admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১৩ জুলাই, ২০২২ ১০:২৮ পূর্বাহ্ণ
কুঞ্জ পাল, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশ সরকার দেশের নদীগুলো ড্রেজিং করলেও ঠাকুরগাঁয়ে নদী খনন তেমন কাজে আসেনি। এটা ভাউতাবাজি করা হয়েছে, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ অজ্ঞাত কারণে উক্ত কাজের দেখভাল করেননি ফলে ঠিকাদার তাঁর ইচ্ছে মত জায়গায় জায়গায় এক্সকেভেটর দিয়ে বালু তুলে আবার নদীর পারেই রেখে দেওয়ায় বৃষ্টি পানিতে তা পুনরায় নদীতে নেমে যেটুকু খনন করে ছিলো তা পুনরায় ভরাট হয়ে গিয়েছে। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নদী খনন ভেস্তে গিয়েছে বলে স্থানীয় সচেতন মানুষেরা মনে করেন। এলাকাবাসি জানান এই খননের কি প্রয়োজন ছিলো ? তাঁরা বলেন যদি নদী সঠিক নিয়মে খনন কাজ হত তাহলে এই খরা মৌসুমে নদী থেকে পানি নিয়ে কৃষকেরা আবাদ করতে পারতো। ঠাকুরগাঁও জেলাবাসি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন যে নদী খননের নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ ও ঠিকাদারকে আইনের আওতায় আনা হোক এবং বিষয়টি পূণ তদন্ত করে এদের শাস্তির জোরদাবী জানিয়েছেন।
ঠাকুরগাঁওয়ে পানির অভাবে জমি ফেটে চৌচির,বর্ষার ভরা মৌসুমে বৃষ্টি না হওয়ায় খরা দেখা দিয়েছে যার কারণে বিপাকে পড়ছেন কৃষকেরা। আশানুরুপ বৃষ্টি পাত না হওয়ায় কৃষকেরা জমিতে আমন ধানের চারা রোপন করতে পারছে না। এখন আমন ধান রোপন না করতে পারলে দেরি হয়ে যাবে, আর এই দেরির কারণে আমন চারা রোপণ করলেও তাতে তেমন একটা ফলন পাওয়া যাবে না, তাই বিকল্প পদ্ধতিতে জমিতে সেচ দিয়ে অনেকে আমনের চারা রোপন করছেন, এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে। যা কৃষক ফসল বিক্রি করে লাভবান হতে পারবে বলে মনে হয় না।
চলতি বছর ঠাকুরগাঁও জেলায় প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধানের চারা রোপনের লক্ষমাএা নির্ধারণ করা হয়েছে বর্ষা সময় মত বৃষ্টি পাত হলে অনেক চাষি জমিতে আমনের চারা রোপন করতে পারতেন। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টির দেখা পাওয়া যাচ্ছেনা প্রায় গত ১৫ দিন ধরে। বৃষ্টি পাত সময় মত না হলে যে কোন ধরণের আবাদ করা কঠিন হয়ে যাবে। যে সব চাষি মানুষের জমি বর্গা নিয়ে আবাদ করেন তাঁরা বিপাকে পড়বেন, কারণ আবাদ হোক আর না হোক নির্ধারিত অংকের টাকা বছর শেষ হওয়ার আগেই জমির মালিককে পরিশোধ করতে হয়।
এই দিকে ১৫ থেকে ১৬ দিন আগে নিম্ন চাপের প্রভাব বৃষ্টি হলেও তা ঐ পানি দিয়ে আমনের জমিতে ধান রোপনের মতো যথেষ্ট ছিলো না। দক্ষিণ ঠাকুরগাঁও পালপাড়া গ্রামে কৃষক টুলেন পাল বলেন বর্তমান বর্ষা মৌসুম চললেও ঠাকুরগাঁওয়ে অনাবৃষ্টির কারণে বর্ষার পরিবর্তে এখানে প্রচন্ড উতাপ গরম ও খরা চলছে। শ্রাবন মাসের ১তারিখের মধ্যে রোপা আমন চারা রোপন করতে না পারলে আশানুরূপ ফলন পাওয়া যাবে না বলে তিনি জানান। আর একজন কৃষক দেবেষ পাল বলেন কোন উপায় না পেয়ে মানুষের কাছে টাকা ধার নিয়ে সেচ দিয়ে জমিতে ধান লাগাতে হবে।তাতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে।
বৃষ্টিপাতের অভাবে জেলার বেশি ভাগ আমনের জমি অনাবাদি পড়ে রয়েছে। এতে চলতি বছর জেলার আমন ধান রোপনের লক্ষমাএা অর্জন ব্যাহত হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। অন্য দিকে বৃষ্টিপাতের অভাবে খাল বিল পানিশূন্য থাকায় পাট চাষীরা পাট পচাতে পারছেনা এতে তাঁরা বিপাকে পড়ছেন। পাট চাষি প্রেমা পাল বলেন এই বর্ষা মৌসুমে আকাশ যেভাবে খরা দিয়েছে। আর খরার কারণে আমার পাট শুকিয়ে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, আকাশের পানি না হলে, আমাকে শ্যালো মেশিনের পানি দিয়ে পাট পচাতে হবে। তাঁতে পাটের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে তাই পাট পচানো নিয়ে খুবই চিন্তায় আছি।