admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১৮ আগস্ট, ২০২৪ ১০:৪৯ পূর্বাহ্ণ
আব্দুল্লাহ্ আল মামুন,পঞ্চগড় প্রতিনিধি: বৈষম্য বিরোধী ছাত্রআন্দোলনে বোদা উপজেলার মাড়েয়া ইউনিয়নের শহীদ আবু সাঈদ এর পরিবারের সাথে দেখা ও ১ লক্ষ টাকা সহায়তা দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পঞ্চগড় জেলা আমীর অধ্যাপক ইকবাল হোসাইন, এ সময় উপস্থিত ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন পঞ্চগড় জেলার
প্রধান সমন্বয়ক মোঃ ফজলে রাব্বি, জেলা বায়তুলমাল সম্পাদক মাওলানা মনিরুল ইসলাম উপজেলা আমীর মাওলানা আব্দুল বাসেট, উপজেলা, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা জাহিদুর রহমান ও বেংহারী ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা এম আবু সাঈদ।গত ১৯ জুলাই (শুক্রবার) কোটা আন্দোলনে সংঘর্ষের সময় ঢাকার মোহাম্মদপুরের বছিলা এলাকায় মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান তিনি।
সরেজমিনে আবু সাঈদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, জীর্ণশীর্ণ মাটির দেওয়ালের বাড়ির দুটি ঘরে থাকেন সাঈদের পরিবার। সম্পদ বলতে ভিটেমাটির ১৫ শতক জমি। তাও আবার স্থানীয় কৃষি ব্যাংকে দায়বদ্ধ রয়েছে। ব্যাংক থেকে ৪৫ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে দোকান শুরু করেছিলেন সাঈদ। এখন সুদে আসলে ঋণের পরিমাণ প্রায় এক লাখ ২০ হাজার। পরিবারে ঋণের বোঝা রেখে চলে যান তিনি।
এ অবস্থায় একমাত্র উপার্জনক্ষম অভিভাবক হারিয়ে দিশেহারা স্ত্রীসহ পরিবারের সদ্যরা। আবু সাঈদের স্ত্রী মাজেদা বেগম, মেয়ে শাহনাজ আক্তার ও ছেলে মামুন ইসলামকে নিয়ে ছিল সংসার। সাঈদের পাঠানো টাকায় কোনোমতে চলত সংসার।
জানা গেছে, প্রায় ১২ বছর আগে ঢাকায় এসে রিকশা চালানো শুরু করেন আবু সাঈদ। বছর দুয়েক আগে মোহাম্মদপুরের বছিলা ৪০ ফিট এলাকায় ভাড়া নিয়ে পানের দোকান দেন তিনি। শুক্রবার (১৯ জুলাই) নামাজের পর দোকানের জন্য পলি ব্যাগ আনতে সড়কে বের হলে সংঘর্ষের মধ্যে পড়েন তিনি। একপর্যায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে সড়কেই পড়ে থাকে আবু সাঈদের নিথর দেহ। পরদিন প্রতিবেশীরা তার মরদেহ দাফনের জন্য পঞ্চগড়ে পাঠিয়ে দেন। পারিবারিকভাবে তাকে দাফন করা হয়।
নিহত আবু সাঈদের ছেলে মামুন ইসলাম বলেন, ঢাকায় সংঘর্ষের সময় বাবার মাথায় গুলি লেগেছিল। গুলি মাথার একপাশ দিয়ে ঢুকে আরেক পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। আমি এতিম হয়ে গেলাম।
নিহতের বড় ভাই শওকত আলী বলেন, ৫-৭ বছর ধরে ঢাকায় রিকশা চালায় খায়। শুনতাম এখানের সংসার আগে থেকে চালাত, এরপর ২-৩ বছর পর শুনলাম আমার ছোটভাই সেখানে আরেকটা সংসার করছে। বাড়িতে কিছু টাকা দিত। এখন দোকান করে পান বিক্রি করে বলে শুনেছি।
স্থানীয় বাসিন্দা মশিউর রহমান প্রধান বলেন, আবু সাঈদ আমার গ্রামবাসী এবং আমার পাশের বাড়ির, সম্পর্কে আমার ভাই হবে। সে জুমার নামাজের পর কোটা আন্দোলনের সময় সে রাস্তায় যায় দোকানের পলি আনতে।পরে তার মাথায় গুলি লাগে এবং সঙ্গে সঙ্গে সে মারা যায়।
বোদা উপজেলার মাড়েয়া ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সিরাজুল হক বলেন, আবু সাঈদের পরিবার খুব দরিদ্র। ভিটেবাড়ি ছাড়া কোনো জায়গাজমি নেই। সে অনেক ভালো ছিল। তার রোজগারের টাকায় ছেলেমেয়ের লেখাপড়া, খাওয়াদাওয়া, ভরণপোষণ সবই সাঈদের সামান্য ইনকামে চলত।
বোদা থানা পুলিশের ওসি মোজাম্মেল হক বলেন, মরদেহ দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর আমরা বিষয়টি জানতে পারি। পরে জেনেছি আবু সাঈদ ঢাকায় দোকানি ছিলেন। তিনি কীভাবে মারা গেছেন জানি না। ময়নাতদন্ত বা আইনগত বিষয় কতটুকু কী হয়েছে তাও জানি না। তবে এ বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।
বোদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহরিয়ার নজির বলেন, নিহত ব্যক্তির খোঁজখবর নিতে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানকে বলা হয়েছে। এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো তথ্য জানা যায়নি এবং আমাদের কাছেও কোনো তথ্য জানতে চাওয়া হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো সাহায্য সহযোগিতার আবেদন করলে সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হবে।