হোম
অপরাধ

ইন্দোনেশিয়ার জঙ্গিদের জন্য বোমা বানাতেন আলি ফৌজি,পাঁচ মিনিটের মধ্যে একটা বোমা বানিয়ে ফেরতে পারেন

admin || মুক্ত কলম সংবাদ

প্রকাশিত: ১৬ জুন, ২০২০ ৮:১৯ পূর্বাহ্ণ

Indonesia-Bomaru-Ali.Fauzi-mknewsbd

ফাইল ছবি

ইন্দোনেশিয় প্রতিনিধিঃ আলি ফৌজি পাঁচ মিনিটের মধ্যে একটা বোমা বানিয়ে ফেরতে পারেন। আমি একজন দক্ষ বোমা প্রস্তুতকারক। আমি পাঁচ মিনিটের মধ্যে একটা বোমা বানিয়ে ফেলতে পারি। আলি ফৌজি ছিলেন জেমা ইসলামিয়ার একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। জেমা ইসলামিয়া হচ্ছে ইন্দোনেশিয়ার একটি জঙ্গী গোষ্ঠী – যাদের সাথে আল-কায়েদার সম্পর্ক আছে। ইন্দোনেশিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জঙ্গী হামলা হয়েছিল ২০০২ সালে বালিতে, যাতে ২০০ লোক নিহত হয়। ওই আক্রমণের জন্য জেমা ইসলামিয়াকে দায়ী করা হয়।

আমার ভাইয়েরা বালি দ্বীপের পর্যটন এলাকার কেন্দ্রস্থলে বোমা আক্রমণটি চালিয়েছিল। এটা ছিল একটা বড় আকারের বোমা।
ওই গোষ্ঠীটি ইন্দোনেশিয়ায় বড় বড় হোটেল এবং কিছু পশ্চিমা দেশের দূতাবাসে আরো কয়েকটি বোমা হামলা চালায়। গোষ্ঠীটির মূল ঘাঁটি ছিল পূর্ব জাভার লামোগানে আপাতদৃষ্টিতে নিভৃত একটি গ্রাম টেঙ্গুলুনে। এখন অবশ্য আলি ফৌজির মিশন একেবারেই অন্যরকম। তিনি সাবেক জিহাদিদের সহিংসতার জীবন ত্যাগের কাজে সহায়তা করেন। তা ছাড়া দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার জঙ্গী গ্রুপগুলোতে নতুন ছেলেরা যেন যোগ না দেয় সে জন্যও কাজ করেন তিনি। আলি ফৌজি বলছেন, বাস্তবতা হলো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীতে নতুন লোক নিয়ে আসার কাজটা অনেক সহজ।

বালিতে ২০০২ সালের বোমা হামলায় বিধ্বস্ত নাইটক্লাব ।

বালিতে ২০০২ সালের বোমা হামলায় বিধ্বস্ত নাইটক্লাব ।

তাদের শুধু একটা ট্রিগার টিপতে হয়, আর অনেক লোক তাদের সাথে যোগ দেয়। কিন্তু ডি-র‍্যাডিক্যালাইজেশন বা উগ্রপন্থা থেকে মানুষকে সরিয়ে আনতে সময় লাগে অনেক। এটা করতে হয় ধাপে ধাপে। আলি ফৌজিকে তার এই নতুন মিশনের জন্য ব্যক্তিগতভোবে অনেক চড়া ‍মূল্য দিতে হচ্ছে। আমাকে যে ঝুঁকি নিতে হচ্ছে তা অত্যন্ত তীব্র। শুধু মৌখিক আক্রমণ নয়, রয়েছে হত্যার হুমকি। কিন্তু সত্যি বলতে কি আমি ভয় পাই না কারণ আমি জানি আমি যা করছি তা সঠিক। আমি এ কাজ করার জন্য যে কোন সময় মরতে প্রস্তুত। বালিতে ২০০২ সালের বোমা হামলায় বিধ্বস্ত নাইটক্লাব ।

কীভাবে জঙ্গী গোষ্ঠীতে যোগ দিয়েছিলেন আলি ফৌজি?
আলি ফৌজি আর তার ভাইয়েরা জঙ্গী গোষ্ঠীতে যোগ দিতে উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন মোবাইল ফোনে বিদেশের নানা যুদ্ধের ভিডিও দেখে। জাভার নিভৃত গ্রামে বসে তারা দেখতেন আফগানিস্তান, বসনিয়া আর ফিলিস্তিনের যুদ্ধের ভিডিও। আমরা দেখতাম বেসামরিক লোকদের ওপর বর্বর আক্রমণের ভিডিও। আমি চাইতাম অত্যাচারীদের হাত থেকে মুসলিম জনগণকে রক্ষা করার জন্য জিহাদ করতে। তখন বয়স কম, রক্ত গরম। আমি চাইতাম পাল্টা লড়াই করতে। আলি ফৌজির ভাইয়েরা মুজাহিদীনের হয়ে যুদ্ধ করতে গেলেন আফগানিস্তানে। আলি ফৌজি দেশ থেকে বেশি দূরে যান নি। তিনি যোগ দিলেন দক্ষিণ ফিলিপিনে একটি মুসলিম আবাসভূমি প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াইরত ইসলামী জঙ্গিদের সাথে।

আমি আসলেই চেয়েছিলাম যেন সেখানে আমার মৃত্যু হয়। আমি সব সময়ই আমার মৃত্যুর কথা কল্পনা করতাম বলেন তিনি।
আমি বিশ্বাস করতাম আমার যদি যুদ্ধে মৃত্যু হয় তাহলে আমি সোজা বেহেশতে চলে যাবে এবং ফেরেশতাদের সাথে আমার দেখা হবে। আমাদের ওস্তাদরা একথাই আমাদের প্রতিদিন বলতেন।

আলি ফৌজির তৃতীয় ভাই আলি ইমরন।

আলি ফৌজির তৃতীয় ভাই আলি ইমরন।

দেশে ফেরার পর কী করলেন তারাঃ আলি ফৌজির ভাইয়েরা দেশে ফেরার পর তারা বিদেশে যা শিখেছিলেন – তা প্রয়োগ করতে শুরু করলেন ।২০০২ সালের অক্টোবর মাসে বালির কুটা এলাকায় নাইটক্লাবগুলো লক্ষ্য করে দুটি বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় যে দলটি তাতে ছিলেন তারা। এই দ্বীপটি আন্তর্জাতিক পর্যটকদের মধ্যে জনপ্রিয় ছিল। ‍আমি টিভিতে সেই ঘটনা, এবং এত বেশি মৃতদেহ দেখে স্তম্ভিত হলাম” বললেন আলি ফৌজি এ ঘটনার পর কর্তৃপক্ষ সরাসরি আমাদের বিরুদ্ধে অভিযানে নেমে পড়লো। তার দুই ভাই আলি গুফরন এবং আমরোজির মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হলো ওই ঘটনায়। তৃতীয় ভাই আলি ইমরনের হলো যাবজ্জীবন কারাদন্ড।

আলি ফৌজির তৃতীয় ভাই আলি ইমরন। বালির বোমা হামলার জন্য তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে। আলি ফৌজি জোর দিয়ে বলেন, তিনি বালির বোমা হামলায় জড়িত ছিলেন না। তিনি অন্য কয়েকটি সন্ত্রাস-সম্পর্কিত অপরাধের জন্য তিন বছর জেল খাটলেন। আর সে সময়ই তার জীবন নাটকীয়ভাবে নতুন এক দিকে মোড় নিল।

বোমা হামলার শিকারদের পরিবারের সাথে সাক্ষাৎঃ পুলিশ আমার সাথে খুবই মানবিক আচরণ করেছিল। যদি তারা আমার ওপর অত্যাচার করতো তাহলে হয়তো আমার পরের সাত প্রজন্ম ইন্দোনেশিয়ার সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতো বলছেন আলি ফৌজি। ‍আমরা পুলিশকে ঘৃণা করতাম। মনে করতাম, ওরা সাক্ষাৎ শয়তান। এভাবেই আমাদের শেখানো হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবতা ছিল একেবারেই ভিন্ন। তখনই আমার পুরো দৃষ্টিভঙ্গী একেবারেই পাল্টে গেল। তার দলের চালানো আক্রমণের শিকার হয়েছিলেন যারা তাদের সাথে দেখাও করেছিলেন আলি ফৌজি। আমি কেঁদেছিলাম। আমাদের বোমায় যে ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছিল তা দেখে আমার মন ভেঙে গিয়েছিল। তার পরই আমার মধ্যে যুদ্ধের দূত থেকে পরিবর্তিত হয়ে একজন শান্তির যোদ্ধায় পরিণত হবার ইচ্ছে তৈরি হয় ।

টেংগুলুন গ্রামে আলি ফৌজির সংগঠনের সভা

টেংগুলুন গ্রামে আলি ফৌজির সংগঠনের সভা

শান্তি চক্রঃ টেংগুলুন গ্রামের প্রধান মসজিদে থেকে মাগরেবের আজান হচ্ছে। মাসজিদের পাশে একটি চারকোণা খালি জায়গা। সেখানেও পেতে দেয়া হলো জায়নামাজ। এই জায়গাটির পাশেই ‌শান্তি চক্রের অফিস। এই প্রতিষ্ঠানটি ২০১৬ সাল থেকে গড়ে তুলছেন আলি ফৌজি। তার উদ্দেশ্য উগ্রপন্থা থেকে মানুষকে ফিরিয়ে আনা। আজকের নামাজে ইমাম হচ্ছেন বালির বোমা হামলার শিকার হওয়া দুজন। তাদেরকে সম্মানিত অতিথি করে নিয়ে আসা হয়েছে সেই গ্রামে যে গ্রাম ছিল সেই আক্রমণের জন্য দায়ী জঙ্গিদের এক সময়কার ঘাঁটি।

আলি ফৌজি বলছেন, ‍আমি প্রায়ই ওই হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের এখানে নিয়ে আসি। কারণ তাদের সাথে সাক্ষাতের মধ্যে দিয়েই আমার মনে পরিবর্তন এসেছিল। মঞ্চের পাশে একটি পর্দায় দেখানো হচ্ছে ইন্দোনেশিয়ায় সকল বোমা হামলার পরের ভয়াবহ ধ্বংসলীলার ভিডিও। এই সভা প্রকৃতপক্ষেই নজিরবিহীন। কারণ এতে আগতদের মধ্যে আছে পুলিশের লোকেরা যারা এই গ্রামের লোকদের গ্রেফতার করেছেন। আবার সেই লোকেরাও আছেন যারা সন্ত্রাসের দায়ে জেল খেটেছেন। তারা এখানে এসে শুনছেন সেই বোমা হামলাগুলোর শিকারদের কথা। অশ্রূসজল চোখে তারা বর্ণনা করছেন তাদের মর্মান্তিক অভিজ্ঞতার কথা।

জুলিয়া মহেন্দ্র। তার বাবা আমরোজির মৃত্যুদন্ড হয়েছে ২০০২ সালের বালি বোমা হামলার জন্য

জুলিয়া মহেন্দ্র। তার বাবা আমরোজির মৃত্যুদন্ড হয়েছে ২০০২ সালের বালি বোমা হামলার জন্য

শ্রোতাদের মধ্যে একজন হলেন ৩৩ বছর বয়স্ক জুলিয়া মহেন্দ্র। তার বাবা আমরোজি বালির আক্রমণে জড়িত থাকার জন্য মৃত্যুদণ্ড হয়। তার দণ্ড যখন কার্যকর করা হয় তখন জুলিয়া মহেন্দ্র ছিলেন ১৬ বছরের কিশোর। আমরোজিকে সংবাদমাধ্যম নাম দিয়েছিল ‘সহাস্য ঘাতক কারণ বিচারের সময় তার মধ্যে কোন গ্লানি দেখা যায়নি, তিনি হাসছিলেন এবং মৃত্যুদণ্ড নিয়েও তার কোন চিন্তা ছিল না। সভার পর জুলিয়া মহেন্দ্র বোমা হামলার দুই শিকারের সাথে কথা বললেন। তাদের আলিঙ্গন করলেন, হাত ধরলেন, বার বার দু:খ প্রকাশ করলেন। তিনি বলছেন,‍ আমি দুঃখ প্রকাশ করছি এই জন্য নয় যে আমি কোন অপরাধ করেছি। কিন্তু তিনি ছিলেন আমার বাবা, এবং এই লোকেরা আমার পরিবারের একটা কাজের শিকার। আমার দায়িত্ব আছে আমার বাবার পক্ষ থেকে দু:খ প্রকাশ করার। মহেন্দ্র পিতার মৃত্যুদন্ডের প্রতিশোধ নিতে চেয়েছিলেন জুলিয়া মহেন্দ্রর জীবনও বিস্ময়কর সব পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে গেছে।

আমার বাবার যখন মৃত্যুদন্ড কার্যকর হলো তখন আমি চেয়েছিলাম প্রতিশোধ নিতে। আমিও চেয়েছিলাম বোমা বানানো শিখতে স্বীকার করলেন তিনি। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে এবং আমার দুই চাচা আলি ফৌজি এবং আলি ইমরনের উপদেশ-পরামর্শে আমি ধীরে ধীরে উপলব্ধি করলাম – সেটা হবে ভুল পথ। আমি তথন সন্ত্রাসীদের মধ্যে পরিবর্তন আনার যে প্রকল্প তারা শুরু করেছেন তাতে যোগ দিলাম। মহেন্দ্র বলছেন আমি অনেক পথ পেরিয়ে এখানে এসে পৌঁছেছি। কিন্তু এখন আমি বুঝতে পেরেছি যে জিহাদ মানে যুদ্ধ করা বা মানুষ হত্যা নয়। নিজের পরিবারের জন্য পরিশ্রম করাটা জিহাদ হতে পারে।

মহেন্দ্র বলছেন একদিন রাতে তার ঘুমন্ত শিশুপুত্রের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে তার চোখে জল আসে, তিনি তার নিজের পিতার কথা ভাবতে থাকেন। তিনি বলছেন আমি যার ভেতর দিয়ে গেছি আমি চাই না আমার ছেলে তার মধ্যে দিয়ে যাক। আমি যদি আমার বাবার পথ নিতাম তাহলে আমার সন্তান পরিত্যক্ত হতো। আমি বুঝেছিলাম, সত্যিকার জিহাদ হবে তাদের যত্ন নেয়া, সুরক্ষা দেয়া। তবে মহেন্দ্র বলেন তার কিছু বন্ধু ইন্দোনেশিয়ার কয়েকটি জঙ্গি গ্রূপে যোগ দিয়েছে যাদর সাথে ইসলামিক স্টেট (আইএস) গোষ্ঠীর কিছু যোগাযোগ আছে।

কেন লোকে ওই পথে যায় তার অনেক কারণ আছে। তার অর্থনৈতিক অবস্থা, করার মতো কিছু না থাকা, তাদেরকে কি শেখানো হয়েছে, কারা তাদেরকে প্রভাবিত করেছে এমন অনেক কিছু। জেলে বন্দীদের মধ্যেও কাজ করেন আলি ফৌজি লামোঙ্গান কারাগারের দরজায় টোকা দিলেন আলি ফৌজি। তার পরিচিত জায়গা এটি। এখানে তিনি প্রায়ই আসেন তার পরিবারের কারাভোগরত সদস্যদের সাথে দেখা করতে। তবে শুধু তাই নয়, নতুন বন্দীদের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেবার জন্যও কাজ করেন তিনি।

উগ্রপন্থা থেকে মানুষকে ফিরিয়ে আনার জন্য আমি যেভাবে কাজ করি তা কোন তত্ত্বের ওপর প্রতিষ্ঠিত নয়। আমি কাজ করি আমার জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে। আমি একজন যোদ্ধা এবং সন্ত্রাসী ছিলাম। তাই আমি এখানে আসি তাদের একজন বন্ধু হিসেবে। এ জন্য বাধারও সম্মুখীন হয়েছেন আলি ফৌজি। যেহেতু তিনি পুলিশের সাথে কাজ করেন , তাই কিছু লোক তাকে দেখে একজন বিশ্বাসঘাতক হিসেবে। তারা বলে, আমি পুলিশ বা তারা রক্ষীদের চাইতেও বড় কাফির। অনলাইনে আমাকে নিয়মিত গালাগালি করা হয়, ফোনে হুমকি দেয়া হয়। কিন্তু তাতে কিছু এসে যায় না। আমি এটা সামলাতে পারি। আলি ফৌজি বলছেন, ২০১৬ সাল থেকে তার প্রতিষ্ঠান ৯৮ জনের সাথে কাজ করেছে, এবং তার মধ্যে দু‌জন জেল থেকে বেরিয়েই আবার জঙ্গি তৎপরতায় যোগ দিয়েছে। উগ্রপন্থা থেকে ফিরিয়ে আনা সহজ নয় কারণ আমাদের মানুষের আবেগ এবং চিন্তাধারা নিয়ে কাজ করতে হয়। তাই আপনাকে সঠিক ওষুধ দিতে হবে, এবং এ ক্ষেত্রে আমরা কখনো কখনো ভুল করি। সুমার্নো জেমা ইসলামিয়ার অস্ত্রশস্ত্র লুকিয়ে রেখেছিলেন তবে কখনো কখনো তারা সফলও হন। সুমার্নো হচ্ছেন আলি ফৌজির ভাষায় – তাদের একটি সাফল্যের কাহিনি।

সুমার্নোর কাহিনিঃ সুমার্নো আমাকে তাদের গ্রামের বাইরে একটি রাস্তার পাশের শুকনো ক্ষেতে নিয়ে গেলেন। তিনি বললেন বালি বোমা হামলার পর এখানেই তিনি জেমাহ ইসলামিয়ার অস্ত্রশস্ত্র লুকিয়ে রেখেছিলেন। সুমার্নো তিন বছর জেল খাটার পর আলি ফৌজির সহায়তা নিয়ে একটি ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করেন। এটি একটি ছোট ট্রাভেল কোম্পানি – যা ইন্দোনেশিয়া থেকে হজযাত্রীদের মক্কায় নিয়ে যাবার প্যাকেজ দেয়। গ্রাম থেকে গাড়িতে ২০ মিনিট দূরের পাসিরানে তাদের অফিস। সুমার্নো বলছেন, তিনি এ ব্যবসার মাধ্যমে সমাজকে কিছু ফিরিয়ে দিতে চান এবং তার সহিংসতার জীবন পেছনে ফেলে এগিয়ে যেতে চান। তিনি বলছেন, প্রথম দিকে তিনি তার মক্কেলদের তার অতীতের কথা বা এমনকি কোন গ্রামে তার জন্ম – তাও বলতেন না।
তবে এখন তিনি আর এসব কথা গোপন করেন না। ‍আমি লোককে আমি বলি, আমি আলি গুফরন আর আমরোজির সম্পর্কীয় ভাই যাদের বালির বোমা হামলার জন্য মৃত্যুদন্ড হয়েছে। একথাও বলি যে আমি তাদের দলে ছিলাম – কিন্তু আল্লাহকে ধন্যবাদ যে আমি সেই নষ্ট চিন্তা থেকে মুক্ত হয়েছি। সেই আমিই আপনাদের মক্কা যাত্রার গাইড।

আফটার-স্কুল‌ ক্লাবঃ এই গ্রামের মসজিদের পাশে একটি ঘরে ছেলেমেয়েরা তাদের স্কুলের সময় শেষ হয়ে যাবার পরও কোরান শিক্ষার ক্লাস করে। এখানে যারা আসে তাদের কারো কারো পিতামাতা সন্ত্রাসের অভিযোগে জেলে আছে। এই স্কুলের শিক্ষকদের মধ্যে আছেন আলি ফৌজির স্ত্রী লুলু, আর আলি ইমরনের স্ত্রী জুমরোত্তিন নিসা। লুলু বলেন, তারা এই ছেলেমেয়েদের শেখান যে পৃথিবীর সবাই এক মতবাদে বিশ্বাস করে না।আফটার-স্কুল কার্যক্রম চালাচ্ছেন লুলু ফৌজি ‍আমাদের গ্রামে এমন অনেকে আছে যারা মুসলিম নয়, এবং যতক্ষণ তারা আমাদের ধর্মে হস্তক্ষেপ না করছে ততক্ষণ আমাদের তাদেরকে সম্মান করতে হবে । তবে লুলু বলছেন, তারা সবাইকে বোঝাতে পারেননি।

আমাদের নতুন মিশনের পক্ষে বা বিপক্ষেও অনেক লোক আছে। যারা এখনো জঙ্গি তারা আমাদের পছন্দ করে না। তারা আমাদের সাথে দূরত্ব রক্ষা করে। বালির হামলায় বহু নিরপরাধ মানুষ নিহত হয়েছে যাদের মধ্যে মুসলিমও ছিল। এটা আমাদের গোষ্ঠীর মধ্যে পরিবর্তন এনেছে, তবে অনেকে আছে যারা বদলায়নি। পূর্ব জাভার গির্জায় আত্মঘাতী বোমা হামলা গত বছর মে মাসে পূর্ব জাভার তিনটি গির্জায় আক্রমণ চালায় আত্মঘাতী হামলাকারী একটি পুরো পরিবার। একটি গির্জায় হামলা চালায় পরিবারটির পিতা। আরেকটিতে তার দুই পুত্র। আর তৃতীয়টিতে বিস্ফোরণ ঘটায় তার স্ত্রী এই ১২ ও ৯ বছরের দুই কন্যা। তারা ছিল জামাহ আরসারুত দাওলা (জে এ ডি) নামে একটি নেটওয়ার্কের সদস্য যাদের সাথে আইএসের যোগাযোগ আছে। জে এ ডি ইন্দোনেশিয়ায় নিরাপত্তা বাহিনী ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর বেশ কয়েকটি হামলা চালিয়েছে। লুলু ফৌজি বলছিলেন, নারীরা এরকম আক্রমণে অংশ নিচ্ছে এটা দেখে তিনি স্তম্ভিত হয়েছেন।

আমার স্বামী সন্ত্রাসের জন্য কারাভোগরতদের সুপথে ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করছে, অনেক ক্ষেত্রে সফল হয়েছে। কিন্তু কিছু লোক এখনো উগ্রপন্থীই আছে, আমরা কখনো এটা সম্পূর্ণ দূর করতে পারবোনা। গ্রামের পথ দিয়ে গাড়িতে যাবার সময় আলি ফৌজির ফোনে একের পর এক কল আসছিল। একবার তিনি কথা বললেন, সন্ত্রাসের দায়ে জেল খেটে ছাড়া পাওয়া একজনের সাথে – যে একটা থাকার জায়গা পাবার জন্য সহায়তা চাইছে। আরেকজন মহিলা ফোন করে বললেন, তার ছেলেকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

আমাদের এলাকার বেশ কিছু লোক সিরিয়া ও ইরাকে আইএসের হয়ে যুদ্ধ করতে গেছে। কদিন আগে একজন আইএস সদস্যকে পুলিশ আটক করেছে। এর অর্থ তারা আছে এবং তারা ইন্দোনেশিয়ার জন্য হুমকি। আলি ফৌজি বলছেন, উগ্রপন্থা এবং অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে একটা লড়াই চলছে। আমরা যদি পরিশ্রম করি এবং এলাকার মানুষদের আমাদের পাশে পাই তাহলে এখনো আমি এ যুদ্ধে জয়ী হবার আশা করি।

ফেসবুক মন্তব্য

মতামত জানান :

সর্বশেষ খবর

সীমান্তে বাংলাদেশি বৃদ্ধকে আটকের জবাবে ভারতীয় যুবককে ধরে আনল এলাকাবাসী।
রংপুর 12 hours আগে

সুনামগঞ্জে প্রকাশ্যে ব্যবসায়ীকে মারধর ও পিস্তল ঠেকানোর অভিযোগ।
অপরাধ 1 day আগে

রাতের আঁধারে ড্রেজার তাণ্ডব, হুমকির মুখে যাদুকাটার দুই পাড়ের ২০-২৫
আইন-বিচার 1 day আগে

সুনামগঞ্জে জমি বিরোধে নারীসহ ৬ জনকে কুপিয়ে আহত, ১২ দিন
অপরাধ 1 day আগে

ঠাকুরগাঁওয়ে অনলাইন ক্যাসিনো কার্যক্রমে জড়িত থাকায় খোরশেদ গ্রেপ্তার।
রংপুর 2 days আগে

সাভারে টাকার অভাবে জোড়া লাগছে না মাথার হাড় ৮ বছরের
ঢাকা 2 days আগে

পঞ্চগড়ে ২১৮ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক।
অপরাধ 2 days আগে

বগুড়া-নওগাঁ সড়কে বেপরোয়া বাসের তাণ্ডব: প্রাণ গেল ৬ জনের, হাসপাতালে
দুর্ঘটনা 2 days আগে

ঠাকুরগাঁওয়ে ইউএনওকে অভিযোগের পরও বাল্য বিবাহ,কাজীর বক্তব্যে নতুন বিতর্ক।
রংপুর 2 days আগে

নাগরিক ভাবনা: জীবনের এক পর্যায়ে আমরা শোষক এবং আর পর্যায়ে
নাগরিক ভাবনা 3 days আগে

পাঠকপ্রিয়

শিরোনাম :

কুড়িগ্রামে ঐতিহাসিক আসনে কঠিন চ্যালেঞ্জে জাপা,মাঠ গরম এনসিপি-বিএনপির। হাদীর ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় দিনাজপুর সীমান্ত ৪২ বিজিবির রেড অ্যালার্ট জারি। রোহিঙ্গা মেয়েরা পাচার ছাড়াও বিদেশীদের দ্বারা যৌন কাজে ব্যবহারের টার্গেট হয়ে উঠছে ঠাকুরগাঁওয়ে নানা কর্মসূচিতে হানাদার মুক্ত দিবস উদযাপিত। ঠাকুরগাঁও জেলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ৪র্থ জেলা রোভার মুট-২০২৫। কুড়িগ্রামের রাজারহাটে প্রাণিসম্পদ সপ্তাহের প্রদর্শনী ও সমাপনী অনুষ্ঠিত। পার্বতীপুরে জাতীয় প্রাণি সম্পদ ও ডেইরি প্রকল্পের উদ্বোধন। রাণীশংকৈলে জাতীয় প্রাণীসম্পদ সপ্তাহ ও প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত পলাতক শেখ হাসিনার অগ্রণী ব্যাংকের লকার ভেঙে ৮৩২ ভরি স্বর্ণ জব্দ রাজশাহীতে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১০ জন ৩ ডিসেম্বর রংপুরে বিভাগীয় মহাসমাবেশ সফল করতে দিনাজপুরে ৮ ইসলামী দলের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত। দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতে সব বাহিনী প্রস্তুত: সিইসি পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৬ হাজার কৃষক পাচ্ছে বিনামূল্যে গম বীজ ও সার। মাত্র চার মাসের শিশু সুমাইয়া বাঁচতে চায়! পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় হেফাজতে ইসলামের নতুন কমিটি গঠন। ভূমিকম্পে সম্ভাব্য ক্ষতি কমাতে এখনই শক্তিশালী ও সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে: সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান রাজধানীতে  আজ থেকে ঘরে বসেই মেট্রোরেলের কার্ড রিচার্জ করবেন? নীলফামারীতে পাটবীজ উৎপাদনকারী চাষীদের প্রশিক্ষণ। আর কোনো পরিস্থিতি নেই যে নির্বাচন ব্যাহত হবে-ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল  ৫-বছরেও শেষ হয়নি ওয়াশব্লকের নির্মাণ কাজ-জনস্বাস্থ্য অফিস বলছেন বাদ দেন চা খাওয়ার জন্য কিছু নেন। পার্বতীপুরে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকারের দাবীতে কর্মী সভা। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় নদী বাঁচাও আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নাগরিক সমাবেশ। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া ইউএনও এক গৃহহীন ভারসাম্যহীন নারীর পাশে দাঁড়ালো। ৮ দফা দাবিতে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর নার্সিং এসোসিয়েশন দিনাজপুর জেলা শাখার স্মারকলিপি ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে ইউনিয়ন সিএসওর লাইভস্টক সংলাপ সভা অনুষ্ঠিত বগুড়ায় প্রেম করে বিয়ে অতপর ভাড়া বাসায় স্ত্রীকে হত্যা করল স্বামী। দিনাজপুরে ৩ দিনব্যাপী উদ্যোক্তা মেলা ও পিঠা উৎসবের সমাপনী। দিনাজপুরের বিরলে শতাধিক নেতা-কর্মীর মামলা থেকে বাঁচতে ফ্যাসিস্ট আ,লীগ থেকে পদত্যাগ! অভিযোগ দিয়ে ও কাজ বন্ধ হচ্ছে না আদমদিঘীতে সরকারি জায়গা দখল করে করা হচ্ছে অবকাঠামো নির্মাণ! বগুড়ার কইপাড়ায় নববধূ শম্পা হত্যার অভিযোগ, যৌতুক দাবির জেরে স্বামী আটক