admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ১২:২০ অপরাহ্ণ
মুক্ত কলম নিউজ ডেক্সঃ ঠাকুরগাঁও সদর সহ বিভিন্ন জায়গায় গড়ে উঠছে চা বাগান। অপার সম্ভাবনাময় এই জেলা চা চাষের উপযুক্ত। সিলেট,পঞ্চগড় ছাড়াও অত্র অঞ্চলে চাষে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম অঞ্চল অসংখ্য চায়ের বাগান গড়ে উঠেছে। চা শিল্পের অর্থনীতিতে অপার সম্ভাবনা উঁকি দিচ্ছে সীমান্ত ঘেঁষে গড়ে ওঠা দিগন্ত বিস্তৃত এ সব বাগানে। সচিত্র প্রতিবেদনে দেখা যায়, চায়ের আবাদ শুরু হয়েছে এখন জেলার প্রতিটি উপজেলার গ্রামে গ্রামেও।
জেলা ঘুরে দেখা মেলে, সমতলভূমিতে গড়ে তোলা ছোট-বড় অসংখ্য চা বাগান। বসতবাড়ির পেছনের জমিতে, বাড়ির আঙিনার আশপাশে, রাস্তার ধারে আনাচে কানাচের পতিত জমিতে এখন চা বাগানে সবুজ রংয়ের সমারহে ভরপুর হয়ে উঠেছে। এতে চা শিল্পে সম্ভাবনার স্বপ্ন দেখছেন জেলার চাষিরা।
এক সময় যে জমিতে আগাছা ছাড়া কোনো ফসল হত না সেই জমিতে এখন চা গাছের সমারোহ। নদীর ধারে যেসব জমি শুধু গোচারণ ভূমি হিসেবে পড়ে থাকতো, সেই দিগন্তবিস্তৃত জমিও চা চাষে সবুজে ভরপুর হয়ে উঠেছে। জেলার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোর চা-বাগান ছাড়াও দেখা গেছে, যে যেখানে সুযোগ পেয়েছেন, সেখানেই চায়ের গাছ লাগিয়েছেন। অন্যান্য ফসলের তুলনায় চাষিরা চায়ে লাভবান হওয়ায় দিন দিন ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে ঠাকুরগাঁওয়ে চায়ের চাষ। এতে চা অর্থকারি ফসল হিসেবে বেশ পরিচিতি পেয়েছে জেলায়। আর এসব বাগানে কাজ করে স্থানীয় অনেক বেকার মানুষেরও কর্মসংস্থান হয়েছে।
জানা যায়, ১৯৯৯ সালে পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁওয়ে জরিপ চালায় বাংলাদেশ চা বোর্ড এবং চা গবেষণা ইনস্টিটিউট। ২০০০খ্রিঃ দিকে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় প্রথম বাণিজ্যিকভাবে চা চাষ শুরু হয়। পরে ২০০৭ খ্রিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় প্রথম চা চাষ শুরু হয়। এখন জেলার প্রতিটি উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রামে চা চাষ হচ্ছে।
ঠাকুরগাঁও জেলা কৃষিসম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক সিরাজুল ইসলাম এর তথ্যমতে, জেলায় মোট ১৪৫৭ একর জমিতে চা চাষ করা হয়েছে চায়ের বাগান। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ২৫৬ একর ৯৩ পয়েন্ট জমিতে ছোট-বড় মিলে ৯৩টি চা বাগান রয়েছে। পীরগঞ্জ উপজেলায় ৬ একর জমিতে ১টি, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় ১১শ একর ৭৫ পয়েন্ট জমিতে ছোট বড় মোট ১০০টি, রাণীশংকৈল উপজেলায় ৯ একর জমিতে ৪টি ও হরিপুর উপজেলায় ১০ একর জমিতে ৩টি চা বাগান রয়েছে।
সব থেকে বেশি চা চাষ করা হয়েছে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায়। এ উপজেলায় ১১ শ ৭৫ পয়েন্ট জমিতে চা চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে রনবাগ ও বেউরঝাড়ী সীমান্ত ফাঁড়ীর কাছে অবস্থিত ইসলাম টি এস্টেট নামে মোট ৩টি বাগানে ১৩৩ একর জমিতে চা চাষ করা হয়েছে। এসব বাগানে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।