admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৪ মে, ২০২৩ ১:১২ অপরাহ্ণ
রফিকুল ইসলাম জিলু, ব্যুরো প্রধান: সাভারের একটি বাসায় প্রবেশ করে লাবনী আক্তার (৩৫)নামের এক গৃহবধূর কিডনি রোগী স্বামীকে গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে ২২ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে আমিনবাজার ফাঁড়ির এক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। এসময় তিনি প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। বুধবার (৩ মে) দুপুরে এ অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী নারী লাবনী। এর আগে সোমবার (১লা মে) সন্ধ্যায় সাভারের আমিনবাজার হিজলা গ্রামের ডুলু মিয়ার বাড়িতে প্রবেশ করে আদায়ের পর মাসোহারা দাবি করেন ওই পুলিশ সদস্য। অভিযুক্তরা হলেন- সাভারের আমিনবাজার পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মাহতাব ও তারই সোর্স আমিনবাজারের হিজলা গ্রামের আব্দুল মান্নান। ভুক্তভোগী গৃহবধূ সাভারের আমিনবাজার হিজলা গ্রামের ডুলুর স্ত্রী লাবনী আক্তার (৩৫) । এব্যাপারে ভুক্তভোগী লাবনী আক্তার বলেন, আমার স্বামী শারিরীক অবস্থা খুব খারাপ। তিনি কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন শয্যাশায়ী। ডাক্তার বলেছেন তিনি ৩/৪ মাসের বেশি বাঁচবেন না। এমনিতেই আমি স্বামীর চিকিৎসা চালিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছি। এর মাঝে আমিনবাজার ফাঁড়ির সহকারি-উপপরিদর্শক (এএসআই) মাহতাব কয়েক জন পুলিশ নিয়ে আমার বাড়িতে প্রবেশ করেন। পরে আমার কক্ষে প্রবেশ করে দরজা বন্ধ করে দিয়ে নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখিয়ে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে আমার গুরুতর অসুস্থ স্বামী তারা গ্রেপ্তার করবে বলে জানায়। কেন টাকা দাবি করছেন এমন প্রশ্ন করলে মাহতাব হ্যান্ডকাফ বের করে আমার স্বামীকে গ্রেপ্তার করতে যান। এসময় আমি কান্নাকাটি করে পুলিশের পায়ে পরি। অনেক অনুনয়-বিনয় করলেও তারা শোনেন নি। উল্টো খারাপ আচরণ করেন। পরে আব্দুল মান্নান নামের এক ব্যক্তি কক্ষে প্রবেশ ৪০ হাজার টাকা দাবি করেন। ভুক্তভোগী নারী আরও বলেন, আমি কান্নাকাটি করে তাদের বলি, আমার স্বামী অসুস্থ ২/৩ মাস বাঁচবে। তার চিকিৎসা করাতে গিয়েই তো আমি নিঃস্ব হয়েছি। এতো টাকা আমি কোথায় পাবো। তখন তারা বলেন, ‘তুই মাদক ব্যবসা করস, প্রতিদিন তোর ১৫/২০ হাজার টাকা ইনকাম। দ্রুত টাকা দিয়ে দে’। আমি কান্নাকাটি করে এতো টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা ২৫ হাজার টাকা দাবি করে ৩০ মিনিট সময় বেধে দেয়। আমি অনেক কষ্টে টাকা ধারদেনা করে ২২ হাজার টাকা সংগ্রহ করে মান্নানের ব্যক্তিগত অফিসে গিয়ে দিয়ে আসি। টাকাটা এএসআই মাহতাব আমার কাছ থেকে নিয়ে নেয়। এসময় মাহতাব স্যার বলেন, ‘তুই মাদকরে ব্যবসা করবি আর প্রতিমাসে আমাকে ২০ হাজার টাকা দিবি। টাকা দিলে আমি কোন ঝামেলা করবো না। আমি মাদক ব্যবসা করি না, আর প্রতিমাসে টাকাও দিতে পারবো না এমন কথা বললে ওই ২২ হাজার টাকা নিয়ে তারা চলে যায়। ভুক্তভোগী নারী বলেন, আমার স্বামী ঘরে পরে থাকায় মান্নান আমাকে কুপ্রস্তাব দেয়। রাজি না হওয়ায় সে আমার পিছনে লেগেছে। মান্নান আমার পূর্ব পরিচিত হওয়ায় সে সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে।আমিনবাজার ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য চাঁন মিয়ার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, মান্নান মূলত পুলিশের সোর্স হিসাবে কাজ করেন। তিনি এমনিতেও খারাপ প্রকৃতির লোক। তবে মান্নানের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার বন্ধ পাওয়া যায়। এমনকি ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও কোন প্রতিউত্তর মেলেনি। অভিযুক্ত আমিনবাজার ফাঁড়ির সহকারি উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মাহতাব বলেন, এরকম কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমি এখন ব্যস্ত আছি, আমি আপনাকে পরে ফোন দিচ্ছি। এক কথা বলেই মোবাইলের সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করেন তিনি। এই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে এর আগেও ঘরে প্রবেশ করে স্বর্ণের চেইন চুরির অভিযোগ রয়েছে। যদিও পরবর্তীতে চেইন পাওয়া গেছে বলে পরবর্তীতে বাদী তার অভিযোগ তুলে নেন। এ ব্যাপারে সাভার মডেল থানাধীন আমিন বাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) হারুন-অর-রশিদ বলেন, এমন কোনো তথ্য আমার জানা নেই। তবে অভিযোগ যেহেতু উঠেছে বিষয়টি আমি খোঁজ-খবর নিয়ে দেখছি।সাভার মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, এ রকম ঘটনা আমার জানা নেই। ভুক্তভোগীকে থানায় অভিযোগ দিতে বলেন, আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।