তহমিনা বেগম বিউটি, দিনাজপুর প্রতিনিধি || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৫:৪১ অপরাহ্ণ
মাঠে মাঠে এখন ধবধবে সাদা তুলা। যেন সবুজ পাতার বুকে তুষার শুভ্র হাসির ঝিলিক। উত্তরের জেলা দিনাজপুরে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এই অর্থকরী ফসল সাদা সোনা বা তুলা চাষ।
অন্যান্য ফসলের তুলনায় উৎপাদন খরচ কম এবং ক্ষতির ঝুঁকি না থাকায় কৃষকদের মধ্যে তুলা চাষে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে। তবে চাষিদের মুখে লাভের হাসি থাকলেও তুলা তোলার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের দিন কাটছে নিদারুণ কষ্টে।
দিনাজপুর আঞ্চলিক তুলা গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও বীজ বর্ধন কেন্দ্রের তথ্যমতে, সদর উপজেলাসহ জেলার ৭টি উপজেলায় এবার তুলার ব্যাপক আবাদ হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, এক একর জমিতে তুলা চাষে খরচ হয় মাত্র ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। আর প্রতি হেক্টরে উৎপাদন মিলছে প্রায় ১.৬ টন। ধান বা অন্যান্য ফসলের তুলনায় তুলা বিক্রি করে দ্বিগুণ লাভ করা সম্ভব হচ্ছে। বাজারে ভালো দাম থাকায় অনেক চাষি এখন অন্য ফসল ছেড়ে তুলার দিকে ঝুঁকছেন।
তুলা একটি দীর্ঘমেয়াদি ফসল। মাঠ থেকে ঘরে তুলতে সময় লাগে প্রায় ছয় মাস। এ কারণে অনেক কৃষক শুরুতে আগ্রহী হতে চান না। দিনাজপুর তুলা উন্নয়ন বোর্ডের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কৃষিবিদ শাহানা ইয়াসমিন জানান, তুলা দীর্ঘমেয়াদি ফসল হওয়ায় সময়কাল কমিয়ে আনার বিষয়ে আমরা নিবিড় গবেষণা চালাচ্ছি। সময় কমলে কৃষকরা একই জমিতে আরও বেশি ফসল ফলাতে পারবেন।
মাঠে তুলা তোলার দৃশ্যটা যতটা নয়নাভিরাম, পর্দার পেছনের কারিগরদের জীবন ততটাই ধূসর। তুলা তোলার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা জানান, প্রতি কেজি তুলা তুললে তারা মাত্র ১৬ টাকা মজুরি পান। সারাদিন হাড়ভাঙা খাটুনি দিয়ে ৩০ কেজি তুলা তুলতে পারলেও মজুরি জোটে মাত্র ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকা। বর্তমান ঊর্ধ্বগতির বাজারে এই যৎসামান্য আয়ে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। শ্রমিকদের দাবি, মজুরি অন্তত দ্বিগুণ করা না হলে আগামীতে শ্রমিক সংকট দেখা দিতে পারে।
বর্তমানে দেশে তুলার মোট চাহিদার মাত্র ১০ শতাংশ পূরণ হয় দেশি উৎপাদন থেকে। দিনাজপুর তুলা উন্নয়ন বোর্ডের উপ-পরিচালক জাফর আলী বলেন, সারাদেশে ২১ হাজার চাষিকে আমরা প্রণোদনার আওতায় এনেছি, তবে এটি প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।
চাষিদের যদি স্বল্প সুদে ঋণ, উন্নত বীজ ও সঠিক প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা যায় এবং বাজার ব্যবস্থা তদারকি করা হয়, তবে তুলা চাষে দেশ এক সময় স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে।
দিনাজপুরের কৃষকরা মনে করছেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই তুলাই হতে পারে দেশের পোশাক শিল্পের কাঁচামাল আমদানির বিকল্প এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার।