admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২০ জুলাই, ২০২০ ১০:০৯ পূর্বাহ্ণ
দেশের সব সেনানিবাস এলাকায় লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দীকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। নানাভাবে বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করায় তার বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী: এতে বলা হয়, বিএ-২০০৪ লেফটেন্যান্ট জেনারেল চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী (অবসরপ্রাপ্ত) সম্প্রতি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেনানিবাসে প্রবেশ এবং সেনাবাহিনী সম্পর্কে মিথ্যাচার করেন, বিষয়টি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। উল্লেখ্য, লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে পদোন্নতি পাওয়ার পর এনডিসির কমান্ড্যান্ট থাকাবস্থায় চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী একাধিক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এ ছাড়া এনডিসিতে পরিচালিত বিভিন্ন কোর্সের সঙ্গে বিদেশে ভ্রমণকালেও অনেক মেয়ে নিয়ে চলাফেরা করেন তিনি। তার এই অশোভনীয় আচরণ এবং মেলামেশার ছবি বিভিন্ন মাধ্যমে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হলে বিব্রত হয় এবং কর্তৃপক্ষ তাকে নানাভাবে উপদেশ দেয়।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর আরো জানায়, চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী এলপিআরে থাকার সময় ২০১৮ সালের ১৬ আগস্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত প্রথম স্ত্রীকে তালাক দেন। সেইসঙ্গে একই বছরের ২১ নভেম্বর কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া এবং সেনা আইনবহির্ভূতভাবে মেসকিট (সামরিক পোশাক) পরে দ্বিতীয় বিয়ে করেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, লেফটেন্যান্ট জেনারেল চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দীর (অব.) ওইসব আচরণ সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যদের জন্য অস্বস্তি ও বিব্রতকর। সেনাবাহিনীর অফিসার ও অন্যান্য পদবীতে কর্মরতদের মাঝে এ ধরনের ঘটনা নেতিবাচক উদাহরণ হিসেবে কাজ করে এবং বিরূপ প্রভাব ফেলে। এতে বলা হয়, সামগ্রিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দীকে গত বছরের ১০ এপ্রিল সেনানিবাস ও সেনানিবাসের আওতাভুক্ত এলাকায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সেনা কর্তৃপক্ষ কাউকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করলে তার জন্য সেনানিবাস ও সেনানিবাসের আওতাভুক্ত সব স্থাপনা এবং সেনানিবাসের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা যেমন—সিএমএইচে চিকিৎসা সেবা, অফিসার্স ক্লাব, সিএসডি শপ ইত্যাদিতে প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ। চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দীর ক্ষেত্রেও সেই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।