admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১২ ডিসেম্বর, ২০২১ ১১:২৮ পূর্বাহ্ণ
আব্দুল কুদ্দুস রয়েল স্টাফ রিপোর্টারঃ ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার লোহাগাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণীর ছাত্রীকে উত্যক্ত ও ব্লাকমেইল করে আতœহত্যার প্ররোচনার ঘটনায় বখাটে যুবক মিরাজ হাসানকে গ্রেফতার করতে পারেনি ঠাকুরগাঁও পুলিশ, অভিযোগ ভূক্তভোগী পরিবারের।
অভিযোগে জানা যায়, জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার আরাজী আলমপুর গ্রামের মিরাজ হাসান ওই উপজেলার লোহাগাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণীর ছাত্রী নূসরাতের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে। এই সরলতার সুযোগ নিয়ে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করে ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছিল। এছাড়াও বখাটে মিরাজ ওই ছাত্রীকে বিভিন্ন সময়ে মারপিট ও লাঞ্চিত করতো। এ বিষয়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠকও হয়। গত ২০ নভেম্বর নূসরাত স্কুল হতে বাড়ি ফেরার পথে বখাটে মিরাজ তার গতিরোধ করে শ্লীলতাহানি ঘটায়। এই অপমান সহ্য করতে না পেরে গলায় রশি দিয়ে অতœহত্যা করে। যার প্রমান স্বরুপ স্বহস্তে লিখিত চিঠি এবং সহপাঠিদের সাথে বিনিময় করে যান। এব্যাপারে পীরগঞ্জ থানায় মামলা দিতে গেলে পুলিশ মামলা নিতে গরিমসি করে।
পরে ২ ডিসেম্বর নূসরাতের বাবা বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী আদালতের দারস্থ হলে, বিজ্ঞ আদালত মামলা নথি ভূক্ত করে এজাহার হিসেবে গ্রহণ করার জন্য পীরগঞ্জ থানা পুলিশকে নির্দেশ দেন।অপরদিকে গত ১ ডিসেম্বর ওই বখাটেকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে মানববন্ধন করেছে ওই স্কুলের শিক্ষার্থীরা।
নূসরাতের বাবা বলেন আমার মেয়ে যেদিন আতœহত্যা করে, সেদিন পুলিশকে তার আতœহত্যার প্রমান হিসেবে চিঠি গুলো দেয়া হলেও পুলিশ তা গ্রহণ করেননি। এব্যাপারে থানায় অভিযোগ দিতে গেলেও তা গ্রহণ করেননি। তিনি কেঁদে কেঁদে বলেন আমার মতো আর কারো বাবা-মায়ের বুক যেন খালি না হয়, সে জন্য অপরাধীকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানান তিনি। মিরাজ ও তার পরিবারের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি।
পীরগঞ্জ থানার ওসি মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন ওই লোককে আমার কাছে নিয়ে আসিয়েন তো, এই অভিযোগটা ওনাকে নিয়ে আসিয়েন, দয়া করে নিয়ে আসিয়েন, উনি মামলায় করতে চায়নি, পরে এক ইউপি মেম্বারের সহযোগিতায় ধরে এনে মামলা করা হয়েছে। মামলার তদন্তনাধীন অবস্থায় আছে, এর সত্যতা দেখে প্রয়োজনিয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইনজীবী ইমরান চৌধুরী বলেন ফৌজদারী কার্যবিধি অনুযায়ী এধরনের ঘটনায় কেউ বাদী না হলেও পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবেন এবং আসামীদের আইনের আওতায় আনার ক্ষেত্রে প্রয়োজনী ব্যবস্থা নিবেন। তবে বিজ্ঞ আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন।