admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১১ ডিসেম্বর, ২০২১ ৯:০৩ পূর্বাহ্ণ
দক্ষিণ কোরিয়া জলবায়ু পরিবর্তন বানাচ্ছে অভিনব শহর! জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের কারণে বারবার বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ছে বিশ্বের বহু দেশ। এমন পরিস্থিতি মোকাবেলায় ব্যতিক্রমী চিন্তা নিয়ে এগোচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া। পানির ওপর শহর বানানোর কথা জানিয়েছে দেশটি। তাই আর বন্যা-জলোচ্ছ্বাসের ভয় নেই। পরিকল্পনাও চূড়ান্ত। ইতোমধ্যে দেশটির বুসান শহরে উচ্চাভিলাষী এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সবুজ সংকেত দিয়েছে শহর কর্তৃপক্ষ।

দক্ষিণ কোরিয়ার বুসান শহর।
আগামী বছরেই শুরু হচ্ছে প্রথম ভাসমান শহর নির্মাণ। খবর সিএনএন। খবরে বলা হচ্ছে, দেশটির বৃহত্তম বন্দরনগরী ও বিশ্বের পঞ্চম ব্যস্ততম সমুদ্রবন্দরকে ঘিরে বুসানে নির্মিত হবে এই শহর। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে যে সংকট তৈরি হচ্ছে তা সমাধানের লক্ষ্যে এমন পদক্ষেপ। শহরটির ডিজাইনাররা বলছেন,আন্তঃসংযুক্ত কাঠামোর সমন্বয়ে প্রস্তাবিত ভাসমান এই শহরে জায়গা হবে ১০ হাজার লোকের। প্রকল্পটির নাম দেওয়া হয়েছে দ্য ওশেনিক্স প্রজেক্ট। ২০১৯ সালে ডিজাইনার, স্থপতি ও প্রকৌশলীদের সমন্বিত একটি গ্রুপ প্রকল্পটির কথা জানায় এবং প্রকল্পটি কোথায় নির্মাণ করা যায় সেই জায়গা খুঁজছিলেন তারা। গত মাসে এই গ্রুপটি বুসান কর্তৃপক্ষ ও জাতিসংঘের আরবান ডেভেলপমেন্ট এজেন্সির সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার উপকূলে এটি নির্মাণের জন্য চুক্তি সই করে। সমুদ্রের পানির ঢেউয়ের সঙ্গে ভাসমান অবস্থায় থাকবে এই শহর। পাঁচ একর জায়গাজুড়ে নির্মিত এই শহরে ৩০০ বাড়ি থাকবে এবং প্রতিটি বাড়ি হবে সাততলা বিশিষ্ট। শুধু তাই নয়, থাকবে বৃহৎ নেটওয়ার্ক সিস্টেম, হাঁটার পথ, এমনকি বাইসাইকেল পথও থাকবে।
ডেনমার্কের একটি স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান এই শহর নির্মাণের ডিজাইনের নেতৃত্বে রয়েছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, কয়েকটি গ্রামে ভাগ করা হবে এই শহরকে এবং সেখানে প্রতিটি গ্রামে ১৬৫০ জন করে বসবাস করতে পারবেন। তাদের জন্য থাকবে রেস্টুরেন্ট, গ্রামীণ আবহে তৈরি হবে কো-ওয়ার্কিং স্পেস এবং অবসর কাটানোর সব ধরনের সুযোগ সুবিধা থাকবে। প্রস্তাবিত ভাসমান শহর নির্মাণ প্রকল্পে ‘সেলফ-সাসটেইনিং-এর মাধ্যমে এখানকার বাসিন্দারা নিজেরাই খাদ্য উৎপাদন করতে পারবেন। সেখানে শূন্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও থাকবে।