কুমিল্লা প্রতিনিধি || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১২ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:০২ পূর্বাহ্ণ
কুমিল্লার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের মৃত্যুর ঘটনার পর প্রথমবারের মতো গণমাধ্যমের সামনে কথা বলেছেন তাঁর প্রেমিক হিসেবে পরিচিত রাজু। কীভাবে তাঁদের পরিচয়, কেন তাজমিন কক্সবাজারে গিয়েছিলেন, সেখান থেকে ফেরার পর কী ঘটেছিল এবং শেষ পর্যন্ত কীভাবে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়—এসব বিষয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছেন রাজু। রাজুর দাবি, ইনস্টাগ্রামে পরিচয়ের পর তাঁদের মধ্যে প্রায় তিন থেকে চার মাস কথা হয়। একপর্যায়ে সেই পরিচয় প্রে’মে’র সম্পর্কে রূপ নেয়। ।
সম্পর্ক চলাকালে একদিন তাজমিন তাঁকে জানান, পরিবারের সঙ্গে ঝগড়া করে তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে গেছেন এবং এক বান্ধবীর বাসায় রয়েছেন। সেখান থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া গিয়ে সে বলে,আমি তোমার সাথে দেখা করতে চাই।আমি তখন বলি,তুমি অত দূর থেকে কক্সবাজার কীভাবে আসবে? বলে,আমি একা একাই আসতে পারব, কোনো সমস্যা নেই। তুমি আমাকে লোকেশন পাঠাও, আমি লোকেশন অনুযায়ী চলে আসব।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একদিন থাকার পর তাজমিন রাতে গাড়িতে ওঠেন। পরদিন সকাল ছয়টার দিকে তিনি কক্সবাজারে পৌঁছান। এরপর রাজু সেখানে গিয়ে তাঁকে রিসিভ করেন।রাজুর বক্তব্য অনুযায়ী, পরে তাঁরা একটি রুম বুক করেন এবং সেখানে একদিন অবস্থান করেন।
রাজু জানান, কক্সবাজারে অবস্থানের সময় তিনি দেখেন তাজমিনের মোবাইলে তার বাবা-মা বারবার কল দিচ্ছেন। তখন তিনি তাজমিনকে বলেন,তুমি আজ বিকেলেই চলে যাও, আমি তোমার টিকিটের ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। এরপর তিনি এক্সপ্রেস কাউন্টার থেকে তার জন্য একটি সিঙ্গেল টিকিট কেটে দেন। পরদিন সাড়ে ৫টার দিকে তিনি তাজমিনকে গাড়িতে তুলে দেন। কুমিল্লা পৌঁছানো পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে তাজমিনের লাইভ লোকেশন শেয়ার করা ছিল এবং ফোনেও কথা হচ্ছিল।
রাজুর ভাষ্য, কুমিল্লা পৌঁছে তাজমিন তাঁকে ফোন করে বলে, “আমি বাড়ি গিয়ে দেখি মেইন গেট বন্ধ। আমি ঢুকতে পারছি না। আব্বুকে ফোন দিচ্ছি, কিন্তু আব্বুর ফোন বন্ধ।” রাজু তখন তাকে দরজার সামনে কিছুক্ষণ বসে থাকতে এবং অন্য কারও ফোন থেকে বাবাকে কল দিতে বলেন। কিন্তু তাজমিন বলে, “না, সমস্যা নেই। আমি আমার এক বন্ধুর বাবার দেখা পেয়েছি। উনার সঙ্গে বন্ধুর বাসায় যাচ্ছি। আজ রাতে সেখানেই থাকব, সকালে বাসায় চলে যাব। এ কথা বলেই সে কল কেটে দেয়।
রাজু আবার ভিডিও কল করলে দেখেন, তাজমিন একটি সিএনজিতে উঠছে। তিনি তাকে সিএনজি থেকে নেমে বাসার সামনে গিয়ে বসে থাকতে বলেন এবং এ নিয়ে কিছুটা বকাবকিও করেন। কিন্তু তাজমিন কল কেটে দেয় এবং লাইভ লোকেশন বন্ধ করে দেয়। সবশেষে সে রাজুকে একটি মেসেজ পাঠায়, “তুমি চিন্তা করো না, আমি আমার এক আঙ্কেলের বাসায় যাচ্ছি, কাল সকালে বাসায় ফিরে যাব।
পরদিন সকাল সাড়ে ১১টার দিকে, তাজমিন যেখানে পৌঁছেছিল সেখানে, তাঁদের আবার কথা হয়। রাজু বলেন, তাঁর ধারণা হচ্ছিল তাজমিন তখনো সিএনজিতেই আছে। ভিডিও কলে কথা বলার সময় এক লোক তাকে জিজ্ঞেস করেন,কার সঙ্গে কথা বলছ? সে উত্তর দেয় একা বন্ধুর সঙ্গে এরপরই কলটি কেটে যায়। এরপর থেকে তাজমিনের সঙ্গে রাজুর আর কোনো যোগাযোগ হয়নি।
রাজু জানান, পরদিন বিকেলে তাজমিন যে বন্ধুর বাসায় ছিল বলে তিনি শুনেছিলেন, সেই বন্ধুর মাধ্যমেই তিনি জানতে পারেন, তাজমিনকে হত্যা করা হয়েছে। তবে, এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে রাজুর বক্তব্যের পাশাপাশি তাজমিনের পরিবার, সংশ্লিষ্ট বন্ধু, হোটেলের নথি, ফোনের কল রেকর্ড, লোকেশন-সংক্রান্ত তথ্য এবং তদন্তের আনুষ্ঠানিক ফলাফল মিলিয়ে দেখা জরুরি।
কারণ, কোনো একটি পক্ষের বক্তব্য পুরো ঘটনার চূড়ান্ত সত্য প্রতিষ্ঠা করে না। তাজমিনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, শেষ সময়ের ঘটনাপ্রবাহ এবং দায়ী ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করতে প্রয়োজন নিরপেক্ষ ও প্রমাণভিত্তিক তদন্ত।