admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১৯ এপ্রিল, ২০২১ ১১:৪১ পূর্বাহ্ণ
হুমায়ুন কবির রেজা, স্টাফ রিপোর্টারঃ ৫০ লাখ টাকা কার পকেটে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের ঠাকুরগাঁও অফিস ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে ঠাকুরগাঁয়ে কারোনা কালে আপদকালীন ব্যয়ের জন্য অর্থ বরাদ্দ হয় ২০ লাখ টাকা । আইসোলিশন কর্তব্যরত ডাক্তার এবং নার্সদের থাকা খাওয়া এবং হোটেল ভাড়া বাবদ এই অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়। বিস্থসূত্রে জানা গেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঠাকুরগাঁও মানবকল্যান রেস্ট হাউস ভাড়া নেয় ।
এই রেস্ট হাউসে ২ জন ডাক্তার-১ জন দিনে, ১ জন রাতে এবং ৬ জন নার্স ছিল । মানব কল্যান এর পরিচালক এর সাথে কথা বলে জানা যায়, হাসাপাতাল কৃর্তপক্ষ রেস্ট হাউস ২ মাসের জন্য ভাড়া নেয়, ভাড়া কালিন সময়ে উনাকে রেস্ট হাউজে ঢুকতে দেয়নি বলে তিনি জানান । তবে দুই মাস কোন কোন মাস হাসাপাতাল কৃর্তপক্ষ ভাড়া নেয়, তা মানব কল্যাণ কৃর্তপক্ষ বলতে পারেন নাই । বুকিং রেজিষ্ট্রারে ডাক্তার ও নার্সের নাম লিপিবদ্ধ আছে কিনা ,এ ব্যাপারে প্রশ্ন করলে, পরিচালক রবিউল আলম জানান ডাক্তার ও নার্সের নাম লিপিবদ্ধ নেই ।
তবে তিনি ডাক্তার ও নার্সদের থাকা খাওয়া বাবদ ১৯ লাখ টাকার বিল ভাউচার হাসাপাতাল কৃর্তপক্ষকে দিয়েছে বলে জানান । বিশবস্তসূত্রে আরো জানা গেছে ওই সময়ে সর্বাধিক ঠাকুরগাঁয়ে ২৯ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন সর্বনিম্ন ৭ জন। বেড ছিল ৫০ জনের ভকেশনাল ইনিস্টিউটে, মানব কল্যানের রুম ছিল ১৪ টি ৪ টি এসি রুম ১০ টি নন এসি। এই ব্যাপারে হাসাপাতাল তত্তাবধায়ক ডাক্তার নাজিরুল আজিজ চপল এর সাথে কথা বলে তিনি প্রথমে কিছু তথ্য দিলেও পরে জানান দরখাস্থ ছাড়া কোন তথ্য দেওয়া যাবে না ।
অপরদিকে ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে ঠাকুরগাঁও জেলার জন্য জরুরী ভিত্তিতে ডেঙ্গু রোগীর জন্য ১০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয় এছাড়া এম.এস.আর ফান্ডে আরো ১০ লাখ টাকা ।মোট ২০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয় এই টাকার ও কোন হিসেব নেই । এই সময়ে সর্বাধীক ডেঙ্গু রোগী ঠাকুরগাঁয়ে ৩০ জন সর্ব নিম্ন ৭ জন ছিল বলে জানা যায় । ওই সময়ে হাসপাতাল পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার জন্য ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয় । এই বরাদ্দ কৃর্ত টাকা থেকে কোন খরচ হয় নি জানা গেছে । নিয়মিত রেভিনিউ ফান্ড থেকে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন খাতে ব্যয় করা হয়েছে ও ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা করা হয়।
এ ব্যাপারে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন ঠিকাদার ও ওয়ার্ড মাস্টারকে জিঞ্জাসা করা হলে তারা জানান অতিরিক্ত ১০ লক্ষ টাকা থেকে হাসপাতাল পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন খাতে ব্যয় করা হয়েছে তার কাছে কোন তথ্য নেই। তিনি আরো জানান,সব খরচেই এম এস আর ফান্ড ও রেভিনিউ ফান্ড থেকে খরচ করা হয়েছে। অপরদিকে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালের জন্য ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে এম.এস.আর মালামাল ক্রয় এর জন্য বরাদ্দ দেয়া হয় ৬ কোটি ৮০ লাখ ৬৫ হাজার ৪ শত টাকা ।বরাদ্দের বিপরীতে টেন্ডার আহ্বান করা হয় । এই টেন্ডারে ৯০ জন ঠিকাদার অংশ গ্রহণ করলে নিকোসিয়েট না হওয়ায় বিস্তসূত্রে জানা গেছে হাসপাতাল কৃর্তপক্ষের মনোনীত ঠিকাদার বগুড়ার লিমন কন্ট্রাকশনকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ টেন্ডার পাইয়ে দিতে না পারায় প্রতিযোগীতা মূলক এই টেন্ডার বাতিল করে নতুন ভাবে টেন্ডারে গ্রহনের ব্যবস্থা চলছে । হাসপাতালের কর্মচারীরা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মচারী জানান ।
হাসপাতালের ব্যপকা অনিয়ম চলছে । এই মুহুতে দূনীতি কমিশন এর মাধ্যমে তদন্ত করলে হাসপাতালের থলের বিড়াল বেয়িয়ে আসবে। তারা আরো জানান,এই হাসপাতালের উচ্চমান সহকারী জয়ন্ত সেন দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে একই পদে বহাল থেকে অধিদপ্তর ঢাকার জনৈক পরিচালকের যোগসাজেসে অতিরিক্ত বরাদ্দ আনেন ও তিনি নিজেই বিল ভাউচার করে এই হাসপাতালে কোটি কোটি টাকা আত্বসাত করে আসছেন। ইতিপূর্বে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অনেক তর্থ্য প্রমানীত হয়। তাকে অন্যত্র বদলী করাও হয়েছিল। কোন এক অদৃশ্য শক্তির কারনে তিনি এখনও বহাল তবিয়তে আছেন।