admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১ মার্চ, ২০২৩ ১০:৫৩ অপরাহ্ণ
মোস্তাফিজুর রহমান, হরিপুর উপজেলা প্রতিনিধিঃ আমার জীবন আমার সম্পদ, বীমা করলে থাকবে নিরাপদ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সারাদেশের মতো উৎসব মূখর আমেজে যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে পালিত হল ৪তম জাতীয় বীমা দিবস-২০২৩। হরিপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ রুবেল হোসেন সভাপতি ও প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ জিয়াউল হাসান মুকুল, হরিপুর থানা অফিসার ইনচার্জ এম, তাজুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বাবু নগেন কুমার পাল, সহ-সভাপতি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ, জনাব এ এস এম আলমগীর সাধারণ-সম্পাদক বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ হরিপুর উপজেলা শাখা।
অনুষ্ঠান সন্চালনা করেন ইন্জিনিযার মোঃ আবু সাঈদ, জেনারেল ম্যানেজার, প্রগতি লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, স্বাগত বক্তব্য রাখেন মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার এভিপি মার্কেন্টাইল ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স লিমিটেড, স্বারকলিপি পাঠ করেছেন প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড এর হরিপুর উপজেলা ইনচার্জ মোঃ আনোয়ার হোসেন , পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স হরিপুর উপজেলা ব্রাঞ্চ ইনচার্জ মোঃ মনসুর আলমসহ ডেল্টা লাইফ, জীবন বীমা কর্পোরেশন, ন্যাশনাল লাইফ ইন্সুরেন্সসহ অন্যান্য বীমা কোম্পানির প্রতিনিধি ও কর্মীগন, এছাড়াও গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ ও ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকগন উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে একটি বর্নাঢ্য র্যালী শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এর পর উপজেলা চত্বর মিলনায়তনে বীমা বিষয়ে সচেতনতা মূলক আলোচনা শুরু হয়।
অনুষ্ঠানের সভাপতি কৃষি কর্মকর্তা জনাব মো: রুবেল হোসেন বলেন, ১৯৬০ সালের ১ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আলফা ইন্সুরেন্স কোম্পানীতে জেনারেল ম্যানেজার পদে যোগদান করেন যার জন্য এই দিবসটি বীমা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। মানব জীবনে বীমা অবশ্যই জরুরী , আমাদের এই শিল্পের বিকাশে দক্ষতার সহিত নিরলসভাবে কাজ করতে হবে। উপজেলা চেয়ারম্যান জনাব অধ্যক্ষ মোঃ জিয়াউল হাসান মুকুল বীমা কর্মীদের এই সেক্টরে স্বতঃস্ফূর্ত কাজ করার জন্য আন্তরিক অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন , বীমা অবশ্যই প্রত্যেকের জন্য প্রয়োজন। আমার নিজের একাধিক বীমা পলিসি আছে বলে স্বনামধন্য কয়েকটি কোম্পানির নাম উল্লেখ করেন । তবে মেচুরিটি বা বীমা দাবী দ্রুত পরিশোধে কোম্পানিগুলোর অধিক যত্নবান হওয়া সময়ের দাবি বলে মন্তব্য করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপিতে ১২ টি দাবী পেশ করেছেন হরিপুর উপজেলা বীমা পরিবারের সদস্যগন।
দাবী সমূহ নিম্নরূপঃ-
১)বীমা খাত দুর্বৃত্ত মুক্ত করতে আরও কঠোর হতে হবে।
২)বীমা কর্মকর্তাদের সন্তানদের শিক্ষাভাতা দিতে হবে ও বীমা কর্মীদের ফ্রি চিকিৎসার সুযোগ দিতে হবে।
৩) বীমা সুবিধা গ্রহনকারী ব্যাক্তিদের পরিসংখ্যান অধিদপ্তরের মাধ্যমে তথ্য সংরক্ষন করতে হবে এবং প্রতিবছর বীমা দিবসে মেচুরিটি, ডেথ ক্লেম, নতুন পলিসি, তামাদি পলিসির হিসাব প্রকাশ করতে হবে।
৪)দুর্যোগকালীন বীমা কর্মীদের আলাদাভাবে নগদ অর্থ সহায়তা দিতে হবে।
৫)উপজেলা পর্যায়ে একটি বীমা অধিদপ্তর চালু করা সময়ের দাবি।
একই সফটওয়্যার এর মাধ্যমে সকল কোম্পানির প্রিমিয়াম কালেকশন করার মাধ্যমে বীমা গ্রহনযোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে এবং কিছু কর্ম সংস্থান সৃষ্টি হবে।
৬)কমিশন ব্যবস্থা সীমিত রেখে শিক্ষিত যুবকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে নির্ধারিত বেতন দিয়ে বীমা কর্মী নিয়োগ দেয়া ও সরকার কর্তৃক সার্ভিস রুলের মাধ্যমে বীমা খাতের উন্নয়ন ও প্রশাসন উভয় ডিপার্টমেন্টের চাকরির ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা।
৭)ইতিমধ্যে বিনা কারণে ছাটাইকতদের ক্ষতিপূরণসহ স্বপদে বহাল করা। অভিজ্ঞদের মূল্যায়ন করার বিষয়ে কোম্পানি গুলোর উপর চাপ বাড়াতে হবে।
৮)লাইসেন্স ফি শিথিল করতে হবে। কমিশনের উপর ৫% থেকে ভ্যাট কমাতে হবে। পাঁচ হাজারের নীচে কোন রেভিনিউ নেয়া যাবে না মর্মে নির্দেশ আশা করছি।
৯)সরকারি কর্মকর্তাদের আংশিক পেনশন বীমা কোম্পানির মাধ্যমে বাধ্যতামূলক করা।
মুজিব শতবর্ষের ঘোষণা অনুযায়ী বঙ্গবন্ধু শিক্ষা বীমা ও সার্বজনীন পেনশন স্কিম দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য ব্যাবস্থা গ্রহন করতে হবে।
১০)পরিবহন শ্রমিকদের বা ড্রাইভিং লাইসেন্স এর ক্ষেত্রে বীমা বাধ্যতামূলক সময়ের দাবী।
১১) এম পিও ভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারীদের গ্রুপ বীমা ও পেনশন বীমা বাধ্যতামূলক করা।
১২)বীমা দিবস উপলক্ষে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ্যের মাধ্যমে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।