admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৩ মে, ২০২০ ১২:২০ অপরাহ্ণ
নাগরিক ভাবনা, লায়ন অ্যাড, এম এ মজিদঃ আমি গত ২৫শে মার্চ ২০২০ তারিখ থেকে দিনাজপুরে নিজ গৃহে গৃহবন্দী অর্থাৎ লকডাউনের কারণে ঘরের মধ্যেই আবদ্ধ রয়েছি। আমি খুব পজেটিভ মনের মানুষ। খারাপ জিনিসটাও খারাপ ভাবে না নিয়ে সব সময় ভাল ভাবেই নিতে সচেষ্ট থাকি। লকডাউনের আগে প্রতিদিন ছেলের সাথে কথা না হলেও এখন কিন্তু ছেলের সাথে প্রতিদিন কমপক্ষে একবার তো কথা হয়ই, কোন কোন দিন একাধিকবার ফোনে কথা হয়। কারনটা একই। কেননা, ছেলে ওয়াশিংটন ডিসি’তে লকডাউনে ঘরবন্দী। সে নিজের জন্য যতটা চিন্তিত নয় – তার চাইতে অনেক অ-নে-ক বেশি চিন্তিত আমার জন্য। কেননা, মহামারি ছোঁয়াচে করোনাভাইরাস পছন্দ করে বয়ষ্ক ও অসুস্থদের, বিশেষ করে বয়ষ্ক ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীদের। যেহেতু আমি বয়ষ্ক ও ডায়াবেটিস রোগী – সে কারণে আমার ছেলের চিন্তা আমাকে নিয়ে। আমাকে শান্তনা ও সাহস দেওয়ার জন্য প্রতিদিন কমপক্ষে একবার আমার সাথে তাকে কথা বলতেই হবে।

এদিকে আমার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমার প্রতি যেভাবে যত্নশীল ও মমতাময়ী – যা বর্ণনা করা কঠিন। নতুন বিয়ের পর শ্বশুর বাড়িতে যে ধরণের আদরযত্ন পেতাম – এখন আমি তার চাইতে অনেক অ-নে-ক বেশি যত্ন ও সেবাশুশ্রূষা পাচ্ছি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছ থেকে । সরাদিনে কত রকমারি ও বাহারি খাবার আমাকে দেওয়া হয় – যা আমাকে ভাবতেও আশ্বর্য হতে হয়। টিভির যত রান্না তার প্রায় সবগুলোই শিখে সেগুলো আমার কাছে উপস্হাপন করেন আমার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। কিন্তু একটা বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর শাসন ও গর্জন চরমে, সেটি হচ্ছে সকালে যোগব্যায়াম ও রাতে বাসার সামনে জোরে জোড়ে হাটতেই হবে। এ ব্যপারে ছেলের শাসনগর্জন না থাকলেও তার চরম অনুরোধ ও আবদারটি হচ্ছে, সুস্থ্য থাকার জন্য আমি যেন প্রতিদিন যোগব্যায়াম ও হাটাহাটি করি। যেহেতু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর শাসনগর্জন এবং প্রিয় সন্তানের অনুরোধ-আবদার আমার ভালোর জন্যই, সেহেতু আমার স্বার্থেই আমি কাজ দুটি করি। আমি রাত ১০টায় হাটা শুরু করি এ কারনে যে, রাত ১০টায় আমার বাসার সামনের সড়কটি জনমানব শূন্যের কারনে ছোঁয়াচে রোগ সংক্রমণের ভয়টা একটু কম থাকে এবং কেউ কথা বলার থাকে না। ফলে হাটাহাটিটা বেশ ভালই হয়।

এবারে আসল কথায় আসা যাক। আমি যখন রাতে হাটাহাটি করি তখন ক্ষুধার্থ অনেকগুলো কুকুর আমাকে সাঙ্গ দেয়, বিনিময়ে তারা আমার কাছে খাবার চায় বলে আমাকে তারা বুঝাতে চেষ্টা করে। আমারও বুঝতে আর বাকি রইলো না যে, ওরা কি চায়। এ ব্যপারে আমার ভাতিজা ইমন ও তার বন্ধু টুটুলকে কুকুরগুলোকে খাওয়ানোর ব্যপারে সহযোগিতা চাইলে তাদের আগ্রহ ও সদিচ্ছায় আমার ইচ্ছা ও উৎসাহ আরো বৃদ্ধি পেয়ে গেল। তাদেরকে দায়িত্ব দিলাম খাবার সংগ্রহ করার জন্য। তারা যথারীতি খাবার সংগ্রহ করলো এবং আজ রাত ১০টায় আমাদের মহল্লার দুই প্রান্তে কুকুরগুলোকে কাগজের উপর খাবার দিলে তারা খুব তৃপ্তি সহকারে খেয়ে আমাদেরকে লেজ নেড়ে কিছু শব্দ ও অঙ্গভঙ্গি এমনভাবে প্রকাশ করে দেখালো – তাতে মনে হলো কুকুরগুলো খুব খুশি হয়ে আমাদেরকে অনেক আশীর্বাদ করলো।
সেই সাথে আবু দাউদ ও তিরজিমি হাদিস শরীফের কথাটা মনে পড়ে গেলো, “দুনিয়াতে সকল প্রানীদের প্রতি তোমরা দয়া করো, তাহলে আসমানে যিনি আছেন, তিনি তোমাদেরকে দয়া করবেন।একই সাথে স্বামী বিবেকানন্দের কবিতার দুটি কলি মনে পড়ে গেল, জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিবে ঈশ্বর। আপনারা দোয়া করবেন – লকডাউনের কারনে ক্ষুধার্থ কুকুরগুলোকে যেন প্রতিদিন খাওয়াতে পারি, আর খাবার মানও যেন ক্রমান্বয়ে উন্নত থেকে উন্নতর হয়।