admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ৯:২৪ অপরাহ্ণ
আব্দুল্লাহ্ আল মামুন,পঞ্চগড় প্রতিনিধি: আজ রোববার (১৫ সেপ্টেম্বর) পঞ্চগড় বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম স্টেডিয়ামে নৈরাজ্য প্রতিরোধ ও শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস পঞ্চগড়ে জেলা শাখার আয়োজনে গণ সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি। এ সময় জেলার বিভিন্ন ইসলামীক দলের নেতাকর্মীসহ প্রায় ১০ হাজারের অধীক মুসল্লি সমাবেশে উপস্থিত হন।
মামুনুল হক বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে আল্লাহর নবীর ইজ্জতের হেফাজতের দাবি করতে গিয়ে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা শাপলা চত্বরে জমায়েত হয়েছিলেন। কিন্তু রাতের অন্ধকারে সকল আলো নিভিয়ে দিয়ে, ঘুমন্ত- তাহাজ্জুতরত নেতাকর্মীদেরকে ঠান্ডা মাথায় গুলি করে গণহত্যা চালিয়েছিল। এরপর নানা নাটকীয়তার পর বাংলাদেশের জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে ভিনদেশি রাষ্ট্রের আশীর্বাদে এবং তাদের সমর্থন নিয়ে বাংলার ক্ষমতার মসনদকে জোর করে দখল করে থাকার জন্য শেখ হাসিনা সরকার গুম-খুন ও হত্যা চালিয়েছিল।
সকল মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্য ধরে রাখার আহ্বান জানান মামুনুল হক।তিনি বলেন ২০২১ সালের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনের প্রাককালে হেফাজতে ইসলামসহ দেশপ্রেমী জনতা গুজরাটের কসাইখ্যাত ভারতের নরেন্দ্র মোদিকে বাংলাদেশে এনে এবং বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর রক্ত নিয়ে উপহাস না করার জন্য শেখ হাসিনাকে অনুরোধ জানিয়েছিল। বিনিময়ে শান্তি প্রিয় প্রতিবাদে, শেখ হাসিনার খুনি সরকার গুলি করে অসংখ্য নেতাকর্মীকে হত্যা করেছিল। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টজুড়ে একই কাজ করেছে, যা শেখ হাসিনার শাসন আমল না দেখলে বিশ্বাস করার যেত না। এখন তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন।
কথিত স্বৈরাচার আবারও ছোবল মারার প্রহর গুনছে: মামুনুল হক হাসিনার দিকে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে মামুনুল হক আরও বলেন, আপনার ভাইয়ের রক্তের দাম আছে, এ দেশের হাজারো মজলুম ভাই ও বোনের রক্তের দাম নাই? আপনার কাছে যদি ৩০ হাজার তাগরা যুবক ও দামাল ছেলের জীবনের ও রক্তের দাম না থাকে, এ দেশের মানুষের কাছে আপনার বাপ-ভাইয়ের রক্তের কোনো দাম থাকবে না।
খেলাফত মজলিসের এই নেতা বলেন, শেখ হাসিনার পেছনের শক্তি যারা, তারা বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের স্বার্থের দিকে না তাকিয়ে নিজেদের স্বার্থে শেখ হাসিনাকে জোরপূর্বক ক্ষমতার মসনদে আসিন করেছিল। বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবার থেকে বিচ্ছিন্ন করেছিল। আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো মোকাবিলা করে বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ তৈরি করেছিল পাশের একটি রাষ্ট্র। শেখ হাসিনা চলে গেলেও তার প্রেতাত্মারা, তার দোসররা এখনো বসে নেই। তারা সুযোগ খুঁজছে। সুযোগ পেলেই তারা ছোবল মারবে।
আমাদের সকল মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্য দীর্ঘদিন ধরে রাখতে হবে। নিজেদের মধ্যে বিভেদে জড়িয়ে পড়লে আত্মঘাতী হবে। আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দিনকে প্রতিষ্ঠা করা।শেষে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আহমদীয়া সম্প্রদায় কর্তৃক পঞ্চগড়ের মানুষের নামে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি তুলেন তিনি।
একই সঙ্গে আগামী এক মাসের মধ্যে মামলা প্রত্যাহার না হলে কঠোর কর্মসূচীর হুঁশিয়ারি দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মামুনুল হক।মামুনুল হক বলেছেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টজুড়ে যে হত্যাযজ্ঞ হয়েছে, তা একবিংশ শতাব্দীর ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন ঘটনা। ছাত্র-জনতাকে টার্গেট করে শান্তভাবে ঠান্ডা মাথায় খুন করা হয়। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে হত্যা করে গোটা দেশকে একটা বদ্ধভূমিতে রূপান্তর করা হয়।
সমাবেশে আহমদীয়া সম্প্রদায় কর্তৃক পঞ্চগড়ের মানুষের নামে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। খেলাফত মজলিস পঞ্চগড় জেলা শাখার সভাপতি হাফেজ মীর মোর্শেদ তুহিনের সভাপতিত্বে গণসমাবেশে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব জালালুদ্দিন, মাহবুবুল হক, সদস্য সচিব আবু সাইদ নোমান, বায়তুল মাল সম্পাদক ফজলুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পঞ্চগড় জেলা শাখার সভাপতি আব্দুল হাই, সাধারণ সম্পাদক ক্বারী মো. আব্দুল্লাহ,জামায়াতে ইসলামীর পঞ্চগড় জেলা শাখার আমির অধ্যাপক ইকবাল হোসাইন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।