আব্দুল্লাহ্ আল মামুন || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২০ নভেম্বর, ২০২৫ ১১:৫২ পূর্বাহ্ণ
পঞ্চগড়ে চাইনিজ কুড়াল ও ছোঁড়া দিয়ে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে আরিফ হোসেন নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে।ওই হামলার ঘটনায় সদর থানায় মামলা রেকর্ড না করার অভিযোগ উঠেছে ওসি আবদুল্লা হিল জামানের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি বিবাদীরা রাজনৈতিক প্রভাবশালী হওয়ায় পুলিশ নিরব দর্শকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।
পঞ্চগড় পৌরসভা এলাকার কেচেড়া পাড়া এলাকায় গত রবিবার (১৬ নভেম্বর) গুরুতর আহত হন মোস্তফা জামাল (৫৫) নামে এক ব্যক্তি। তিনি একই এলাকার আব্দুল করিমের ছেলে।অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী আরিফ হোসেন, আবু তাহের রেজাসহ তাদের পরিবারের অন্তত চারজন ব্যক্তি এই হামলায় অংশ নেন। এইদিকে আরিফের বাবা আব্দুল কাদের ও শাহিনুরের বাবা মোস্তফা জামাল আপন চাচাতো ভাই।
মামলা এজাহার ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টায় সদর থানা পুলিশের একটি টিম শাহিনুরের বাসায় গিয়ে তাকে ডাকেন। শাহিনুর তাতে সাড়া দিলে সদর থানার ওসি তাকে ডেকছেন বলে জানানো হয়। এরপর শাহিনুর উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের কথা মতো তাদের সাথে থানায় যান। এরপর তাকে কোন কিছু জিজ্ঞাসা না করেই লকআপে রাখা হয়। পরদিন সকাল ১০টায় ওসি কথা বলবেন বলে জানানো হয়।
শনিবার (১৫ নভেম্বর) সকালে ওসি আব্দুল্লা হিল জামান শাহিনুরের সাথে কথা বলেন। সে সময় তিনি শাহিনুরের আওয়ামী লীগের সাথে সম্পৃক্ততা আছে কিনা জানতে চান। কিন্তু শাহিনুর কোন দলের সাথে সম্পৃক্ত না বলে জানান। বিষয়টি যাচাই শেষে পুলিশ শাহিনুরের কোন রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা না পেলেও গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করে।
ওইদিন (শনিবার) বিকেলে আদালতে জামিন শেষে বাসায় ফিরেন শাহিনুর। শাহিনুরের অভিযোগ এর আগেও প্রতিবেশী আবু তাহের রেজা তাকে হুমকি/ধামকি দিয়েছিল। আওয়ামী লীগ ট্যাগ দিয়ে মামলা দিয়ে হয়রানি করবে বলেও হুমকি দেওয়া হয় তাকে।
শনিবার রাতে শাহিনুরের বাবা মোস্তফা কেন তার ছেলেকে এভাবে হয়রানি করা হচ্ছে সেটার প্রতিবাদ জানাতে গেলে বিবাদীরা আবারো হুমকি দেন। ঘটনার জেরে রবিবার বিকেলে মোস্তফা জামাল আরিফদের বাড়ির সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় মোস্তফাকে চাইনিজ কুড়াল ও ছোঁড়া দিয়ে একাধিক কোপ দেয় আরিফ ও তার ছোট ভাই রাকিব। এতে মোস্তফার বাম পায়ের রগ এবং কোমড়ের উপরে গভীর ভাবে কেটে যায়।পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা মোস্তফাকে উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসা চলছে মোস্তফার। তার অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক।
এই ঘটনায় শাহিনুর বাদী হয়ে রবিবার (১৬ নভেম্বর) রাতেই আরিফ হোসেনকে প্রধান আসামী করে মোট ৬ জনের নামে সদর থানায় এজাহার দায়ের করেন। তবে শাহিনুরের দাবি, এজাহার দায়েরের পর থেকেই টালবাহানা করতে থাকে পুলিশ। মামলা রেকর্ড না করে উলটো এজাহার থেকে আসামীর নাম বাদ না দিলে মামলা রেকর্ড হবে না বলেও জানানো হয়। বুধবার সকাল পর্যন্ত তাদের মামলাটি নথিভুক্ত করেননি ওসি আব্দুল্লা হিল জামান। পরে থানায় মামলা নথিভুক্ত না হওয়ায় উপায়ন্তর না পেয়ে আদালতে মামলা করেন ভুক্তভোগীর পরিবার।
তবে আরিফদের পরিবারের দাবি, রবিবার সকালে আরিফের বাবা (আব্দুল কাদের) শাহিনুরদের বাড়ির সামনে দিয়ে পার্শ্ববর্তী দোকানে যাওয়ার সময় শাহিনুরের পরিবার তার পথরোধ করে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এক পর্যায়ে আব্দুল কাদেরকে উলঙ্গ করা হয়। এই ঘটনায় আব্দুল কাদের মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়ে আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন বলেও জানায় একটি সূত্র। তবে সেদিনের ঘটনার পর আরিফদের পক্ষ থেকে থানায় এজাহার জমা দিলে পুলিশ মামলাটি নথিভুক্ত করে।
এইদিকে ওসি আব্দুল্লা হিল জামান সময়ের কণ্ঠস্বর এবং পুলিশ সুপারকে মামলা না নেওয়ার পেছনে ভিন্ন কারণ জানান।অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লা হিল জামান বলেন, শাহিনুরের এজাহারে এনআইডি নম্বর ভুল ছিল। আমরা তা সংশোধন করে পুনরায় এজাহার জমা দিতে বলেছি। কিন্তু তিনি তা করেননি। এছাড়াও কিছু বিষয় আছে। তবে তারা এনআইডি নম্বর সংশোধন করে দিলে মামলা নিব।
অপরদিকে পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সি বিষয়টির খোঁজ নিয়ে বলেন, বাদী এজাহারের স্বাক্ষর না করায় মামলা নথিভুক্ত করতে পারেনি পুলিশ। বাদীকে থানায় আসতে বলুন পুলিশ মামলা নিবে।যদিও ওসির এমন মন্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বাদী শাহিনুর রহমান। তিনি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন, এজাহারে এনআইডি নম্বর যেমন ভুল ছিল না তেমনি এজাহারে স্বাক্ষর করিনি এটাও মিথ্যা। এজাহারে স্বাক্ষর না থাকলে ডিউটি অফিসার সেদিন এজাহার জমা নিতেন না।
পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্), পঞ্চগড় ফরহাদ হোসেন বলেন, যদি কগনিজিবল অফেন্সের কোন ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে ভিকটিম আইনের মধ্যে থেকে যতটুকু সহযোগিতা পাওয়ার কথা তা পাবে। এখানে অন্য বিবেচনার সুযোগ নেই।
| Sun | Mon | Tue | Wed | Thu | Fri | Sat |
|---|---|---|---|---|---|---|
| 1 | 2 | 3 | 4 | 5 | 6 | |
| 7 | 8 | 9 | 10 | 11 | 12 | 13 |
| 14 | 15 | 16 | 17 | 18 | 19 | 20 |
| 21 | 22 | 23 | 24 | 25 | 26 | 27 |
| 28 | 29 | 30 | 31 | |||