admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২৬ এপ্রিল, ২০২০ ৯:৫৩ অপরাহ্ণ
নাগরিক ভাবনা, বুলবুল হোসেনঃ আপনারা অনেকে শুধু শুনেছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের করোনা শনাক্তের কিটের কথা কিন্তু দেখেন নি। তাছাড়া আবার আমরা অনেকে দেখলেও প্রক্রিয়া বুঝিনি। তাই ছবি তিনটি বিশ্লেষণের মাধ্যমে সংক্ষেপে একটু চেষ্টা করি আমাদের আবিষ্কার আর দৈন্যতার গল্প বোঝার।

১. প্রথম ছবিতে উদ্ভাবক ড. বিজন কুমার শীলের হাতে যে গোল প্লাস্টিকের চাকার মতো দেখতে পাচ্ছেন এইটাই মূলত কিট। কিন্তু শুধু কিটটি স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। এতে রক্ত ফোটা রাখার আগে কয়েকফোটা বিশেষ ধরনের লিকুইড দিতে হবে এর পর দিতে হবে রক্ত, এরপর ২য় ছবিতে হাতে যে ছোট্ট ড্রপারটি দেখতে পাচ্ছেন তাতেও একধরনের বিশেষ লিকুইড রয়েছে তা এক ফোটা মেশাতে হবে । ড. বিজন জানান এই লিকুইডের মূল উপাদানই হল গোল্ড প্লেটলেট। যা খুবই উচ্চ মূল্যের । কারণ সোনার এখন ভরি কত বলুন তো।
বিষয়টা ক্লিয়ার করে দেই। গহনটাহনা যে সোনা দিয়ে বানায় সেই সোনা প্রক্রিয়াজাত করেই এই লিকুইডে মেশানো হয়েছে। যা র কারণে এর একগ্রামের মূল্য ৪৫০ টাকার মতো পড়বে। যাইহোক এর পর মাত্র ৫ মিনিটেই রোগীর শরীরে করোনার এ্যান্ডিবডি কিংবা এন্টিজেন শনাক্ত হবে। আর এর মাধ্যমে বুঝা যাবে কে করোনায় আক্রান্ত আর কে না। ও হ্যা আর তৃতীয় ছবিতে যে দুটি বক্স দেখছেন তাতে এন্টিবডি এবং এন্টিজেনের আলাদা আলাদা কিট রয়েছে। যেগুলে প্রত্যেকটি সিলিকন জেল সহ ভিন্ন ভিন্ন স্যাচেটে সিল করা আছে। তো সব মিলে এই হল দেশের বিজ্ঞানীদের অক্লান্ত পরিশ্রমের আলোচিত সেই রেপিড করোনাভাইরাস শনাক্তকরণের কিট।কিন্তু দুঃখের বিষয় দীর্ঘ কয়েক মাস খাওয়া ঘুম বাদদিয়ে আমাদের বিজ্ঞানীরা মহামারীর প্রকোপ থেকে দেশকে বাঁচাতে যে কিট তারা আবিষ্কার করলেন সেজন্য আজ প্রাপ্তি তাদের অবহেলা আর অবজ্ঞা। দীর্ঘদিন ধরে কথাবার্তা আর আমন্ত্রণের পরও আজ– না ওষুধ প্রশাসন, না স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, না আইডিসিআর, না বঙ্গবন্ধু মেডিকেল …না সরকারের পক্ষ থেকে.. কেউ একজনও তাদের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হননি।

দেখুন এই গবেষক দলের উদ্ভাবিত কিট নিয়ে যদি বিতর্ক বা প্রশ্ন থাকে তবুতো আজ এই অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যের মন্ত্রী, সচিব ডিজিসহ সবাইকে অন্তত উপস্থিত থাকতে হতো আমাদের বিজ্ঞানীদের উৎসাহদিতে, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে। নিজেদের আবিষ্কারের প্রাপ্তি স্বীকার করতে। এরপর না হয় আপনারা কিট নিয়ে ব্যবহারের আগে থার্ড, ফোর্থ, ফিফথ যতখুশি বিভিন্ন পক্ষকে দিয়ে পরীক্ষা করান। সাফল্য সন্তোষজনক না হলে তাদের বলুন আরো ডেভলপ করতে, না হলে বাদ দিয়ে দেন।
কিন্তু আজ যা হল, তাতে আগামীতে এধরণের গবেষণা কতটা স্বতস্ফুর্ত হবে তানিয়ে যথেষ্ট সন্দিহান। দেখুন আমি কিন্তু এই বিজ্ঞানী দলের সবচেয়ে বড় সক্ষমতা বিচার করছি একেবারে শেষের দিকে মাত্র একটি ঘটনা দিয়ে। নিশ্চয় আপনারাও অনুধাবন করবেন।
একটি খেয়ালকরে দেখুন, সপ্তাহ তিনেক আগে তারা বলেছিল শুধু রোগীর শরীরের এন্টিবডি পরীক্ষা করে ১৫ মিনিটে তারা করোনা শনাক্ত করবে। কিন্তু তাতে আক্রান্তের অন্তত তিনদিন পরে টেস্ট করতে হবে । এর আগে হলে তার শরীরে এন্টিডোজ তৈরি হয়না ফলে এই কিটে কোন ফলও মিলবে না। কিন্তু এরপর যখন বিষয়টি নিয়ে অনেকে সমালোচনা করতে থাকলেন এই বলে যে এন্টিবডি অনেকের শরীরে তৈরি হতে সময় লাগে আবার অনেকের শরীরে ঠিকমতো তৈরি নাও হতে পারে ফলে এই পদ্ধতিতে বড় অংশ করোনা শনাক্তের আড়ালে থেকে যাবে। তখন বিপদ আরো বাড়বে।দেখুন এর পরই মাত্র দুই সপ্তাহে বিজ্ঞানীরা রক্তে ভাইরাসের প্রভাব অর্থাৎ এন্টিজেন শনাক্তের কিটও ডেভলপ করে ফেললেন। তাদের বক্তব্য হল এখন দরকার হলে প্রতি জনের শরীরের এন্টিবডি এবং এন্টিজেন দুটিই মাত্র ৫ মিনিটে আলাদা আলাদা কিটে পরীক্ষা করা যাবে। যাতে কেউ কোনভাবে শনাক্তের বাইরে থেকে না যায়।

কারো রক্তের এন্টিবডি পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত না হলে আশা করাহচ্ছে তিনি এন্টিজেন চেকে অবশ্যই শনাক্ত হবেন। আরেকটি বিষয় আগের পরীক্ষার সময় ১৫ মিনিট বলা হলেও এখন তা ডেভলপকরে মাত্র ৫ মিনিটে নিয়ে এসেছেন।তবে এতসবের পরেও পক্ষে বিপক্ষে নিশ্চয় নানা যুক্তি পাল্টা যুক্তি থাকবে। কিন্তু প্রশ্ন হল, থার্ড পার্টিকে দিয়ে পরীক্ষা করানোর আগেই অনেকে কেন এত বিরুদ্ধাচারণ করছেন আর কেনইবা পুরো বিষয়টাকে বার বার পাশ কাটিয়ে চলার অভিযোগ উঠছে। আর নিজেদের আবিষ্কারকে একটা ধন্যবাদ দিতেও কেন এত দৈন্যতা আমাদের।শুনতে পাই,আজকের বিশ্বখ্যাত ওরাল স্যালাইন যখন আইসিডিডিআরবির বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেন তখনও নাকি অনেকে নাক সিটকিয়ে ছিল।