admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২১ নভেম্বর, ২০২১ ৮:৫৪ পূর্বাহ্ণ
উইঘুরদের ওপর হামলা মানে আমাদের ওপরই হামলা উইঘুর মুসলিমদের বিরুদ্ধে চীনের দমনমূলক নীতির প্রতিবাদ জানিয়ে যুক্তরাজ্যে দেশটির দূতাবাস এবং ম্যানচেস্টারে অবস্থিত কনসুলেটের বাইরে বিশাল এক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্ট্যান্ড ফর উইঘুর’ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে গত শনিবারের ওই বিক্ষোভে ব্রিটেনে মুসলমানদের অন্তত ৫০টি সংগঠন অংশগ্রহণ করে। কর্মসূচিটি সমন্বয় করেন ব্রিটেনের একটি ইসলামিক নিউজ পোর্টাল ইসলামিক২১সি -এর জ্যেষ্ঠ সম্পাদক সালমান বাট। সালমান বাটের সঙ্গে কথা বলেছেন রেডিও ফ্রি এশিয়া (আরএফএ) -এর উইঘুর সার্ভিসের রিপোর্টার নুরিমান আবদুরাশিদ।
যেখানে বিক্ষোভের মূল উদ্দেশ্য এবং এর মাধ্যমে চীন সরকারকে তারা কী বার্তা দিতে চান সে বিষয়ে কথা বলেছেন তিনি। তাদের আলোচনার চুম্বকাংশ তুলে ধরা হলো- আরএফএ: ‘স্ট্যান্ড ফর উইঘুর’ ক্যাম্পেইন কী? বাট: ব্রিটেনের ৫০টিরও বেশি মুসলিম সংগঠনের জোট। যারা জিনজিয়াংয়ে গণহত্যার শিকার উইঘুর মুসলিমদের পক্ষে কাজ করে। এই জোটের প্রধান কাজ হলো বিশ্ববাসীকে এই অপরাধের বিষয়ে সচেতন করা এবং প্রতিরোধ গড়তে জনমত গঠন করা। সেইসঙ্গে উইঘুরদের জন্য তাদের স্বপ্নের স্বাধীন রাষ্ট্র পূর্ব তুর্কিস্তান গঠনে কাজ করে যাওয়া।
আরএফএ: লন্ডন ও ম্যানচেস্টারে বিক্ষোভ আয়োজনের উদ্দেশ্য কী ছিলো? কী বার্তা দিতে চেয়েছেন ? বাট: চীনের কমিউনিস্ট সরকার ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে উইঘুর মুসলিমদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে। মুসলিমরা বিশ্বাস করে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া আর কোনো উপাস্য নাই। এই বিশ্বাসের জন্যই তাদের নির্যাতন করা হচ্ছে। আমরা এই স্লোগানের মধ্য দিয়ে আমাদের উইঘুর ভাই-বোনদের বলতে চাই, কালিমার মতোই আমরা এক ও অভিন্ন। আমরা সর্বদা তাদের পাশে আছি।
আরএফএ: উইঘুরদের প্রতি আপনাদের বার্তা কী? বাট: উইঘুর ভাই-বোনদের বলবো- মুসলিম বিশ্ব আপনাদের পাশে আছে। আল্লাহর ওপর বিশ্বাস রাখুন। আমরা আপনাদের কণ্ঠস্বর হয়ে বিশ্বের বিবেকবান মানুষদের কানে আপনাদের দুর্দশার কথা পৌঁছে দিব। ইনশাআল্লাহ, আল্লাহ আপনাদের স্বাধীন রাষ্ট্র তথা তুর্কিস্তান দান করবেন।
আরএফএ: চীনা সরকারের প্রতি আপনাদের বার্তা কী ? বাট: আমাদের বার্তা পরিষ্কার। এই অমানবিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করুন। এটি মৌলিক বিষয়, যা যেকোনো সভ্য মানুষ আশা করে। দ্রুত নিপীড়ন বন্ধ করুন। বন্দিশিবির গুঁড়িয়ে দিন, উইঘুরদের ধর্ম পালনের স্বাধীনতা হরণ বন্ধ করুন এবং মানুষ হিসেবে তাদের স্বাধীনভাবে বাঁচতে দিন।
আরএফএ: বিক্ষোভের সময় লন্ডনে চীনা দূতাবাস থেকে চীনের পতাকা সরানো হয়েছিল কেন, জানেন? বাট: আমি জানি না। বিক্ষোভ হবে, সরকারের পক্ষ থেকে সেটা আগেই তাদের জানানো হয়েছিল। তারা নিজ থেকেই দূতাবাসের পতাকা সরাতে পারে। তবে বিক্ষোভ থেকে কেউ সেটা সরায়নি। তারা তাদের কর্মকাণ্ডে লজ্জিত হয়ে সরালে আমি খুশি হতাম। আরএফএ: বিক্ষোভের বিষয়ে যুক্তরাজ্য সরকারের প্রতিক্রিয়া কী? বাট: এখন পর্যন্ত যুক্তরাজ্য সরকারের কাছ থেকে আমরা কোনো প্রতিক্রিয়া পাইনি। আমাদের বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ ছিলো। সুতরাং প্রতিক্রিয়া নিয়ে ভাবছি না।