admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২৭ অক্টোবর, ২০২১ ১০:১৯ অপরাহ্ণ
আব্দুল কুদ্দুস রয়েল, স্টাফ রিপোর্টারঃ ঠাকুরগাঁওয়ে স্বাস্থ্য বিধি না মেনেই মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার হেলথ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঠাকুরগাঁও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ে আজ বুধবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার ১৪০০ উপকারভোগি মায়েদের ল্যাকটেটিং মাদার সহায়তা প্রকল্পের আওতায় মায়েদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে হেলথ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু করোনাকালীন সময় হলেও এ অনুষ্ঠানে কোন স্বাস্থ্য বিধি মানা হয়নি। সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে এধরণের কর্মসুচি করোনা পরিস্থিতিতে বিরুপ প্রভাব ফলবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
আগত উপকারভোগী মায়েরা জানান, আমরা ল্যাকটেটিং মাদার প্রকল্পের হেলথ ক্যাম্পে এসেছি। কিন্তু কোন স্বাস্থ্য বিধি নেই এখানে৷ সবাই গাদাগাদি করে বসতে বা দাড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। আর চেয়ারগুলো ফাকা ফাকা করে না বসিয়ে কাছে কাছে দেওয়া হয়েছে। তাড়াতাড়া সেবা নিয়ে গিয়ে হুড়োহুড়ি করেই সেবা বা কাজ করছেন উপকার ভোগীরা। তবে এবিষয়ে কর্তৃপক্ষের কোন পদক্ষেপ নেই বলে অভিযোগ করেন উপকারভোগী মায়েরা।

ঠাকুরগাঁও পৌরসভার রোকসানা বেগম, রহিমা বেগম ও আমেনা বেগম জানান, সরকারি অফিসের সরকারি প্রকল্পের অনুষ্ঠান হলেও এখানে স্বাস্থ্য বিধির কোন বালাই নেই। হুড়োহুড়ি করে সেবা নিতে হচ্ছে। আর এক জন তো পারলে আরেক জনের গায়ে উঠে যাচ্ছে। এমন করে স্বাস্থ্য বিধি না মেনেই কর্মসুচি করা ঠিক হয়নি। আর এইভাবে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে কর্মসুচি পালন করায় অনেকে করোনা আক্রান্ত হতে পারে বা সবাই স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলেও জানান তারা।
স্থানীয়রা জানান, এই কর্মসুচিটিতে স্বল্প সংখ্যক মায়েদের নিয়ে করা গেলেও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় কর্তৃপক্ষ বিশাল জনসমাগম করে অনুষ্ঠান করে। আর এ অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য বিধি মানা হয়নি কোনভাবেই। ফলে উপকার ভোগী মায়েদের উপকারের চেয়ে ক্ষতি বেশি হবে তারা করোনা আক্রান্ত হলে। আর এই দপ্তরের বেশিরভাগ কর্মসুচিই স্বাস্থ্য বিধি না মেনেই করা হয় বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের। এ বিষয়ে কালীবাড়ি এলাকার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম ও তুষার ইসলাম জানান, সরকারি সকল কর্মসুচিতেই স্বাস্থ্য বিধি মেনে করার নির্দেশনা থাকলেও তা মানছে না ঠাকুরগাও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়। উপকারভোগী মায়েদের নিয়ে স্বাস্থ্য বিধি ও সরকারি নির্দেশনা না মেনে কর্মসুচি কতটা যুক্তিযুক্ত সেবা তারাই জানেন৷ আর যারা এই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসেছেন তারা সকলেই স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়েছেন। আর এই দপ্তরে এইভাবেই বেশির ভাগ কর্মসুচি সরকারি নির্দেশনা ও স্বাস্থ্য বিধি না মেনেই পালন হয় বলেও অভিযোগ তাদের।
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ আবদুস সামাদ চৌধুরী জানান, এখানে দুটি অপরাধ। প্রথমটি স্বাস্থ্য বিধি না মানলে ঐ অনুষ্ঠানে আসা সকলে স্বাস্থ্যঝুঁকি তে পড়বে এবং প্রায় সকলেরই করোনা আক্রান্ত হবার ঝুঁকি থাকবে। আর দ্বিতীয় বিষয়টি হলো সরকারি কর্মকর্তাদের দেখে অন্যরা আইন কানুন শিখে। কিন্তু সরকারি কর্মকর্তারাই যদি অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য বিধি ও আইন না মানেন তাহলে অন্যরা কিভাবে মানবে? সে কারণ যারা সরকারি আইন ও করোনা কালীন সময়ে স্বাস্থ্য বিধি না মেনেই অনুষ্ঠান করবে তাদের শাস্তি হওয়া উচিত বলেও মনে করেন এই চিকিৎসক।
এ ব্যাপারে মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের উপ-পরিচালক রোকসানা বানু জানান, আমি কিছু জানি নাহ। আমি কিছু বলতে পারবো নাহ। আমার স্টাফরা আছেন, তারাই এগুলো দেখেন। আপনি আমার স্টাফদের সাথে কথা বলেন বলেও কথা বলতে এ বিষয়ে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি।