admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৫ ডিসেম্বর, ২০২১ ৭:৪৩ পূর্বাহ্ণ
মিজ রিড্ডু নিংদার, স্টাফ রিপোর্টারর ইন্দোনেশিয়ারঃ ইন্দোনেশিয়ার আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত থেকে বাঁচতে পালাচ্ছে বহু মানুষ। জাভা দ্বীপে মাউন্ট সেমেরু আগ্নেয়গিরি থেকে অগ্ন্যুৎপাত শুরু হলে একজন নিহত এবং ৪১ জন অগ্নিদগ্ধ হয়েছে বলে দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করা ভিডিওতে ধেয়ে আসা ছাইয়ের মেঘ থেকে দ্বীপের মানুষজনকে পালাতে দেখা গেছে। স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে হঠাৎ করে অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয়।
কোন কোন জায়গায় ছাইয়ের মেঘে সূর্য সম্পূর্ণ ঢাকা পড়ে যাওয়ায় সবকিছু ঘন অন্ধকারে ছেয়ে গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, আগ্নেয়গিরির আশেপাশের গ্রামগুলোতে ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়েছে। এয়ারলাইন্সগুলোকে ছাই-এর মেঘের কারণে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। বলা হচ্ছে এই ছাই ৫০ হাজার ফুট পর্যন্ত উপরে উঠে যেতে পারে। গত অর্ধ শতাব্দী ধরে এই আগ্নেয়গিরি থেকে প্রায়ই অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটেছে।

মাউন্ট সেমেরুতে অগ্ন্যুৎপাত।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ আগ্নেয়গিরি জ্বালামুখ থেকে তিন মাইল পর্যন্ত এলাকায় কাউকে ঢুকতে দিচ্ছে না। স্থানীয় একজন কর্মকর্তা তরিকুল হক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন ওই এলাকার সঙ্গে পার্শ্ববর্তী মালাং শহরের সড়ক ও সেতু যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। খুব দ্রুত পরিস্থিতি খারাপ হয়ে গেছে, বলেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনে ভোলক্যানিক অ্যাশ অ্যাডভাইজরি সেন্টার বলছে আগ্নেয়গিরির ছাই ভারত মহাসাগরের উপর দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমের দিকে যাচ্ছে।
এই প্রতিষ্ঠানটি থেকে আগ্নেয়গিরির ছাই-এর সম্ভাব্য বিপদ সম্পর্কে এয়ারলাইন্সগুলোকে সতর্ক করা হয়। সেখানকার একজন কর্মকর্তা জানিয়েছে, বেশির ভাগ বিমান যে উচ্চতায় ওড়ে, সেমেরু আগ্নেয়গিরির ছাই তার চেয়েও উপরে উঠেছে। বিমানের ইঞ্জিনে ছাই ঢুকে গেলে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়াও ছাই-এর কারণে পাইলটরা স্পষ্ট দেখতে পায় না এবং বিমানের ভেতরে বাতাসের মান খারাপ হয়ে যেতে পারে। তখন অক্সিজেন মাস্ক পরা অপরিহার্য হয়ে উঠতে পারে। মাউন্ট সেমেরু একটি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি। এটি থেকে ৪ হাজার ৩০০ মিটার উঁচুতেও ছাই নির্গত হয়েছে। মাউন্ট সেমেরু সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩ হাজার ৬৭৬ মিটার উপরে। এর আগে ডিসেম্বর মাসে এখানে থেকে সবশেষ অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটেছে। সেসময় কয়েক হাজার মানুষকে সেখান থেকে পালিয়ে নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নিতে হয়েছিল। ইন্দোনেশিয়ায় সক্রিয় ১৩০টি আগ্নেয়গিরির মধ্যে এটি একটি। কর্মকর্তারা বলছেন, বৃষ্টির সঙ্গে লাভা ও ধ্বংসাবশেষের মিশ্রনে কাঁদামাটি তৈরি হওয়ায় উদ্ধারকাজ বিঘ্নিত হচ্ছে।