admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১৫ ডিসেম্বর, ২০২০ ৯:২৬ পূর্বাহ্ণ
এক কিশোরীকে দলবেঁধে ধর্ষণ মামলায় মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত ৫ আসামি খালাস। দেড় যুগ আগে এক কিশোরীকে দলবেঁধে ধর্ষণ করা হয়েছিল। সেই ঘটনায় বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত পাঁচ আসামিকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট। আজ সোমবার এ রায় ঘোষণা করেছেন বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর হাইকোর্ট বেঞ্চ। মামলার ডেথ রেফারেন্স (মৃতুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের আবেদন) ও আসামিদের আপিল ও জেল আপিলের শুনানি নিয়ে আদালত এ রায় দেন। রাষ্ট্রপক্ষ দণ্ডিতদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পারেনি। সে জন্যই উচ্চ আদালত খালাসের এই রায় দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেন আসামি পক্ষের আইনজীবীরা।
এদিন আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে শুনানিতে অংশ নেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোজাম্মেল হক রানা সিদ্দিকী এবং আসামি পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এ কে এম ফজলুল হক খান ফরিদ, এ এম মাহবুব উদ্দিন, বজলুল কবির, আফিল উদ্দিন, সাকিব মাহবুব, সাইফুর রহমান রাহি ও রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী এস এম শফিকুল ইসলাম।
এ বিষয়ে আইনজীবী এ কে এম ফজলুল হক খান ফরিদ বলেন, মামলার বাদী যে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন, তার আলামত পাওয়া যায়নি। মেডিকেল রিপোর্টে এমনটাই উল্লেখ করা হয়েছে। তাছাড়া বাদীর দেয়া জবানবন্দির সঙ্গে মামলার বিবরণ ও সাক্ষীদের বক্তব্যে অসামঞ্জস্যতা ছিল। তাই ধর্ষণের অভিযোগটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়নি। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোজাম্মেল হক অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থতার জন্য সাক্ষীদের আচরণকে দায়ী করে বলেন, এ মামলায় মোট ১২ জন সাক্ষী ছিল। এর মধ্যে দুই প্রধান সাক্ষী আদালতে গিয়ে সাক্ষ্য দেয়নি। এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন সাক্ষী আসামিদের পক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছে। ফলে তাদের বৈরী ঘোষণা করা হয়।
এর আগে ঘটনার ১৩ বছর পর ২০১৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি মামলার ছয় আসামির মধ্যে পাঁচ জনকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। এ রায় দিয়েছিলেন নেত্রকোনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। রায়ে প্রত্যেককে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার পাশাপাশি ২৫ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ধর্ষণের শিকার কিশোরীর বাড়ি নেত্রকোনা সদর থানার বাহাদুরপুর গ্রামে। ২০০২ সালের ২০ জুলাই রাতে ওই কিশোরী তার মায়ের সঙ্গে পূর্বধলা উপজেলার সাতপাটি আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে কুমারখালী এলাকার হোগলা পাকা রাস্তার ব্রিজের ওপর পৌঁছালে পাঁচ আসামি ছুরি ও ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে রিকশার গতিরোধ করে। এরপর কিশোরীকে জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণ করে পরবর্তীতে পাশের একটি ভবনে নিয়ে পুনরায় ধর্ষণ করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে আসামিরা ওই কিশোরীকে নিয়ে বিলের পানিতে নেমে যায়। পরে সেখানে ওই কিশোরীকে ফেলে রেখে তারা পালিয়ে যায় বলে মামলায় বলা হয়েছে। তখন কিশোরীর বয়স ছিল মাত্র ১৫ বছর এবং সে নিজেই বাদী হয়ে পরদিন পূর্বধলা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।