admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১ এপ্রিল, ২০২১ ১১:৫৪ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রী যা বললেন ব্যারিস্টার মওদুদকে নিয়ে। প্রয়াত বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদকে ‘মেধাবী ও ভদ্রলোক’ আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশপ্রেম কাজে লাগালে তিনি হয়তো দেশকে অনেক কিছু দিতে পারতেন, এটাই বাস্তবতা। সংবিধানের নিয়ম রক্ষায় বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় শুরু হয় জাতীয় সংসদের দ্বাদশ অধিবেশনের প্রথম বৈঠক। এদিন আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর মৃত্যুতে শোকপ্রস্তাব আনা হয়।
এ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বার বার দল বদল করা মওদুদের বিষয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, ছাত্রলীগ করেননি তিনি, ছিলেন সব সময় সরকার ঘেঁষা। ব্যারিস্টারি পাস করে ১৯৬৯ সালে দেশে আসলে কবি জসীমউদ্দিনের জামাই হিসেবে সহানুভূতি পেয়েছেন তিনি। মওদুদের কিছু কাজ বিভিন্ন সময়ে একটু ভিন্নতর ছিল মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, দেশের তথ্য গোপন তথ্য পাচারের জন্য ৭৩ সালে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। কবি জসীমউদ্দিন সাহেব আমাদের বাসায় এসে বঙ্গবন্ধুর কাছে অনুরোধ করলে মুক্তি পান।
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় ব্যারিস্টার মওদুদের ভূমিকার বিষয়ে তিনি বলেন, মওদুদ তার জীবনীতে এই মামলায় বঙ্গবন্ধুর পক্ষে আইনজীবী ছিলেন বলে উল্লেখ করেছেন। আসলে তিনি অ্যাপয়েনটেড আইনজীবী ছিলেন না। ড. কামাল হোসেন ও বঙ্গবন্ধুর পিএস মোহাম্মদ হানিফের সঙ্গে ঘুরতেন জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলামের সাথে খুব ঘনিষ্ঠতা ছিল তার, তারা দুই জন একসাথে চলতেন।
বঙ্গবন্ধুকে বন্দি রাখা ক্যান্টনমেন্টে ব্যারিস্টার মওদুদসহ অনেক নেতা ছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা বঙ্গবন্ধুকে প্যারোলে নেয়ার জন্য প্রস্তুত ছিলেন, সেটাই বলার চেষ্টা করেন তারা। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে মুক্ত মানুষ হিসেবে আনার কথা বলেন আমার মা।মওদুদ আহমদ সব সময় দল বদল করতে পছন্দ করতেন মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ এলে ৬৯ এ আওয়ামী লীগে মিশে গেলেন। ৭৫-এর পর বিএনপিতে যোগ দিলেন। সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে ক্ষমা করে এরশাদ আইনমন্ত্রী করলো। পরে আবার বিএনপিতে ফেরেন তিনি।
ব্যারিস্টার মওদুদ মারা গেলে তার স্ত্রী হাসনা মওদুদের কাছে শোক বার্তা পাঠিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, হাসনার সঙ্গে আমার পরিচয় ছিল, তার সঙ্গে কথা বলেছি। বাংলাদেশের প্রথম পোস্ট মাস্টার জেনারেল মওদুদ আহমদ সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সরকারের প্রথমে মন্ত্রী, পরে উপ-প্রধানমন্ত্রী হন। আরেক সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদের সরকারের মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী ও উপ-রাষ্ট্রপতি মনোনীত হন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের আইনমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮১ বছর বয়সে গত ১৬ মার্চ মারা যান তিনি।