admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৭ জুলাই, ২০২২ ১১:২৭ অপরাহ্ণ
এম.মাসুম আজাদ, বিশেষ প্রতিনিধিঃ চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা গহেরপুর আন্দুলবাড়িয়া সড়কে ডাকাতির ঘটনায় গ্রেফতার হলো ১৪ জন ডাকাত! উদ্ধার হয়নি ডাকাতির প্রায় ৩০ লক্ষ নগদ টাকা ও প্রায় ১৪ ভরি স্বর্নের গহনা।গহেরপুর সড়াবাড়ীয়া আন্দুলবাড়িয়া সড়কে বৃহস্পতিবার ৩০শে জুন রাত ৮ টার পরে সড়কে গাছ ফেলে অবরুদ্ধ করে ঘন্টাব্যাপি চলে ডাকাতের তান্ডব। ঘটনার পরবর্তীতে প্রশাসনের তৎপরতায় অতিদ্রুত ধরাপড়তে থাকে ডাকাত দলের সদস্যগণ, এদের মধ্যে একজনের নাম আজিজুল যেকিনা আব্দুল অহেদ মিঞার ইট ভাটার ম্যানেজারের ছেলে।
গোপন সুত্র ধরে আজিজুলকে গ্রেফতারের পরে ১৬৪ ধারায় শিকার উক্তি মুলক জবানবন্দী দেয় আজিজুল। তার জবানবন্দিতে বের হয়ে আসে ডাকাতির ঘটনায় কে কে জড়িত এবং কি পরিকল্পনা করেছিলো তারা।আজিজুলের বক্তব্য অনুযায়ীঃ ইট ভাটার মালিক আব্দুল অহেদ ছিলো মুল টার্গেট, ঘটনার দিন ৯ লক্ষ নগদ টাকা নিয় ওই রাস্তা দিয়ে ফিরবেন অহেদ মিঞা, এটা জানতো ইট ভাটার ম্যানেজারের ছেলে আজিজুল। আর তার তথ্যের উপরে ভিক্তি করেই, সুজাত নামের আরেক সদস্যের পরিকল্পনায় সঙ্ঘবদ্ধ ডাকাতের দল রাস্তায় গাছ ফেলে আব্দুল অহেদকে অস্ত্রের মুখে টাকা লুটেনেই এবং তাকে মারধোর করা হয়। কিন্তু ডাকাত দল এখানেই থেমে যায়নি
সেই দিন বৃহস্পতিবার শিয়ালমারির পশুর হাট থাকায় মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে ফিরছিলো হাটের ব্যাপারীরা আর সেই সুযোগে ডাকাতের দল লুটপাট করে রাস্তায় যারা এসেছে তাদের সকলের কাছ থেকেই। ঘন্টব্যাপি সড়ক অবরুদ্ধ করে তান্ডব চালিয়ে তারা প্রায় নগদ ৩০ লক্ষ টাকা ও প্রায় ১৪ ভরি স্বর্নের আলঙ্কার নিয়ে সটকে পড়ে। আজিজুলের জবানবন্দির তথ্যের উপরে ভিক্তি করে গ্রেফতার করা হয় আরো ১৩ জনকে এবং ১০ জনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। এদের মধ্যে একজনার নাম সুজাত, আজিজুলের তথ্য মতে এই সুজাতই সম্পূর্ণ ঘটনার নেতৃত্ব প্রদান করে এবং ডাকাতের আলামত ও লুটের মাল তার কাছে আছে, কিন্তু রহস্য জনক ভাবে এখনো ডাকাতির কোনো মালামাল উদ্ধার হয়নি।
আর ডাকাত গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়ায় এলাকায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন অনেকেই কিন্তু সেই সঙ্গে হতাশো হয়েছে জনগণ। কারন ১৪ জন ডাকাত গ্রেফতার হলেও লুটপাটের মালামাল উদ্ধার হয়নি কিছুই যার কারনে জনমনে বিভিন্ন প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে,আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠছে। ঘটনার এতো দ্রুত সঙ্ঘবদ্ধ ডাকাত ধরার জন্যে চুয়াডাঙ্গা প্রশাসনকে সাধারণ জনগণ যেমন ধন্যবাদ জানিয়েছেন, তেমনি আবার সংশয় প্রকাশ করছেন এতো পরিমান টাকা ও স্বর্নের গহনার কিছুই এখনো উদ্ধার হলো না কেনো। স্থানীয় জনগণ ও ডাকাতির শিকার ভুক্তভোগীরা সাংবাদিকদের জানান আমাদের যা কিছু ছিলো সব কিছুই লুটে নিয়েছে, গরু বিক্রয়ে ১৪ লক্ষ টাকা একজন ব্যাপারীর কাছে ছিনিয়ে নেয় ডাকাতদল, অহেদ মিঞার ৯ লক্ষ টাকাসহ আরো ২০/২৫ জনের কাছি বিভিন্ন পরিমান টাকা ছিলো সব কিছুই নিয়ে যায় ডাকাতের দল।।
কান্নজড়িত ভাবে তারা বলেন আমাদের কষ্টার্জিত টাকা উদ্ধার করা হোক,যেহেতু এতো দ্রুত ধরা পড়েছে সেই লুটের টাকা আর স্বর্নাঙ্কার এখনো তাদের কাছেই আছে। চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ সুপার এর দৃষ্টি আকর্ষণ করে তারা বলেন জীবনের কষ্টার্জিত টাকা নিয়েগেছে ডাকাতের দল,টাকা উদ্ধার না হলে পরিবারে নিয়ে পড়তে হবে চরম অভাবে। যারা ধরা পড়েছে তাদেরকে রিমান্ডে নিয়ে কঠোরভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক,তবে উদ্ধার হবে লুটের মালামাল।