admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১৭ মার্চ, ২০২৩ ৭:৪২ অপরাহ্ণ
কুঞ্জ পাল, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ কৃষি প্রধান বাংলাদেশের উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে বোরো আবাদে জ্বালানি তেল ও রাসায়নিক সারের কৃত্রিম সংকট এবং দাম বৃদ্ধিতে জেলার কৃষকদের নাভিশ্বাস। সার ও ডিজেলের দামের কারণে বোরো চাষে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। কৃষকদের অভিযোগ সারের কৃত্রিম দাম ও সংকট রোধ না করলে তারা এবার মাঠে মারা যাবে।
চলতি বোরো রোপণ মৌসুমে দেখা যায়, জেলার কৃষকরা বোরো ধান রোপণে জমিতে সেচ, চাষ, জমি সমান ও পানি ধরে রাখতে জমির আইল বাঁধা এবং চারা উত্তোলন করে রোপণ কাজে চরম ঘাম ঝরা পরিশ্রমে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। কিন্তু বর্তমান দ্রব্যমূল্যের আগুন দামে ডিজেল ও সারের কৃত্রিম সংকটে ও দাম বৃদ্ধির কারণে ধান উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় হা-হুতাশ করছেন তারা।
জেলায় এবার বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬০ হাজার ১৫০ হেক্টর জমি। যার ধান উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯৪০ মেট্রিকটন। গত বছর বোরো ধানের ক্রয় মূল্য ছিল ২৬ টাকা কেজি। সেই হিসেবে ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯৪০ মেট্রেক টন ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ি ৬৯৬ কোটি টাকার ধান উৎপাদন হবে ঠাকুরগাঁও জেলা থেকে।
আপনারা খালি আমাদের ছবি তুলে নিয়ে যান কিন্তু তাতে আমাদের কৃষকদের কোনো লাভ হয় না। এমন আক্ষেপ করে সদর উপজেলার বাগপুর গ্রামে কৃষক হরেস বলেন, সরকার বলছে সারের কোনো ঘাটতি নাই। কিন্তু বাজারে তাদের নির্ধারিত দামে ঠিকমতো কোনো সার পাওয়া যাচ্ছে না। পাওয়া গেলেও দাম দিতে হচ্ছে বেশি। আলু রোপণের সময় ও এখন চায়না ধান করার সময়েও ঋণ করে ইউরিয়া ১২শ, টিএসপি ১৭শ ও পটাশ (এমওপি) ১৬শ টাকা দরে কিনতে হচ্ছে। সরকার যদি আমাদের দিকে না দেখে তাহলে আমরা কৃষক মাঠে মারা যাবো। সরকার চাকরিজীবীদের বেতন ঠিকই বাড়াচ্ছে কিন্তু কৃষকদের খোঁজ করে দেখে না।
বাগপুর গ্রামের আরেক কৃষক বকুল বলেন, ডিজেল ও সার-কীটনাশকের অতিরিক্ত দামের জন্য আমরা খেতের ঠিকভাবে পরিচর্যা করতে পারছি না। টাকার অভাবে এত দামে আমরা তেল, সার-বিষ কিনে কৃষি করতে হিমশিম খাচ্ছি। আর আমরা যদি কৃষি করতে না পারি তাহলে যারা চাকরি করেন তারা তো আর সবাই কৃষি করেন না। তাহলে তারা কি খাবেন? সরকার যদি এসবের দাম একটু কমায় তাহলে আমাদের কৃষককের খুব উপকার হবে। আর যদি এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ না নেন তাহলে আমাদের পক্ষে এভাবে কৃষি করা অসম্ভব হয়ে পড়ছে।
সদর উপজেলার ঢোলার হাট ইউনিয়নের কৃষক হাসান আলী বলেন, ডিজেল প্রতিলিটার ১১৫ টাকায় কিনতে হচ্ছে। এভাবে কৃষিকাজ করে তাদের টিকে থাকা মুশকিল। তাই সরকারকে ডিজেল ও সারের দাম কমানোর বিষয়ে দ্রুত পদক্ষে গ্রহণ করে কৃষকদের দিকে নজর দেওয়া উচিত।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি অনুযায়ী ধানের ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে আক্চা ইউনিয়নের পালপাড়া গ্রামের প্রেমা পাল বলেন, আমি ৩একর জমিতে এবার বোরো আবাদ করেছি। কিন্তু বর্তমানে কৃষি পণ্যের যে দাম তাতে ৫০ শতকের প্রতি বিঘা জমিতে বোরো আবাদে ২৬ হাজার টাকা খরচ পড়ছে। যদি ধানের মণ ১৩০০ টাকা থাকে তাহলে হয়তো আমরা একটু লাভবান হব।