admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২৫ জানুয়ারি, ২০২২ ১২:৫৭ অপরাহ্ণ
মোঃ মজিবর রহমান শেখ, জেলা প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ে হরিপুরে মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবৈধভাবে গাছ কেটে বিক্রি গাছের মূল্য ২ লক্ষ টাকা।কোন রকম টেন্ডার বা অনুমতি ছাড়াই সরকারি খাস জমির গাছ কেটে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলার হরিপুর আলিম মাদ্রাসার সুপার ও প্রতিষ্ঠানের কার্যনির্বাহী কমিটির বিরুদ্ধে অবৈধভাবে গাছ কেটে বিক্রি করার অভিযোগ।
অভিযুক্তরা বলেছেন, হরিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবগত করে তাঁর পরামর্শক্রমে গাছ কাটা হয়েছে। ২৫ জানুয়ারি মঙ্গলবার সকালে সাংবাদিকদের এ অভিযোগ করেছে স্থানীয়রা।স্থানীয় আহম্মেদ কবির বলেন, ১৯৮৬ সালে তৎকালীন সময়ে স্থানীয় জনসাধারণে সহযোগিতায় খাস জমিতে মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। পরবর্তীতে সরকারের কাছে জমি রেজিষ্ট্রেশনের জন্য আবেদন করে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এখনো জমিটি মাদ্রাসার কাছে রেজিষ্ট্রি দেয়নি সরকার। মাদ্রাসাটি এখনো খাস জমিতে অবস্থিত।
হাসান শাহরিয়ার নামের এক ব্যক্তি বলেন, বড় ও মোটাসোটা চারটি কাঁঠাল গাছ বিক্রি করা হয়েছে মাত্র ৬০ হাজার টাকা। যা বাজার মূল্যের চেয়ে অনেক কম। তিনি মনে করেন গাছগুলোর বাজার মূল্য হবে প্রায় দেড় থেকে দুই লাখ টাকা। যেহেতু মাদ্রাসাটি এখনো খাস জমিতে রয়েছে। সেহেতু সরকারের বন বিভাগের অনুমতি ছাড়া বা কোন টেন্ডার ছাড়া মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ কিভাবে গাছগুলো বিক্রি করতে পারে? হরিপুর আলিম মাদ্রাসার সুপার মফিজুল ইসলাম কাদেরী এসব সত্যতা স্বীকার করে বলেন, মাদ্রাসাটি এখনো খাস জমিতে রেজিষ্ট্রেশন হয়নি।
রেজিস্ট্রেশনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। মাদ্রাসার প্রাচীরের ভিতরে গাছগুলো থাকায় গাছগুলো কাটা হয়েছে। হরিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার অবগত রয়েছেন। তার পরামর্শে গাছ কাটা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী কমিটির সভাপতি জামাল উদ্দীন বলেন, গাছগুলোর শিকড় প্রাচীরের ক্ষতি করছিলো। প্রাচীর ফাটল ধরছিল তাই কমিটির সকল সদস্যদের সাথে মতবিনিয়ময় করে রীতিমতো রেজুলেশন করে গাছগুলো কাটা হয়েছে। এর আগে গাছ কাটার কারণ হিসেবে তিনি মাদ্রাসার ফার্নিচার তৈরির কথা জানিয়েছিলেন।
তিনিও বলেছেন ইউএনওর পরামর্শক্রমে গাছ কাটা হয়েছে এবং তিনি অবগত আছেন। হরিপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজাউল করিম বলেন, প্রতিষ্ঠানটি একটি এমপিও ভূক্ত প্রতিষ্ঠান। ঐ প্রতিষ্ঠানের গাছ কাটার বিষয়ে আমার কোন পরামর্শ বা নির্দেশনা থাকতে পারে না, এটি পুরোপুরি প্রতিষ্ঠানের ব্যাপার, তারা এই ধরনের অপরাধ করে থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের ব্যবস্থা নেওয়া হবে । হরিপুর উপজেলার ভূমি কর্মকর্তা (এসিল্যান্ড) রাকিবুজ্জামান বলেন, আমি স্থানীয় তহশীলদারের কাছে শুনেছি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ সরকারি খাস জমির গাছ কেটে বিক্রি করেছে এবং মাদ্রাসাটিও নাকি খাস জমিতে অবস্থিত। আমি বিষয়টি তদন্ত করতে বলেছি আসলে মাদ্রাসা ও গাছগুলো সরকারি খাস জমিতে আছে কিনা? যদি সরকারি খাস জমিতে থাকা গাছ কাটা হয়েছে, তাহলে নিশ্চয় তারা অবৈধভাবে গাছগুলো কেটেছে। আমি তদন্ত সাপেক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।