admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৩ মে, ২০২০ ১২:৫৬ অপরাহ্ণ
ঠাকুরগাঁও’য়ে করোনাভাইরাস ছড়াতে পারে এমন আতঙ্কে ঠাকুরগাঁও সদর থানার এক পুলিশ কর্মকর্তার পরিবারকে বাসা ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করছেন বাড়ির মালিক। শনিবার ৩ মে রাতে এমই অভিযোগ করেন ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভুক্তভোগী ওসি (অপারেশন) নাজমুল হক।
১১ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও পৌরসভার জমিদারপাড়া এলাকার বাসিন্দা রতন নামে এক ব্যক্তির পাকা ভবনের দুই তলায় বাসায় পরিবারসহ ভাড়া নেন ওই কর্মকর্তা। প্রথম দিকে বাসার মালিকের ব্যবহার ভালো থাকলেও, বর্তমানে করোনার পরিস্থিতিতে ব্যবহারে পরিবর্তন এসেছে। বাসার মালিকের ধারণা, সারাদিনে জেলার বিভিন্ন জায়গায় ডিউটি করার ফলে এই পুলিশ কর্মকর্তার মাধ্যমে হয়তো সেই বাসায় করোনা ছড়াবে। এছাড়াও সেই বাসায় এর আগে কনেস্টবল আলমগীর ও এএসআই জসিম তাদের পরিবার নিয়ে বসবাস করত। তাদেরকেও নানা ভাবে হয়রানি করে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য করেছে করেছে বাড়ি মালিক।
পুলিশ কর্মকর্তা নাজমুল হক বার্তা২৪.কমকে বলেন, দেশে করোনাভাইরাস মহামারিতে রূপ নেয়ার পর থেকে ঘর ছেড়ে দেয়ার জন্য নানা ভাবে চাপ দিতে শুরু করে ওই বাড়ির মালিক। তারা মনে করে আমি বাড়িতে করোনাভাইরাস নিয়ে এসেছি। এ কারণে তারা আমাদের চাপ প্রয়োগ করে বাসা ছেড়ে দেবার জন্য। করোনাভাইরাস থেকে মানুষদের জীবন বাঁচাতে আমরা যখন কাজ করছি ঠিক তখনি বাড়ি মালিকের এমন আচরণ মনে কষ্টে দেয়। এ সময়ে নতুন করে কোথাও ঘরভাড়া পাব? পুলিশ বলে কি বাড়ি মালিকরা আমাদের মানুষ মনে করে না?
তিনি আরও বলেন, মহামারির এই সময়ে জনগণের জন্য আমাদের মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে হয় সবসময়। কিন্তু কাজ শেষে বাড়িতে ফিরলে শুনতে হয় বাড়ি মালিকের এমন আচরণ। সম্প্রতি বাড়ি ছেড়ে দেয়া পুলিশ কনেস্টবল আলমগীর বলেন, করোনার আগে বাড়ি মালিক রতন ও তার স্ত্রী আচরণ ভালই ছিল। করোনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার পর থেকেই ঘর ছেড়ে দিতে মালিক পক্ষ নানা হয়রানি করে। বাধ্য হয়ে ঘর ছেড়ে দিয়েছি।
এ বিষয়ে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ তানভিরুল ইসলাম বলেন, কিছুদিন আগেও ওই বাড়ি মালিক দুই পুলিশ সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যদের ঘর ছাড়া করেছিল। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে অবগত করা হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার প্রস্তুতি চলছে। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য বাড়ির মালিক রতনের মোবাইলফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।