admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১৬ নভেম্বর, ২০১৯ ৮:০৫ পূর্বাহ্ণ
বন্যায় ভেনিসের ক্ষয়ক্ষতির মোট পরিমাণ এখনও হিসেব করা সম্ভব হয়নি।
ইতালির সেরা পর্যটন নগরীগুলোর একটি ভেনিস প্রবল বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে। জাতিসংঘের শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো ভেনিসকে বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে ঘোষণা করেছে। অনেকগুলো ছোট ছোট দ্বীপ নিয়ে গঠিত এই ভেনিস শহর। শত শত সেতু দ্বীপগুলোর মধ্যে সংযোগ রক্ষা করছে। পুরো শহর জুড়ে রয়েছে অনেকগুলো খাল, যেগুলো যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। ভেনিসের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো এর বাড়িঘর, যেগুলো কাঠের খুঁটির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। ফলে দেখে মনে হয় পুরো শহরটি পানিতে ভেসে আছে। কিন্তু এখন শহরটির ৮০% এলাকা চলতি সপ্তাহে জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় মেয়র লুইগি ব্রুনারো সেখানে জরুরি অবস্থা আইন জারি করেছেন।
ছবিতে দেখা যাচ্ছে, বন্যার জলে শহরের বিখ্যাত আকর্ষণগুলো এবং রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে।
কর্তৃপক্ষ বলছে, বন্যায় এপর্যন্ত দু’ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখন হিসেব করা সম্ভব হয়নি। তবে ইতালির সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব সালভানো নাস্তাসি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, পরিস্থিতি “বেশ জটিল ও উদ্বেগজনক” এবং বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বিবেচনার জন্য একটি সঙ্কটকালীন কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেন্ট মার্কস স্কয়ার, পর্যটকদের কাছে খুবই জনপ্রিয়। পর্যটকদের কাছে শহরের সবচেয়ে জনপ্রিয় জায়গা এটি। একে বলা হয় ‘ইউরোপের বৈঠকখানা। এটি মূলত একটি বিশাল চত্বর – যার চারপাশে রয়েছে নানা ধরনের ঐতিহাসিক নিদর্শন – সেন্ট মার্কস ব্যাসিলিকা ক্যাথলিক গির্জা এবং ডোজের প্রাসাদ। ভেনিস শহরটি যখন একটি স্বাধীন প্রজাতন্ত্র ছিল তখন এর শাসক, যাকে ডাকা হতো ডোজে নামে – তিনি এই প্রাসাদেই বসবাস করতেন। কিন্তু শহরের সবচেয়ে নিচু এলাকার একটি এই চত্বর এক মিটার (৩.২ ফুট) জলে ডুবে গেছে।

সেন্ট মার্কস স্কয়ার, পর্যটকদের কাছে খুবই জনপ্রিয়।
গির্জা কর্তৃপক্ষের সংরক্ষিত নথি থেকে জানা যাচ্ছে, গত ১২০০ বছরের মধ্যে এবার নিয়ে গির্জাটি মোট ছয়বার বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে। গির্জা ভবন এবং ১২শ শতাব্দীর ক্রিপ্ট বা মাটির তলার কবরখানা থেকে জোয়ারের পানি সরিয়ে নেয়ার জন্য পাম্প ব্যবহার করতে হয়েছে।
আশঙ্কা করা হচ্ছে বন্যার জলে গির্জার থামগুলোর ক্ষতি হয়েছে। লা ফেনিচেথিয়েটারের চারপাশে জোয়ারের পানি। তিয়াত্রো লা ফেনিচে (ফিনিক্স পাখি) হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে খ্যাতিমান অপেরা হাউসগুলোর অন্যতম। ১৮শ শতাব্দীর শেষের দিকে এই থিয়েটার ভবনটি নির্মাণ করা হয়।

লা ফেনিচে থিয়েটারের চারপাশে জোয়ারের পানি।
ভের্দি কিংবা রাসিনির মতো অপেরা জগতের সেরা ক’জন ব্যক্তিত্বের তৈরি অপেরা এখানে দেখানো হয়েছে। এটি তিন তিনবার আগুনে পুড়েছিল। কিন্তু এই থিয়েটার ভবনটির ভেতরের বেশিরভাগ অংশ বন্যার জন্য থেকে রক্ষা পেলেও এর নিয়ন্ত্রণ কক্ষ, যেখানে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি এবং অগ্নি-নির্বাপন যন্ত্র থাকে – সেটি জলে ডুবে গিয়েছে। গেরিত্তি প্রাসাদ হোটেল থেকে সব অতিথিকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। ভেনিসের সবচেয়ে বিলাসবহুল হোটেল হচ্ছে গেরিত্তি প্রাসাদ, যেটি দাঁড়িয়ে আছে গ্র্যান্ড ক্যানেলের ওপর। এই প্রাসাদটি নির্মাণ করা হয়েছিল ১৪৭৫ সালে। একসময় এটি ব্যক্তিগত বাসস্থান হিসেবে ব্যবহৃত হলেও এখন এটি একটি দামি হোটেল। ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল ও আমেরিকান লেখক আর্নেস্ট হেমিংওয়ে থেকে শুরু করে নানা দেশের রাজাবাদশাহ্, রাজনীতিবিদ এবং সেলেব্রিটিরা এই হোটেলে থেকেছেন।