admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১১ জানুয়ারি, ২০২৩ ৬:৩০ অপরাহ্ণ
মোঃ জুলহাস উদ্দীন,স্টাফ রিপোর্টরঃ বাংলাদেশের সর্ব উত্তরে তেঁতুলিয়ায় শীতর প্রধান দেশের নজরকারা ফুল টিউলিপ। সেই ফুল চাষ করা লক্ষে প্রস্তুত মুলোক কাজ করে যাচ্ছে চাষিরা। দ্বিতীয় বারের মতো ২ একর জমিতে ফার্ম আকারে চাষ করছেন প্রান্তিক ক্ষুদ্র চাষীরা। উত্তরাঞ্চলের শীত মৌসুমে বেশ শীতের তাপমাত্রা কম থাকায় টিউলিপ চাষের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে এবারে ২০ জন চাষি নিয়ে টিউলিপ উৎপাদনে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইকো সোস্যাল ডেভলেভমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)। প্রকল্পটিতে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন-পিকেএসএফ।
তেঁতুলিয়া উপজেলার দর্জিপাড়া গ্রামের ২০ জন ক্ষুদ্র চাষি পরীক্ষামুলকভাবে ২ একর জমিতে ১০ প্রজাতির ১ লক্ষ টিউলিপের চাষ করছেন। জানুয়ারির ১০ তারিখে লাগিয়ে ছিলেন বীজ। সাধারণত ১৫-২০ দিনের মধ্যে ফুল ধরার কথা থাকলেও ২৩ দিনের মধ্যে ধরবে এই ফুল। টিউলিপের দৃষ্টি নন্দন সৌন্দর্য ও হাসি ফোটাবে মনে করে। ইএসডিওর নারী সদস্য ও উদ্যোক্তারা টিউলিপ চাষ করছেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন গত বারে ন্যায় এবারে সঠিকভাবে বাজারজাত করতে পারলে যেমন অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ঘটবে তেমনি পর্যটনে নতুনমাত্রা তৈরি করবে। সোমবার সকালে দর্জিপাড়া গ্রামে টিউলিপ চাষ বাগানটি ঘুরে দেখা যায়, বাগানগুলোতে জমি প্রস্তুতি শেষ করে বীজ লাগানো হচ্ছে। টিউলিপ চাষ প্রকল্পের উদ্বোধনঃ সংস্থার ডিপিসি আইনুল হোক জানান,ইএসডিও আরএমটিপি প্রকল্পের আওতায় পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)’র আর্থিক সহযোগিতায় পঞ্চগড় জেলার তেতুলিয়া উপজেলার দর্জিপাড়া গ্রামে ২(একর) জমিতে টিউলিপ ফুলের চারা রোপনের উদ্বোধন করা হলো। সকালে জনাব ড.মুহম্মদ শহীদ উজ জামান স্যার, নির্বাহী পরিচালক, ইএসডিও এবং জনাব ড.সেলিমা আখতার ম্যাডাম অনলাইনে কৃষক-কৃষাণীর সাথে যুক্ত হয়ে চারা রোপন কার্ক্রমের উদ্বোধন করেন। এবছর বাংলাদেশে সর্ববৃহৎ আকারে নেদারল্যান্ড এবং কাশ্মির এর আংগিকে তৈরী করা হচ্ছে বড় বাগান যা পর্যটকদের আকৃষ্ট করবে । আগামি ১২ হতে ১৫ দিনের মধ্যেই কলি আসবে এবং ৩০ জানুয়ারী”২০২৩ এর মধ্যেই ফুলে ফুলে সৌরভ ছড়াবে ভিনদেশী টিউলিপ। পর্যটকদের জন্য আবাসন ব্যবস্থা, স্যানিটেশন ব্যবস্থা, দেশীয় লাফারশাকের ঝোল আর শিতলের ভর্তা, হাঁসের মাংশ ভাত, দেশী মুরগী, নিরাপদ সবজিসহ থাকবে গাভীর খাটি দুধ ও দইসহ সব সুস্বাদু খাবারের ব্যবস্থা। টিউলিপ দিয়ে তৈরী করা হচ্ছে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা। দর্জিপাড়া গ্রামের ২০ জন নারী উদ্যেক্তা তাদের কোমল হাতের পরশে রোপন করছেন ১০ রংঙ্গের টিউলিপ যা কৃষি ক্ষেত্রে বয়ে আনবে ব্যাপক সফলতা এবং এগ্রো-টুরিজোমের ক্ষেত্রে ভুমিকা রাখবে।
কৃষক অন্তর ও চাঁন মিয়া জানান, গতবারে তুলোনায় এবারে টিউলিপের জন্য বড়করে উদ্ধোগ নিয়েছে ইএসডিও প্রায় ২একর জমিতে টিউলিপ রোপন চাষ করেছে।এবার আশা করি টিউলিপ ফুল দেখতে দুর দুরান্ত হতে পর্যটকরা আসবেন।আজকে রোপন করেছি ১৮ হতে ২০ দিনের মধ্যে আমরা টিউলিফ ফুল ফুটবে সে ক্ষেত্রে বাহির হতে আসা পর্যটকদের আসার জন্য আহবান জানাচ্ছি।এবং পর্যটকদের জন্য আমরা এবারে কিছুটপের ব্যাবস্থা করেছি তারা যেন বাড়িতে নিয়ে পরিবার পরিজনকে টিউলিফ ফুল দেখাতে পারে। স্থানিয় রিযাজুল ইসলাম জানান,আমাদের দেখে আনন্দ লাগতেছে আমাদেন এলাকায় ইএসডি নামক প্রতিষ্ঠান এধরোনের আযোজন করেছেন। এর আগে যেহারে পর্যটক টিউলিফ ফুল দেখতে এসেছিল যেহেতু এবারে বড় আকারে টিউলিফ ফুল চাষ করেছে। তাহলে এবার আরো বেশি পর্যটক আসবে আমরা আশাবাদী।
উদ্বোধণী অনুষ্ঠানে সকল কৃষক-কৃষাণী, কৃষিবীদ কল্যান মহন্ত, এরিয়া ম্যানেজার নগেন্দ্রণাথ, শাখা ব্যবস্থাপক অলিয়ার রহমানসহ অন্যান্য কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক কর্মী আশরাফুল ইসলাম বলেন, তেঁতুলিয়া সম্ভাবনাময় পর্যটন অঞ্চল। প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ পর্যটকের সমাগম ঘটে এ অঞ্চলে। এখান থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা, চতুর্দেশীয় স্থলবন্দর, সমতলের চা বাগান দেখা যায়। তেমনি বছর ইএসডিও পরীক্ষামূলকভাবে নেদারল্যান্ড থেকে টিউলিপ চাষ করে পর্যটক আকৃষ্ট করেছিল। সেখানে প্রান্তিক চাষিরা বেশ লাভবান হয়েছিল। এবার ব্যাপকভাবে বড় পরিসরে বিশ জন কৃষককে নিয়ে সম্মেলিতভাবে টিউলিপের বীজ বপন করা হচ্ছে। গত বছর যেভাবে লাভ হয়েছিল, এ বছর তারা প্রত্যাশা করছে বেশ আয় হবে এবং পর্যটনের সমৃদ্ধি ঘটাবে এ রাজকীয় টিউলিপ।