admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১৫ এপ্রিল, ২০২০ ৯:৩৯ অপরাহ্ণ
ফিরোজ সুলতান.ঠাকুরগাঁও : করোনাভাইরাসে বিপর্যয়ের মধ্যেও ঠাকুরগাঁওয়ে মরিচের বাম্পার ফলন হলেও বাজারে দাম না থাকায় মরিচ চাষি কৃষকের মাথায় হাত পড়েছে। সরেজমিনে বুধবার (১৫ এপ্রিল) জেলার আড়তে গেলে দেখা যায়, এক মণ মরিচ বিক্রি করতে হচ্ছে ৪ শ’ টাকা দরে। অথচ কয়েক সপ্তাহ আগেও মরিচের মণ ছিলো ৮ শ’ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত।
জেলার কৃষকদের দাবি ঐ অঞ্চলে মরিচ সংরক্ষণের জন্য হিমাগার স্থাপনের। সদর উপজেলার ২১টি ইউনিয়নে এবং গ্রামের চরাঞ্চলে উৎপাদিত মরিচ স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের বাজারে যায়। এবারে আবহাওয়া অনুকূল থাকায় মরিচের বাম্পার ফলন হলেও করোনাভাইরাসের দুর্যোগের কারণে দাম না থাকায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে প্রান্তিক মরিচ চাষিরা। সদর উপজেলা কৃষি বিভাগের সূত্র মতে, গত বছরের চেয়ে এ বছর কয়েক হেক্টর বেশি জমিতে মরিচের আবাদ হয়েছে।
সদর উপজেলার ঢোলার হাট এলাকার মরিচ চাষি সমেস চন্দ্র জানান, এ বছর ভাদ্র-আশ্বিন মাসে তিন একর জমিতে ফরিদপুরী জাতের মরিচ চাষ করেছি। প্রয়োজনীয় সার, কীটনাশক ও পরিচর্যার কারণে ফলনও ভাল হয়েছে। কিন্তু বাজারে ক্রেতা না থাকায় বাধ্য হয়ে প্রতি মণ মরিচ ৪ শ’ টাকা দরে বিক্রি করতে হচ্ছে।
একই কথা জানালেন রুহিয়া ইউনিয়নের চাষি আব্দুল মালেক ও জগদীশ চন্দ্র। এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, জেলায় মরিচ সংরক্ষণের জন্য সরকারি বা বে-সরকারিভাবে কোন হিমাগার না থাকায় প্রান্তিক চাষিদের বাধ্য হয়ে কম দামে মরিচ বিক্রি করতে হয়।
জেলা সদর আড়তে মরিচ কেনাবেচার সাথে সম্পৃক্ত রবি ইসলাম বলেন, ক্ষেত থেকে মরিচ ফরিয়া এবং আড়তদারের হাত বদল হয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে যায়। সম্প্রতি করোনা প্রতিরোধে প্রশাসনের কঠোর নির্দেশনায় মোকামে স্বল্প সময় বেচাকেনা ও পরিবহন সংকটের ফলে মরিচের চাহিদা কমে গেছে। সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং পরিশোধিত বীজ, প্রয়োজনীয় সার, কীটনাশক পাওয়ায় চলতি মৌসুমে মরিচের বাম্পার ফলন হয়েছে।