটি সমুদ্রে ভাসমান ছিল প্রায় ৪৭ দিন সমুদ্রে ভেসে বেড়ানোর পরেও মালয়েশিয়া ঢুকতে না পেরে অবশেষে বাংলাদেশে ফিরে আসে গতকাল মধ্যরাতে উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গা বোঝাই ট্রলারটি। বুধবার দিবাগত রাতে বাংলাদেশের টেকনাফ উপজেলার বাহাড়ছড়া সৈকতের জাহাজপুরা ঘাটে এই ট্রলারটি আসলে সেটির নিয়ন্ত্রণ নেয় পুলিশ ও কোস্টগার্ড। ঐ ট্রলার থেকে ৩৯৬ জন রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করা হয়েছে। শরণার্থী শিবির থেকে পালিয়ে রোহিঙ্গারা কীভাবে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করলো, সেই বর্ণনা ট্রলারে থাকা রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে জানা সম্ভব হয়নি। তবে যেসব পুলিশ সদস্য রোহিঙ্গাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে তাদের কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ জানা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেছেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সেন্টমার্টিন উপকূল থেকে একটি ট্রলারে চেপে ৪০০’র বেশি রোহিঙ্গা মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। এর আগে কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন ছোট ছোট নৌকায় করে তারা সেন্টমার্টিন উপকূলে অপেক্ষারত বড় ট্রলারে গিয়ে উঠে। উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গাদের অনেকেই পুলিশকে জানিয়েছে, সেন্টমার্টিন থেকে ট্রলার একটানা সাতদিন চালানোর পরে তারা মালয়েশিয়ার কাছাকাছি যায়।

এর আগে বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরগুলো থেকে বিভিন্ন সময়ে রোহিঙ্গাদের সাগরপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে কিন্তু সেখানে মালয়েশিয়ার নৌ বাহিনী তাদের ভিড়তে দেয়নি। রোহিঙ্গা বোঝাই ট্রলারটি মালয়েশিয়া ঢুকতে না পেরে মিয়ানমার সীমান্তে ফিরে আসে। কিন্তু সেখানেও তাদের জায়গা হয়নি। মিয়ানমারের নৌ বাহিনী তাদের বিভিন্ন উপায়ে ভয়-ভীতি দেখিয়ে ট্রলারটি ফেরাতে বাধ্য করে। ইতোমধ্যে তীব্র রোদ, পানিশূন্যতা এবং খাবারের অভাবে ট্রলারে থাকা অনেকের অবস্থা গুরুতর হয়ে ওঠে। এমন অবস্থায় ট্রলারটি আবারো মালয়েশিয়ার দিকে রওনা দেয়। কিন্তু সেবারো তারা ব্যর্থ হয় মালয়েশিয়ায় ঢুকতে। পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে মালয়েশিয়ার নৌবাহিনী কয়েকশ প্যাকেট খাবার দিয়ে ট্রলারটিকে আবারো ফিরিয়ে দেয়।
ট্রলার থেকে উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গারা পুলিশকে জানিয়েছেন, ট্রলারটি যখন মিয়ানমার এবং মালয়েশিয়ার সীমান্তে আসা-যাওয়া করছিল, অভুক্ত থাকার কারণে বেশ কিছু রোহিঙ্গা ট্রলারে মারা যায়। পরে তাদের সমুদ্রে ভাসিয়ে দেয়া হয় বলে পুলিশকে জানিয়েছেন উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গারা। ট্রলারে থাকা রোহিঙ্গাদের ছবিতে দেখা যাচ্ছে , অধিকাংশ রোহিঙ্গা শীর্ণকায় এবং শারীরিকভাবে বিধ্বস্ত।
কক্সবাজারের জেলার পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বলেছেন, যেসব ট্রলারে যেসব রোহিঙ্গা ছিল, তারা কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে থাকতো কি না সেটি যাচাই করে দেখা হচ্ছে। কক্সবাজার প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছে, এসব রোহিঙ্গাকে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা বা ইউএনএইচসিআর-এর কাছে হস্তান্তর করা হবে। উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে কেউ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত আছে কি না সেটি পরীক্ষা করা হবে। এছাড়া তাদের দুই সপ্তাহ কোয়ারেন্টিনে রাখা হবে। এরপর রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পে ফেরত পাঠানো হবে বলে কর্মকর্তারা বলছেন।