admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর, ২০২১ ৮:৩৮ অপরাহ্ণ
জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহের মায়ের নারাজি খারিজ, প্রতিবেদন গ্রহণ। বাংলা সিনেমার জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ খুন নয়, পারিবারিক কলহে আত্মহত্যা করেছিলেন। এমনটা জানিয়ে অপমৃত্যু মামলাটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছিল পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন, পিবিআই। এর বিরুদ্ধে করা সালমান শাহের মা নীলা চৌধুরীর নারাজি খারিজ করে পিবিআইয়ের চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করেছেন আদালত। আজ রোববার, ৩১ অক্টোবর, ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশিদের আদালত এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে বাদীপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহমেদ জানান, সালমান শাহের মায়ের পক্ষে চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ওপর নারাজি দাখিল এবং লন্ডনে অসুস্থ থাকায় ভার্চুয়ালি তার জবানবন্দি নেয়ার জন্য আবেদন করা হয়েছিল।
শুনানি শেষে মামলার বাদী উপস্থিত না থাকায় আবেদনটি খারিজ করে দেন আদালত। এর আগে ২০২০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি প্রায় ৬০০ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন পিবিআইয়ের পরিদর্শক সিরাজুল ইসলাম। তার আগের দিন মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে সাংবাদিকদের বিস্তাতির জানান পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদার। তিনি জানান, সালমান শাহকে হত্যার অভিযোগের পক্ষে কোনো তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। দীর্ঘ তদন্তে পারিবারিক কলহসহ অন্তত পাঁচটি কারণে তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন।
সেই পাঁচটি কারণ হলো- চিত্রনায়িকা শাবনূরের সঙ্গে সালমান শাহর অতিরিক্ত অন্তরঙ্গতা, স্ত্রী সামিরার সঙ্গে দাম্পত্য কলহ, অতিরিক্ত আবেগপ্রবণ হওয়ার কারণে একাধিকবার আত্মহত্যার চেষ্টা, মায়ের প্রতি অসীম ভালোবাসা এক সময় জটিল সম্পর্কের বেড়াজালে পড়ে অভিমানে রূপ নেয়া এবং সন্তান না হওয়ায় দাম্পত্য জীবনে কলহ। সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয়, তদন্তকালে ঘটনার সময় উপস্থিত ও ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ৪৪ সাক্ষীর জবানবন্দি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬১ ধারায় লিপিবদ্ধ করেন পিবিআই কর্মকর্তারা। এছাড়া ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় লিপিবদ্ধ করা হয়। পাশাপাশি ঘটনা সংশ্লিষ্ট আলামত জব্দ করা হয়েছে।
এর আগেও ভক্ত ও পরিবারের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বেশ কয়েক দফায় সালমান শাহর মৃত্যুর তদন্ত করা হয়। প্রতিবারই তার মৃত্যু আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হলেও তা অদ্যাবধি মেনে নিতে পারেনি কেউ। পরিবারের দাবির প্রেক্ষিতে ২০১৬ সালের শেষ দিকে পিবিআইকে নতুন করে এই মৃত্যুর তদন্তভার দেয়া হয়। উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটন রোডে নিজ বাসা থেকে চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার (ইমন) ওরফে সালমান শাহর লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই সময় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেন তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে এটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন জানান তিনি।
পরবর্তীতে অভিযোগটি আমলে নিয়ে তা তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন আদালত। নির্দেশনা অনুসারে ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে সিআইডি। প্রতিবেদনে সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়।সেই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী ফের রিভিশন মামলা দায়ের করেন। এরপর বেশ কয়েক দফায় একে আত্মহত্যা বলে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়া হলেও সালমানের পরিবার তা মানতে রাজি হয়নি। সবশেষ পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনেও আত্মহত্যার কথা বলা হলো।