admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১৫ ডিসেম্বর, ২০২১ ১০:৩৬ পূর্বাহ্ণ
তিলে তিলে গড়া বাড়িটি ধসে গেল নিমেষেই। জানা যায় পেশায় এক ভাই আব্দুল মজিদ রাজমিস্ত্রী, অন্য ভাই ইব্রাহিম গ্রিলমিস্ত্রী। কষ্টার্জিত উপার্জন থেকে চার দশক আগে সোয়া কাঠা জমি কেনেন তারা। তিলে তিলে সঞ্চিত টাকায় আধা কাঠার একটু বেশি জমিতে দুজনে দুটি বাড়ি তৈরি করেন। ঢাকার আলুবাজারে চার তলা বাড়ি গড়েছেন ইব্রাহিম, সেটি দিয়েই সংসার চলতো তার। কিন্তু গ্যাসের বিস্ফোরণে এক নিমেষেই বাড়িটি বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। ৭০ বছরের বেশি বয়সের ইব্রাহিমের বড় ছেলে আকরাম হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা নিয়ে চাকরি করছেন বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে।
তিনি জানান, বাড়িটির প্রতি তলা থেকে ৯ হাজার টাকা ভাড়া পেতে, সবমিলিয়ে মোট ৩৬ হাজার টাকা আসতো। এই টাকা দিয়ে বৃদ্ধ বাবা-মার ওষুধ ও ভরণপোষণের পাশাপাশি ছোট ভাই শিফাত আহমেদকে লেখাপড়া করাতেন তারা। নিজের বেতন দিয়ে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে সংসার সামলানোই কঠিন হয়ে পড়ায় ধসে পড়া বাড়িটি এখন ঠিক করা দুরূহ হয়ে পড়েছে বলে জানান আকরাম। কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলছিলেন, বাড়ি ঠিক করবো নাকি বাবা-মায়ের ওষুধ কিনবো, ছোট ভাইয়ের লেখাপড়ার খরচ দিবো!
এক বোনের বিবাহ দিলেও আরেক বোন বিবাহযোগ্য, ভাইকেও তো বিয়ে করাতে হবে, এখন কী করবো আমি? তিতাস গ্যাস কোম্পানির অবহেলায় এতবড় দুর্ঘটনা ঘটলো, যা এখনো বাবাকে জানাতে পারিনি। গ্যাস লাইনে সমস্যার কারণে তিলে তিলে গড়া বাড়িটি শেষ হয়ে গেল, পুরো পরিবার পথে বসল। এর দায় এখন কে নেবে, প্রশ্ন রেখে শিফাত আহমেদ বলছেন, গ্যাসের ‘রাইজার’ লিকেজের কারণে বিস্ফোরণটি ঘটেছে।
মাসখানেক আগে বকেয়া বিলের জন্য সংযোগ কেটে রাইজার খুলে দেয় তিতাসের কর্মকর্তারা, সেটি আর লাগায়নি তারা। এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটির ৩৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি নাসির উল্যাহ ওয়ালিদ বলেন, বকেয়া গ্যাস বিলের জন্য রাইজার খুলে নিয়ে যায় তিতাস কর্তৃপক্ষ। বিল পরিশোধ করলে বা ঘুষ দিয়ে রাইজার দিয়ে যায় তারা। পরে সেটি নিজস্ব মিস্ত্রী দিয়ে লাগায় বাড়িওয়ালারা। রাইজার ঠিকভাবে না লাগানোর কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে। এই বাড়ির ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে।
এমন অভিযোগ অস্বীকার করেন তিতাসের সহকারী টেকনিক্যাল অফিসার শেবেন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, গ্যাস লাইনের সমস্যা নিয়ে লিখিত অভিযোগ বা ফোনে পেলে সেটি সমাধান করা হয়। এই বাড়ি থেকে তেমন কোনো অভিযোগ আসেনি। তবে রাইজার খুলে নেয়ার বিষয়ে জানা নেই।
ঘটনার বিষয়ে বংশাল থানার ওসি আবুল খায়ের জানান, গভীর রাতে বড় ধরনের বিস্ফোরণে বাড়িটি ধসে পড়ে, আশপাশের কয়েকটি ভবনের কাচ ভেঙে পড়ে। সেখান থেকে কামাল, তার স্ত্রী সেলিনা ও কন্যাকে অগ্নিদগ্ধ অবস্থা উদ্ধার করে পাসপাতালে পাঠানো হয়। তাদের মধ্যে কামালের শরীরের ৪০ শতাংশ, সেলিনার ৬ শতাংশ ও মেয়েটির ৩ শতাংশ পুড়ে গেছে।