admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১৩ আগস্ট, ২০২৩ ১১:১২ অপরাহ্ণ
মিসবাহ ইরান, মহেশখালী কক্সবাজার প্রতিনিধি: উন্নয়নের মহাযজ্ঞ চলছে মহেশখালীতে। একদিকে কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র অন্যদিকে গভীর সমুদ্র বন্দর। এসব উন্নয়ন হচ্ছে ঠিকই কিন্তু ব্যাহত হচ্ছে মহেশখালীর সামগ্রিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন। দিনদিন হ্রাস পাচ্ছে সাধারণ জনগণের জীবনযাত্রার মান। ধলঘাটা-মাতারবাড়ির বেড়িবাঁধ সংস্কারসহ যোগাযোগ, চিকিৎসা, বাসস্থান, শিক্ষা ও অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো থেকে পিছিয়ে পড়ছে মহেশখালী।যেখানে বাংলাদেশের অন্যান্য উপজেলায় দিনদিন এসব দিক এগিয়ে যাচ্ছে।
চালিয়াতলি থেকে মাতারবাড়ির অন্যতম যোগাযোগ এর প্রধান সড়কটি এখনও যাতায়াতের অনুপযোগী। টেন্ডার হয়েছে ঠিকই কিন্তু যেমন কাজের গতি নাই তেমনি কাজের গুনাগত মান নিয়ে প্রশ্ন রয়ে যায় ! মাতারবাড়ি ইউনিয়ন এর আয়তন প্রায় ৬৫৩২ একর বা ২৬.৪৩ বর্গ কিমি। ২০১১ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী এই ইউনিয়ন এর মোট জনসংখ্যা ৩৬৩০৯ জন। বর্তমান ৪৫ হাজার ছুয়েঁ গেছে। এতোগুলা মানুষের যাতায়াতের সড়কটি এখনোও অবহেলায় রয়ে গেছে। যাত্রীরা যাতায়াত করতে কষ্টে পাচ্ছে এ সড়ক পথে। কাজের মান ও সংস্কার নামে গিলে খাচ্ছে মাতারবাড়ি-চালিয়াতলির-ধলঘাটা সড়কের বাজেটের টাকা।
নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করার কথা থাকলে কাজ সম্পূর্ণ করতে পারেনি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান।মেগা প্রকল্প ভরা মাতারবাড়ি – ধলঘাটা ইউনিয়ন এর দেখবার করার প্রতিনিধিও এই মহেশখালী জনপদে নেই। এ সড়ক পথের দূর্ভোগ কখন শেষ হবে আদৌও দায়িত্বরত প্রতিনিধিরা কেউ বলতে পারেনা।
ধলঘাটার চিত্র মাতারবাড়ির চেয়ে বেহাল। যাতায়াত বা বেড়িবাঁধের ফলস্বরূপ সমাধান অত্র ইউনিয়নের মানুষ এখনও পায়নি। নেই কোনো উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্হা। সবসময় সাগরের সাথে যুদ্ধ করে জীবন যাপন করে বাঁচতে হয়। ৫৫১১ একর বা ২২.৩০ বর্গ কিলোমিটার এর ধলঘাটা ইউনিয়ন এর জনসংখ্যা প্রায় ২০হাজার। বর্তমান বসবাস এর অনুপযোগী হওয়ায় বা উন্নত বেড়িবাঁধ না হওয়ায় দিনদিন হ্রাস পাচ্ছে এই ইউনিয়নের ভূমি ও জনসংখ্যা।
কক্সবাজার জেলার সবচেয়ে ছোটো ইউনিয়ন এটি। এই ছোট্ট ইউনিয়নটিরও চোখে পড়ার মতো কোনো উন্নয়নমূলক কার্যক্রম হয়নি। ধলঘাটা ও মাতারবাড়িতে নেই কোনো মজবুত বেড়িবাঁধ। বর্ষা মৌসুমে হরহামেশাই আমরা দেখতে পায় বেড়িবাঁধ ভেঙে পানি ডুকার চিত্র। কে দেখবে এই দুই ইউনিয়ন এর আর্তচিৎকার। কার কাছে যাবে কোনো সুরাহা না ফেলে ? যার প্রেক্ষিতে হারিয়ে যাচ্ছে মহেশখালীতে এই ছোটো ইউনিয়নটি। ধলঘাটা-মাতারবাড়ি বাসিন্দারা বলেন, আশার বাণী শুনায় নেতারা। বর্ষার মৌসুমে যখন বেড়িবাঁধ ভেঙে যায় তখন আশ্বাস দিয়ে যায়। মুখে উন্নয়ন এর কথা বললেও কাজের বেলায় কোনো উন্নয়ন চোখে পড়েনা। তারা আরও বলে ”কেউ কথা দিয়ে কথা রাখেন”!
তেমনি শাপলাপুরে চিত্রই একই। দীর্ঘদিন জনতা বাজার থেকে ঘোরকগাটা পর্যন্ত রাস্তাটি সংস্কারের নামে অযত্নে ফেলে রাখছিলো। পরবর্তী তাড়াহুড়া করে রাস্তাটি অর্ধেক সম্পূর্ণ করে। এতে রাস্তার কাজের গুনগত মান নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। দীর্ঘদিন এ সড়কে যাতায়াত করা কষ্টকর ছিলো। সাহস করে কেউ বলতে পারনি কারণ শাপলাপুর সড়কটির টেন্ডার ছিলো মহেশখালী কুতুবদিয়ার সাংসদ আশেক উল্লাহ রফিক এমপির সহধর্মিণীর প্রতিষ্ঠান।
ঘোরকঘাটায় দুটো জেটিঘাট বিদ্যমান রয়েছে। আবার নতুন করে নান্দনিক জেটিঘাট নির্মাণ করার ঘোষণা দিয়েছে মহেশখালী-কুতুবদিয়ার সাংসদ আশেক উল্লাহ রফিক এমপি। অথচ মহেশখালীর সামগ্রিক অবকাঠামো উন্নয়ন না করে আবার নতুন করে জেটি ঘাট নির্মাণ প্রশ্ন তুলেছে সাধারণ মানুষ। কারণ হিসেবে দেখিয়েছেন বর্তমান যে দুটো জেটি ঘাট রয়েছে অল্প বাজেটে তা সংস্কার করা যেতো। একই জায়গায় ৩টি জেটি ঘাট সরকারি টাকার অপচয় ছাড়া কিছু নয়! আর নতুন জেটি ঘাট তৈরি করতে কাটতে হবে প্যারাবন। এগুলো হলো অপরিকল্পিত উন্নয়ন। যেখানে জেটি রয়েছে সেখানে নতুন জেটি বেমানান। পুরাতন জেটিঘাটে পল্টুন দিলে জনগণের কষ্ট অনেকাংশে লাগব হতো। মহেশখালীর অধিকাংশ সাধারণ মানুষ মনে করেন সাম্প্রতিক সময়ে পল্টুন বিষয়টি ধামাচাপা দিতে নতুন জেটি ঘাট এর উপস্হাপন ছাড়া আর কিছু নয়!
সংবাদকর্মী শহিদুল ইসলাম কাজল বলেন, নতুন জেটি ঘাটের বাজেট এর টাকা মাতারবাড়ি ও ধলঘাটায় টেকসই বেড়িবাঁধ দিলে দুটো ইউনিয়নের প্রায় ৬০ হাজারের মতো মামুষ উপকৃত হবে। তাছাড়া অত্র ইউনিয়ন এর পাশাপাশি কালারমারছড়া ও শাপলাপুর ইউনিয়নও ক্ষতিগ্রস্ত কম হতো। এ বৃহৎ স্বার্থ চিন্তা না করে একই জায়গায় ৩টি জেটি ঘাট সত্যি প্রশ্ন তুলেছে মহেশখালীর জনসাধারণ।
কুতুবজোম ইউনিয়ন এর ঘটি ভাঙ্গা ও সোনাদিয়া যাতায়াতের তেমন সুযোগ-সুবিধা নেই। বর্ষার মৌসুমে ঘটি ভাঙ্গাসহ আশেপাশের এলাকা বেড়িবাঁধ ভাঙ্গার কবলে পড়ে। এতে সাধারণ জনগণের যাতায়াতের বিঘ্ন ঘটে।
কালারমারছড়া চালিয়াতলি বা নোনাছড়িতে কোস্টাল কমিউনিটি সেন্টারে টেকনিক্যাল কলেজ হওয়ার কথা থাকলেও নেই কোনো অগ্রগতি। টমটম ও সিএনজির লাইন নামে খিলে খাচ্ছে লাখ লাখ টাকা। মহেশখালীতে প্রভাবশালী নেতারা একেকটা লাইন নিয়ে ঘাবড়ে ধরে রেখেছে। মহেশখালীর সিএনজি-টমটম এর লাইন বদরখালীতে। এতে যাত্রীদের হয়রানির শিকার হতে হয় প্রতিনিয়ত। এই লাইনের নেতৃত্ব দেয় আতাউল্লাহ বোখারী। বদরখালী লাইন থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা আতাউল্লাহ। দক্ষ নেতৃত্ব নাই বলে এই লাইন মহেশখালীর বাইরে। অন্য লাইনগুলো মহেশখালীর অভ্যন্তরে।
সাবেক কালারমারছড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহ্বায়ক আব্দু সালাম বলেন, বর্তমান বৈষম্য রাজনীতি চলমান মহেশখালীতে। এই বিভাজন বা বৈষম্যের কারণে মহেশখালীতে অভ্যন্তরীণ আঞ্চলিক অবকাঠামো দিনদিন পিছিয়ে যাচ্ছে। একদিকে প্রয়োজন না হওয়ার শর্তেও পাচ্ছে সরকারি সকল সুবিধা। অন্যদিকে দিনদিন পিছিয়ে যাচ্ছে সরকারি সুবিধাবঞ্চিতরা।
মহেশখালী উপজেলার আয়তন ৩৬২.১৮ বর্গ কিলোমিটার। কক্সবাজার জেলা সদর থেকে এ উপজেলার দুরত্ব প্রায় ১৫ কিলোমিটার। এ উপজেলার উত্তর-পূর্বে চকরিয়া, দক্ষিণে কক্সবাজার সদর,পশ্চিমে কুতুবদিয়া উপজেলা ও বঙ্গোপসাগর। এতো বড়ো উপজেলায় দেখার মতো কোনো পর্যটন শিল্প গড়ে তুলতে পারেনি। যা গড়ে ওঠেছে তা প্রাকৃতিকভাবে। আর প্রাকৃতিক প্যারাবন কেটে কেটে নতুনভাবে তৈরী করা হচ্ছে আরেকটি জেটি ঘাট। এতে পরিবেশ ভারসাম্য নষ্ট হাওয়ার পাশা