admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১৯ আগস্ট, ২০২২ ৮:১৩ অপরাহ্ণ
মুক্ত কলম নিউজ ডেক্সঃ চা শ্রমিকরা অমানবিক পরিশ্রম করে দৈনিক ৮ ঘণ্টা কাজ করে ২৩ কেজি চায়ের পাতা সংগ্রহ করলে পান মাত্র ১২০ টাকা। এর মধ্যে যদি দুইটি পাতা আর একটি কুড়ি ছাড়া অন্য চা পাতা থাকে তাহলে সেটা কাউন্ট হবে না। তাতে মাসিক ইনকাম দাঁড়ায় গড়ে ১২০-২৬=৩১২০ টাকা, তাও যদি প্রতিদিন ২৩ কেজি পাতা সংগ্রহ করতে পারেন তাহলে। তাদের সকাল শুরু হয় লবণ চা আর দুটো বনরুটি দিয়ে। দুপুরের চা-পাতা ভর্তা আর ভাত। সন্ধ্যায় সেই লবণ চা আর বনরুটি। রাতে আবার সেই চা-পাতা ভর্তা আর ভাত। এই ৩১২০ টাকাতেই চলে একজন চা শ্রমিকের পুরো পরিবারের এক মাসের খাওয়া দাওয়া , চিকিৎসা খরচ সবকিছু। বিনোদন সেখানে বিলাসিতা মাত্র। বাংলাদেশে এখন ১৬৮টি বাণিজ্যিক চা উৎপাদনের বাগান কাজ করছে। যেখানে ১ দশমিক ৫ লাখেরও বেশি লোকের কর্মসংস্থান রয়েছে। অথচ শত শত কোটি টাকার সম্পদের অধীশ্বর এদেশের চা বাগানের মালিকেরা। এদেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি দ্রব্যও এটি। যার রপ্তানি থেকে অর্জিত অর্থে চলে দেশের টিকে থাকার চাকা।
বিশ্বে চা রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান নবম। যা থেকে আসে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রায় প্রতি অর্থবছরে। বাংলাদেশে এখন ১৬৮টি বাণিজ্যিক চা উৎপাদনের বাগান কাজ করছে। যেখানে ১ দশমিক ৫ লাখেরও বেশি লোকের কর্মসংস্থান রয়েছে। উপরন্তু, বাংলাদেশ বিশ্বের ৩ শতাংশ চা উৎপাদন করে। ২০২১ সালের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশি চায়ের বাজারের মূল্য প্রায় ৩ হাজার ৫শ কোটি টাকা জিডিপিতে এই শিল্পের অবদান প্রায় ১ শতাংশ।
যে চায়ের সুবাস ছাড়া আমাদের মতো ছাপোষা মধ্যবিত্তের পর্যন্ত দিন শুরু হয় না, হয় না ঘরোয়া আড্ডা আর মেহমানদারী, সেই চা শ্রমিকরা আজ আন্দোলনে নেমেছেন স্রেফ ১৮০ টাকা বৃদ্ধি করে ৩০০ টাকা বেতন নির্ধারণ করে বেঁচে থাকার অধিকারের দাবিতে।
চা শ্রমিকদের বেতন না বাড়ার পেছনে মজুরি বোর্ড এর ভূমিকাও কম নয়। সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর অনলাইনের প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, “২০১০ সালে মজুরি বোর্ড চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৪৮ টাকা নির্ধারণ করে। প্রতি পাঁচ বছর পর শ্রমিকদের মজুরি নতুন করে নির্ধারণ করার কথা থাকলেও ন্যূনতম মজুরি বোর্ড তা করেনি। তাই মালিকপক্ষের সাথে প্রতি দুইবছর পর পর চুক্তির মাধ্যমে ৪৮ টাকা থেকে ১২০ টাকায় মজুরি উন্নীত করে চা শ্রমিকরা। সবশেষ ২০২১ সালের ১৩ জুন দীর্ঘ ১১ বছর পর চা শিল্প খাতে ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গেজেট আকারে খসড়া মজুরির ১২০ টাকা সুপারিশ প্রকাশ করে। কিন্তু এর আগেই মালিক ও শ্রমিক পক্ষের দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১২০ টাকা মজুরি কার্যকর হয়েছে। তাই ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের এই সিদ্ধান্ত মেনে নেননি চা শ্রমিকরা।
চা শ্রমিকরা এবং তাদের সংগঠনগুলো এই খসড়ার প্রতিবাদ করে আসছেন ওই সময় থেকেই। কিন্তু তাতেও টনক নড়েনি মজুরি বোর্ড কর্তৃপক্ষের। চলতি বছর জুন মাসের শেষ দিকে মজুরি বোর্ডর সর্বশেষ মিটিংয়েও ১২০ টাকা মজুরির সুপারিশ করে মজুরি বোর্ড। মজুরি বোর্ডের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে আগামী ৫ বছর ১২০ টাকা দৈনিক মজুরিতে কাজ করতে হবে চা শ্রমিকদের ৩০০ নয়। ন্যূনতম ৫০০ টাকা করা হোক এই চা শ্রমিকদের মজুরি। মানুষের মতো করে বেঁচে থাকার এইটুকু অধিকার দেশের নাগরিক হিসেবে তাদের অবশ্যই প্রাপ্য। এই প্রাপ্য অধিকার থেকে তাদের বঞ্চিত করা সুযোগ নাই। এই সব চা ব্যবসায়ীদের বেশিরভাগ লাইসেন্স নেই কারোরই।