admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২ জানুয়ারি, ২০২২ ১০:৩১ পূর্বাহ্ণ
রফিকুল ইসলাম জিলু, স্টাফ রিপোর্টারঃ নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আইভির জন্য পাঁচ লাখ টাকা দাবি! জানা গেছে, ফাঁস হওয়া এই ফোনালাপের দুই প্রান্তে ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত খোকন সাহা ও সোনারগাঁ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম (নান্নু)। ফোনটি করা হয়েছিল গত ২৪ ডিসেম্বর। তিন মিনিটের ওই ফোনালাপে বেশ কয়েকবার পাঁচ লাখ টাকা পাঠানোর কথা বলেন খোকন সাহা। কিন্তু রফিকুল ইসলাম বলেন, আমি কেন টাকা দেব? আমি তো সিটি করপোরেশনের কাজও করি না। আমি সোনারগাঁয়ে কাজ করি। তখন খোকন সাহা তাকে হুমকি দিয়ে বলেন, টাকা যদি পাঠাও, তাহলে আমি সোনারগাঁয়ের কাজ করে দেব। না পাঠালে উল্টাইয়া যাইবগা।
তোমাকে পরিষ্কার বলে দেই, তোমার পক্ষে কেউ নাই। তোমার নামে দলের অনেকে অনেক কথা কয়। আমি তো দলের কাজ করতাছি। আইভীকে পাস করানোর জন্য কাজ করতাছি। আইভি পাস করলে তোমার সব কাজ করে দিমু। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন গতকাল এই ফোনালাপ নারায়ণগঞ্জের সাধারণ মানুষের কাছে ছড়িয়ে পড়ে। শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত খোকন সাহা এবার সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন। তবে দলীয় মনোনয়ন পান আগের মেয়র আইভীই। এর পরে অবশ্য খোকন সাহা কোনো মন্তব্য করেননি। এ অবস্থায় আইভীর জন্য টাকা দাবি করায় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। এ ব্যাপারে খোকন সাহা বলেন, দলের কর্মী ও ছোট ভাই হিসেবে তার কাছে আমি টাকা চাইতেই পারি। তার অনেক সমস্যা, আবার টাকাও আছে। তাই চেয়েছি। তবে নির্বাচনের জন্য কোনো টাকা চাওয়া হয়নি।
অন্যদিকে, সোনারগাঁ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন, ২৪ ডিসেম্বর রাতে খোকন সাহা তাকে ফোন করে আইভীর নির্বাচনী প্রচারের জন্য পাঁচ লাখ টাকা চেয়েছিলেন। তিনি দাবি করেন, খোকন সাহার সঙ্গে আমার রাজনৈতিক কোনো সম্পর্ক নেই। আর আমার তো কোনো সমস্যাও নেই। তাই টাকাও দিইনি তাকে। এদিকে, ফাঁস হওয়া ফোনালাপটি সম্পর্কে আইভি বলেন, কোনো দিন কারো কাছে টাকা চাইনি। আমার হয়ে কেউ টাকা চাইবে, সেটাও বরদাশত করব না। তাকে (খোকন সাহা) এমন কোনো দায়িত্বও দেওয়া হয়নি। তিনি জঘন্য কাজ করেছেন, আমার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন। দল নিশ্চয়ই এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।