admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২৯ আগস্ট, ২০২০ ১১:২২ পূর্বাহ্ণ
চীনের ভ্যাকসিন বাংলাদেশে ট্রায়ালের অনুমোদন দেয়ার সিদ্ধান্তে ভারতে গভীর বিস্ময় ও হতাশা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেছে কলকাতাভিত্তিক ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ। তারা বলছে, সম্প্রতি ভ্যাকসিন প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র সচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলার ঢাকা সফরের পরও এমন সিদ্ধান্ত ভারতের ‘ভ্যাকসিন ডিপ্লোম্যাসির’ ব্যর্থতা বলেই মনে করছেন অনেকে।
এর আগে গত ১৮ আগস্ট হঠাৎ করেই ঢাকা সফরে আসেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা। দুই দিনের এ সফরে তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনের সঙ্গে বৈঠক করেন। সে সময় তিনি জানিয়েছিলেন, ভারতের তৈরি কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন সফল হলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তা আগে বাংলাদেশকে দেয়া হবে। পাশাপাশি অন্য কোথাও থেকে ভারত ভ্যাকসিন পেলে সেখান থেকেও বাংলাদেশকে দেয়া হবে।
এর কয়েক দিন পরই গতকাল বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানিয়েছেন, বাংলাদেশে চীনা ভ্যাকসিনের হিউম্যান ট্রায়াল চালানো হবে। সরকার থেকে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আইসিডিডিআরবি এই ট্রায়াল চালাবে।
টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনা পরিস্থিতিতেও ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা ঢাকা সফর করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও তিনি আলোচনা করেছেন। তার পরও বাংলাদেশের এই পদক্ষেপ ভারতকে সার্বিকভাবে বিস্মিত করেছে। কূটনৈতিক মহলের কেউ কেউ বিষয়টাকে শ্রিংলার ভ্যাকসিন ডিপ্লোম্যাসির ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন।
সূত্রের বরাত দিয়ে তারা জানায়, জুলাইয়ের মাঝামাঝিতে বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিল চীনের ভ্যাকসিনের ট্রায়ালের বিষয়টি অনুমোদন করে। পরে ভারতের রিজার্ভেশনের কথা জানানোর পর সরকারের পক্ষ থেকে সেটি এতদিন ঝুলিয়ে রাখা হয়। কিন্তু এখন সরকারের এ ঘোষণায় প্রমাণ করে ভারতের রিজার্ভেশনের বিষয়টি উপেক্ষিত হয়েছে।
তবে কোনো কোনো কূটনীতিক মনে করছেন, বাংলাদেশে চীনা ভ্যাকসিন ট্রায়ালের অনুমোদন ভারতের কূটনৈতিক ব্যর্থতা হিসেবে দেখা উচিত হবে না। কারণ এটি একটি মানবিক ইস্যু। যেখানে মানুষের জীবনের প্রশ্ন জড়িত।
তাছাড়া শ্রিংলার সফরের সময় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন স্পষ্ট ভাবে বলেছিলেন, চীন, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্য দেশের সঙ্গেও কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের বিষয়ে যোগাযোগ রাখছে বাংলাদেশ। তাই কোনো একটি পক্ষকে হ্যাঁ বলার মানে এই নয় যে, অন্যদের জন্য দরজা বন্ধ করে দেয়া। অন্য সকল দেশের মতোই বাংলাদেশও দ্রুত ভ্যাকসিন পেতে চাইছে বলে জানান ওই সূত্র।