তফিজ উদ্দিন আহমেদ || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৫ নভেম্বর, ২০২৫ ১:২০ অপরাহ্ণ
দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার টংগুয়া হাসনাবাগ দ্বিমুখী ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। জমি ইজারা, ভুয়া শিক্ষার্থী দেখানো, কমিটি গঠনে প্রভাব বিস্তার ও প্রশাসনিক দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হলে লিখিত ভাবে দিনাজপুর জেলা প্রশাসক বরাবরে ।
অভিযোগকারী মো. আজিজার রহমান, যিনি মাদ্রাসার জমিদাতা পরিবারের সদস্য, জানান— অধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান সম্প্রতি কমিটির অনুমোদন ছাড়াই প্রায় ১০ একর জমির ইজারার হার একতরফাভাবে বৃদ্ধি করেছেন। আগে প্রতি শতক জমির ইজারা মূল্য ছিল ২০০ থেকে ৪০০ টাকা, কিন্তু এবার তা বাড়িয়ে ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা নির্ধারণ করেছেন।
আজিজার রহমান বলেন,আগে ইজারার টাকা দুই কিস্তিতে নেওয়া হতো। কিন্তু এবার এককালীন পুরো টাকা বুঝিয়ে দিতে বলা হয়েছে। আমি সহ এলাকার অনেক গরিব কৃষক এত টাকা একসঙ্গে দিতে না পারায় ইজারা থেকে বঞ্চিত হয়েছি।”
হজ এজেন্সি পরিচালনায় ব্যস্ত অধ্যক্ষ,অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান ব্যক্তিগতভাবে একটি হজ এজেন্সি পরিচালনা করেন। হাজিদের সঙ্গে যোগাযোগ ও হজ সংক্রান্ত কার্যক্রমে তিনি বছরের অধিকাংশ সময় ব্যস্ত থাকেন। বিশেষ করে হজ মৌসুমে তিনি প্রায়ই ঢাকায় অবস্থান করেন, ফলে গ্রামীণ এলাকায় অবস্থিত এই মাদ্রাসার কার্যক্রম তিনি সঠিকভাবে তদারকি করতে পারেন না।
অভিযোগকারী বলেন,অধ্যক্ষ সাহেব মাদ্রাসাটিকে পারিবারিক আধিপত্যের প্রতিষ্ঠানে পরিণত করে মহোৎসব চালাচ্ছে। মাদ্রাসার দায়িত্বের চেয়ে হাজি হাজীদের নিয়েই বেশি সময় ব্যয় করেন। হজ মৌসুমে তিনি প্রায় পুরো সময় ঢাকায় থাকেন। এতে মাদ্রাসার শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।”
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, মাদ্রাসার ভর্তি রেকর্ডে বহু ভুয়া শিক্ষার্থীর নাম দেখানো হয়েছে, যাদের কেউ কখনো ক্লাসে উপস্থিত হয়নি। এমনকি অধ্যক্ষের নিজ সন্তানও তালিকাভুক্ত থাকলেও সেখানে পড়াশোনা করেন না। এসব ভুয়া শিক্ষার্থী দেখিয়ে সরকারি অনুদান, উপবৃত্তি ও বিভিন্ন সুবিধা গ্রহণের অভিযোগও রয়েছে।
এছাড়া, অধ্যক্ষ ভুয়া ছাত্রছাত্রী দেখিয়ে অভিভাবক সদস্য কমিটির নির্বাচন দেন এবং সেখানে নিজের মনোনীত প্রার্থীদের বিজয়ী করেন, যাতে এসব অনিয়ম তিনি অব্যাহত রাখতে পারেন। এর মাধ্যমে মাদ্রাসার কমিটি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে তিনি একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
আজিজার রহমান বলেন,অধ্যক্ষ ভুয়া শিক্ষার্থী দেখিয়ে অভিভাবক ভোটার তালিকা তৈরি করেন এবং নিজের পছন্দের লোকদের নির্বাচিত করে কমিটি গঠন করেন। এতে মাদ্রাসার পরিচালনা সম্পূর্ণভাবে স্বচ্ছতা হারিয়েছে।”উপস্থিত শিক্ষার্থী সামান্য, কাগজে চার শতাধিক,মাদ্রাসার এবতেদায়ি, আলিম ও ফাজিল তিন শাখায় মাদ্রাসার নথিতে মোট ৪১৪ জন শিক্ষার্থী দেখানো হলেও বাস্তবে উপস্থিত থাকে খুবই অল্পসংখ্যক ছাত্রছাত্রী।
কিছু শিক্ষকের সন্তানদের নামও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যদিও তারা অন্য প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত।নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি,স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ও এলাকাবাসী জানিয়েছেন, অধ্যক্ষের এসব কর্মকাণ্ডে মাদ্রাসার সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। অনেক শিক্ষক ও কর্মচারী অনিয়ম সম্পর্কে জানলেও চাকরি হারানোর ভয়ে মুখ খুলতে পারছেন না। এলাকাবাসীর দাবি ,আমরা চাই একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠিত হোক। তদন্ত হলে অনিয়মের সব চিত্র প্রকাশ পাবে। প্রশাসনের নজর প্রয়োজন স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে একটি ফাজিল মাদ্রাসায় অধ্যক্ষের এই ধরনের অনিয়ম অগ্রহণযোগ্য। দ্রুত শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ইসলামিক আরবী বিশ্ববিদ্যালয় ও জেলা শিক্ষা অফিসের পক্ষ থেকে তদন্ত না হলে প্রতিষ্ঠানটি আরও বিশৃঙ্খলায় পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
| Sun | Mon | Tue | Wed | Thu | Fri | Sat |
|---|---|---|---|---|---|---|
| 1 | 2 | 3 | 4 | 5 | 6 | 7 |
| 8 | 9 | 10 | 11 | 12 | 13 | 14 |
| 15 | 16 | 17 | 18 | 19 | 20 | 21 |
| 22 | 23 | 24 | 25 | 26 | 27 | 28 |
| 29 | 30 | 31 | ||||